কর্ণাটকের মুশকান খাঁন এবং কাশ্মীরের আরুশা পারভেজ

Tue, Feb 15, 2022 12:04 AM

কর্ণাটকের মুশকান খাঁন এবং কাশ্মীরের আরুশা পারভেজ

শিতাংশু গুহ: কর্ণাটকের মুশকান খাঁন-র পক্ষে মুসলমানদের একাংশ এবং বিজেপি বিরোধী শক্তি মাঠে নেমেছেন, স্কুল ইউনিফর্মের বিরুদ্ধে এদের জোরালো যুক্তি হচ্ছে, ‘পোশাকের স্বাধীনতা থাকতে হবে। একটি মুসলিম সংগঠন তাঁকে পাঁচলক্ষ রুপি পুরুস্কার ঘোষণা করেছে। প্রায় একই সময়ে (৮ই ফেব্রুয়ারি) শ্রীনগর কাশ্মীরের কৃতি ছাত্রী আরুশা পারভেজ দ্বাদশ শ্রেণীর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৫০০-র মধ্যে ৪৯৯ পেয়ে প্রথম হয়েছেন, কিন্তু হিজাব না পড়ায় তাঁকে ‘প্রাণনাশের হুমকি পেতে হচ্ছে। হিজাব আন্দোলনে যাঁরা ‘মাই চয়েস দাবি করছেন, ‘নো হিজাব বা ’খোলামেলা পোশাক কেন তাঁদের কাছে ‘মাই চয়েস হবেনা? যাঁরা মুশকান খাঁনের পক্ষে মাঠে নেমেছেন, তাঁরা ‘মাই চয়েস আন্দোলনে বা নারী স্বাধীনতার জন্যে আরুশা পারভেজের পক্ষে মাঠে নামবেন না কেন? 

ভারতে ইতোপূর্বে কৃষক আন্দোলন হয়েছে। এ সময়ে কর্নাটকে বোরখা বা হিজাব আন্দোলন হচ্ছে এবং তা কিছুটা এদিক-ওদিক ছড়াচ্ছে। ভারতে প্রায়শ: দেখা যায়, মুসলিম সম্প্রদায়ের আন্দোলন ভাত-কাপড়-শিক্ষা বা কর্মসংস্থানের জন্যে নয়, ধর্মীয় প্রথা নিয়েই দেশটি বারবার উত্তপ্ত হচ্ছে? বোরখা বা হিজাব আন্দোলনে উৎসাহ জোগানো ‘মুশকান খাঁন ইতিমধ্যে বিখ্যাত হয়েছেন, তাঁর খোলামেলা অসংখ্য ছবি মিডিয়ায় এসেছে। বলা হচ্ছে তিনি জামায়াতে হিন্দ-র সদস্য, এবং কাদিয়ানী। পাকিস্তানে কাদিয়ানীরা ‘অ-মুসলমান, বাংলাদেশে কাদিয়ানীদের অ-মুসলমান ঘোষণার দাবি আছে। পাকিস্তানের নোবেল বিজয়ী আবদুস সালাম কাদিয়ানী হওয়ায় বড়ই অবহেলিত-বিড়ম্বিত জীবন-যাপন করেছেন। সেদিক থেকে দেখলে বাংলাদেশ বা ভারতে বোরখা আন্দোলন খুব জমবে বলে মনে হয়-না?

 

 

কেরলের রাজ্যপাল আরিফ মোহাম্মদ খান, ইসলাম ধর্ম নিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা উদার। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবুল কালাম সবার নমস্য। এদের কথা শুনলে বা মানলে ধর্ম নিয়ে ‘সভ্যতার সংঘাত অনেকটা কমে যেতো। নেতাজী সুভাষ বসু-র বিরুদ্ধে কোন মুসলমানকে কথা বলতে শুনিনি। এপিজে আবুল কালাম-কে নিয়ে কোন হিন্দুকে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখিনি। তাহলে একথা কি বলা যায় যে, হিন্দু হও তো সুভাষ বসু হও; মুসলমান হও তো এপিজে আবুল কালাম হও? বড় কথা হচ্ছে, সুভাষ বসু বা এপিজে আবুল কালাম মানুষের মত মানুষ ছিলেন, ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য; হিন্দু-মুসলমান হওয়ার আগে একজন ভালো মানুষ হও, সেটা হলেই কেবলমাত্র একজন ভাল হিন্দু বা ভালো মুসলমান হওয়া সম্ভব?

 

ভারত-পাকিস্তান নিয়ে উপমহাদেশে তর্কের শেষ নেই? স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন মওলানা আবুল কালাম আজাদ, তিনি সসম্মানে আমৃত্যু মন্ত্রিত্ব করে গেছেন। একই সময়ে পাকিস্তানে আইনমন্ত্রী ছিলেন যোগেন মন্ডল, পূর্ব-বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তিতে তিনি ব্যাপক সহায়তা করেছিলেন। অথচ মন্ত্রী থাকা অবস্থায় তাঁকে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে কলকাতা গিয়ে প্রাণ বাঁচাতে হয়েছে। এ দুটি ঘটনা বিশ্লেষণ করলে ভারত-পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুর  মর্যাদা বা অবস্থান বোঝা সহজ হয় বটে? সেই পূর্ব-বাংলা পরে পূর্ব-পাকিস্তান হয়েছে, আরো পরে তা স্বাধীন বাংলাদেশ হয়েছে, কিন্তু ধর্মীয় সংখ্যালঘুর অবস্থান পরিবর্তন হয়নি, আজো তাঁরা অত্যাচারীর আমানত, নিজদেশে পরবাসী?

 

ভারতে চারজন মুসলমান রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, জাকির হোসেন, ফখরুদ্দিন আলী আহমদ, মোহাম্মদ হিদায়েতুল্ল্যাহ  এবং এপিজে আবুল কালাম। ভারতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিমান বাহিনী প্রধান, এবং অন্য অসংখ্য পদ মুসলমানরা অলংকৃত করেছেন। একদা পশ্চিমবঙ্গের স্পীকার মুসলিম ছিলেন, কলকাতার মেয়র এখন ফিরহাদ হেকিম। বাংলাদেশে সুরেন্দ্র কুমার সিন্হা সামান্য সময় প্রধান বিচারপতি ছিলেন, তিনি দেশছাড়া হয়েছেন। বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য্য প্রধান বিচারপতি হতে পারতেন; মেজর জেনারেল চিত্ত রঞ্জন দত্ত সেনাপ্রধান হতে পারতেন; এ,কে, গাঙ্গুলী বাংলাদেশে ব্যাঙ্কের গভর্নর হতে পারতেন,  অজ্ঞাত কারণে কেউ কিছু হননি! আমাদের তাই উচিত হবে ভারতে মুশকান-আরুশা বিতর্কে হাততালি না দিয়ে নিজের ঘরের দিকে তাঁকানো।

guhasb@gmail.com


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Future Station Ltd.
উপরে যান