সাংস্কৃতিক বিকাশের নেপথ্য কারিগরঃ ঢা.বি সাংস্কৃতিক দল

Thu, Sep 30, 2021 5:08 AM

সাংস্কৃতিক বিকাশের নেপথ্য কারিগরঃ ঢা.বি সাংস্কৃতিক দল

নারায়ণ চন্দ্র শীল : (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল। দেশের রাজনীতিকে উল্টোমুখো করে দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিরোধ হিসেবেই জন্ম নিয়েছিলো সংগঠনটি। না, রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, সংস্কৃতি দিয়ে দেশ এবং রাজনীতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে ধরে রাখার প্রত্যয় নিয়ে এই সংগঠনের যাত্রা। তার পর তো ইতিহাস। স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তো এই সংগঠনটি হয়ে উঠেছিলো অপরিহার্য্য শক্তি।

সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলকে যারা গড়ে তুলেছেন, বিভিন্ন সময়ে এই সংগঠনটির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে ছিলেন, তাদের ভাবনাগুলো, স্মৃতিকথাগুলোকে গ্রন্থিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন সংগঠনের পক্ষে  আহমেদ হোসেন। টরন্টোতে বসবাসরত সাংস্কৃতিক সংগঠক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলের প্রতিষ্ঠালগ্নের উদ্যোগের সাথে ছিলেন, এখনো চেতনায় সেই স্পিরিটকেই ধারন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল নিয়ে বিভিন্নজনের স্মৃতিগাঁথাগুলো গ্রন্থিত হয়ে পাঠকের হাতে যাবার আগে সেগুলো ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করবে নতুনদেশ । আপনাদের মতামতকেও আমরাও সাদরে গ্রহন করবো।– বিভাগীয় সম্পাদক, নতুনদেশ।)

 

এক অনাবিল অনুভূতি আর আনন্দের মাঝে সদস্য হয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলের। সেই ১৯৮০/৮১ সালের কথা। সদস্য যখন হই,তখন ডাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন লিয়াকত আলী লাকী, সবার প্রিয় লাকী ভাই। নেতৃত্বের গুণাবলী বলতে যা বোঝায় তার কোনটিরই ঘাটতি ছিল না লাকী ভাইয়ের মধ্যে। কেমন যেন এক অজানা আকর্ষণে লাকী ভাইয়ের সাথে ফেবিকলের মত লেগে গেলাম। সেই থেকে শুরু। বিভিন্ন হলে, টি এস সি তে, চারুকলা ইনস্টিটিউটে এমনকি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে কাঁধে হারমোনিয়াম নিয়ে " মানুষ হ, মানুষ হ, আবার তোরা মানুষ হ " এসব গান গেয়ে পরিভ্রমণ ছিল আমাদের নিত্য-নৈমিত্তিক কাজ। প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে তা বাস্তবায়ন পর্যন্ত লাকী ভাই যে দক্ষতা ও মুন্সীয়ানা দেখাতেন, তা এক কথায় অসাধারণ।

১৯৮৩ বা "৮৪ সালে  ডাকসু সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় আমি ব্যক্তিগত রানার আপ হই। যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কাউসার আহমেদ চৌধুরী ও নীহার তারিক ( আমার যতদূর মনে পড়ে, ভুল ও হতে পারে) । সে সময় বা তার ও আগে পরিচয় ঘটে সুজিত মোস্তফা, শুভ্র দেব, শাকিলা জাফর, ফেরদৌস আরা, মাকসুদ মিন্টু,  শাহজাহান খন্দকার, শামীমা পারভীন শিমু, লতিকা সরকার লতা, রওশন আরা বেলী, রোকসানা পারভীন বেঞ্জু, শান্তনু সাহা রায়, হুমায়ূম কবির হীরা,জামিউর রহমান লেমন, পাপড়ি গুপ্তা চৌধুরী,  শামীমা চৌধূরী এলিস,সুবর্না চৌধুরী,শ্যামল কর্মকার, শৈবাল চৌধুরী, শ্যামল চৌধুরী, সুকান্তি বিকাশ সান্যাল, কৃষ্ণা আচার্য, কাবেরী আচার্য, অভিজিৎ চৌধুরী, অরিজিৎ চৌধুরী, আবদুস সামাদ সামলু,আহমেদ হোসেন, আবদুর রহিম, জিল্লুর রহমান জন, মুনীর উদ্দীন আহমেদ, গোলাম হিলালী, ইমামুল হক কিসলু, নূর ইসলাম খান অসি, কৃষ্টি হেফাজ, মৃদুলা রশিদ,অশোক কর্মকার,  নাচের সোহেল রহমান,  এ্যানি,  ডালিয়া রহমান, আবৃত্তির নাসিম আহমেদ, লিপি আলমাজী সহ আরো অনেকের সাথে। (স্মৃতিতে নেই বিধায় অনেক নাম বাদ যেতে পারে, তাই ক্ষমাপ্রার্থী) । নিরহঙ্কারী রহিমের হাতের লেখা ছিল খুব সুন্দর। সাংস্কৃতিক দলের সকল ব্যানার পোষ্টার লেখার কাজটা সে নিখুঁতভাবে করতো। জন মূকাভিনয় করতো। মোট কথা গান, নাচ, অভিনয়, আবৃত্তি সহ সকল ক্ষেত্রে কর্মীর কোন অভাব ছিল না। আর সকলেি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত।

 

জগন্নাথ হলে থাকতাম আর গানের টিউশনি করে চলতাম। টি এস সি তে একদিন একটা অনুষ্ঠানের রিহার্সেল চলাকালে আবৃত্তির নাসিম আহমেদ এর সাথে মধুর ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ি। এক পর্যায়ে নাসিম যখন বলল তুই গান করে কি করবি বা এ জাতীয় একটি কথা, তখন আমি উত্তরে বললাম তুই কবিতা আবৃত্তি করিস "কবিতার তো কোন টিউশনি নেই "। এই কথাটি পরে অনেকটা ব্র্যান্ডে পরিনত হয়েছিল।

সিনিয়রদের মধ্যে যাদের সংস্পর্শে এসেছিলাম তাঁদের মধ্যে ছিলেন জয়ন্ত চট্রোপাধ্যায়, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, মহিউজ্জমান চৌধুরী ময়না, কালে ভদ্রে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

 

লাকী ভাইয়ের নেতৃত্বে যে ক"টি সফল অনুষ্ঠান মনে দাগ কেটে আছে তার মধ্যে রয়েছে নৃত্যনাট্য "সোনাই মাধব", নাটক "রয়েল বেঙ্গল টাইগার" এবং টি এস সি তে উপমহাদেশের বিখ্যাত গণসঙ্গীত শিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাস এর একক গান। "থাকিলে ডোবাখানা, হবে কচুরিপানা" এই গানটি প্রথম  শুনি হেমাঙ্গ বিশ্বাসের কন্ঠে।রয়েল বেঙ্গল টাইগার নাটকে লাকী ভাই যে অভিনয় করেছেন তা আজ ও আমার মনে দাগ কেটে আছে, এক কথায় যা ছিল অসাধারণ। এ নাটকটি পরিচালনা করেন বাহার উদ্দীন খেলন। ( বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালেক উকিলের ছেলে)। এছাড়া খুব সম্ভবতঃ ভূপেন হাজারিকার একক অনুষ্ঠান লাকী ভাই করেছেন ( ঠিক মনে নেই)। তবে ভূপেন হাজারিকার সাথে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে দলের সবাই ছবি তুলেছিলাম এটুকু মনে আছে। লাকী ভাই আরো একটি অসামান্য কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছেন তা হল, "ডাকসু আন্তঃ- হল নাট্য প্রতিযোগিতা"। আমাদের জগন্নাথ হল এতে " ইতিহাস কথা কও" নাটকটি মঞ্চায়ন করে দ্বিতীয় স্হান লাভ করে। ঐ নাটকে আমি ডাক্তারের ভূমিকায় অভিনয় করি। নির্দেশনায় ছিলেন বিপ্লব কুমার বালা। এছাড়া লাকী ভাই আরো একটি কাজ করেছেন  তা হল প্রথমবার দর্শনীর বিনিময়ে কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান যা হয়েছিল চারুকলা ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে। জয়ন্ত দা আবৃত্তি করেছিলেন। আমাদের সকল অনুষ্ঠানের ছবি তুলতেন পিয়ারু ভাই ( পিয়ারু শেখ ইয়ার আহমেদ), যিনি শখের বশে ছবি তোলার কাজ করলে ও বর্তমানে ফটোগ্রাফি জগতে এক বিপ্লব ঘটিয়েছেন।

 

সে সময় লাকী ভাইয়ের নেতৃত্বে যতোগুলো অনুষ্ঠান করেছি সবগুলো অনুষ্ঠানই অসামান্য সফলতা পেয়েছে। সবই ছিল লাকী ভাইয়ের চিন্তা -চেতনা, পরিশ্রম আর আমাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফসল।  তাই আমি মনে করি  সেটা ছিল এক সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও বিপ্লব যা পরবর্তীতে তেমনটা আর দেখা যায়নি বললে অত্যুক্তি হবেনা। তবে  এসব অনুষ্ঠান সফল হওয়ার পেছনে আরো যে দুজন  মহান ব্যক্তিত্বের নেপথ্য অবদান ছিল তা না বললে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাঁদের একজন আশরাফ- উজ-জামান খান ( বড় জামান) অন্যজন তাঁরই ছোট ভাই টি এস সির তৎকালীন প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আমান-উজ- জামান খান ( জামান স্যার)। জামান স্যার ছিলেন ঢাবিসাদ এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক যিনি ২ বার ডাকসু জি এস ছিলেন। এছাড়াও তিনি ছিলেন একজন ভাষা সৈনিক। (অপ্রাসঙ্গিক হলে ও বলতে ইচ্ছে করছে, বড় জামান সাহেব ১৯৭১ সালে বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণ রেসকোর্স ময়দান থেকে বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করতে না দেয়ায় পাক সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ঐদিন বিকেলে বেতারের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী বেতার কেন্দ্র ত্যাগ করে। পরদিন সামরিক জান্তা নতি স্বীকার করে তাঁদের খুঁজে আনলে ৮ই মার্চ সকালে  বঙ্গবন্ধুর ভাষন বেতারে প্রচারিত হয়)।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলের সদস্য হিসেবে গর্ব করার মত আমার অনেক কিছুই আছে। লাকী ভাইয়ের কাছে শিখেছি কি করে সুশৃঙ্খল নেতৃত্ব দিয়ে সকলের ভালবাসা আদায় করা যায়, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা দিয়ে কিভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। তার প্রমাণ মিলেছ আমার বি সি এস পরীক্ষার ভাইভার সময়ে। পরীক্ষার আগে কর্তৃপক্ষের কাছে এক্সট্রা কারিকুলার কর্মকাণ্ডের ৪০টির বেশী সার্টিফিকেট সাবমিট করেছি। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ডাকসুর রানার আপ এবং জগন্নাথ হল চ্যাম্পিয়নশীপের সার্টিফিকেট। ভাইভা বোর্ডে আমাকে প্রায় ৫০ মিনিটের মত ধরে প্রশ্ন করে কাহিল করে ফেলেছিল। সব প্রশ্নের উত্তর যে নিখুঁতভাবে দিতে পেরেছি তা নয়, কিন্তু মোক্ষম কাজ করেছে গানের সার্টিফিকেট। একজন প্রশ্নকর্তা ঐ দুটো সার্টিফিকেট বের করে আমাকে জিজ্ঞেস করল আসলেই কি গান জানেন, নাকি কোনভাবে সার্টিফিকেট যোগাড় করেছেন?  আমি বললাম জী স্যার আমি গান জানি এবং সার্টিফিকেটগুলো ভুয়া নয়। বোর্ড বলল ঠিক আছে আমরা আপনার গান শুনব। সেই বোর্ডে পর পর দুটি গান গেয়েছি - একটি কীর্তন (যদি  গোকুল চন্দ্র ব্রজে নাএলো" আরেকটি লালনগীতি (চিরদিন পুষলাম এক অচিন পাখী")।  শেষ পর্যন্ত ভাইভাতে পাশ করেছি। হলে এসে আমার বন্ধুদের সাথে এ গল্প করার পর দু'একজন মন্তব্য করেছে "ও তো গান গেয়েই বিসিএস পাশ করেছে "।হায়রে কপাল ৫০ মিনিট ধরে আমাকে যে জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রশ্নে নাস্তানাবুদ করেছে তা রসাতলে গেল। আমার এ সাফল্যের নেপথ্য কারিগর ডাকসু এবং সাংস্কৃতিক দল। হলে হারমোনিয়াম যোগাড় করে নিয়মিত রেওয়াজ করতাম। তখন ছায়ানটে ও ভর্তি হই। বলা বাহুল্য জগন্নাথ হল সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে একটি সিঙ্গেল রুম পাই যা আমার সঙ্গীত চর্চার ক্ষেত্রে ভীষণ সুবিধা হয়। দলের সকলের কাছে আমার আরও একটি পরিচয় ছিল তা হল চুটকি বলে হাসাতাম সকলকে। রাস্তার পাশে বসে ফেরিওয়ালার ঔষধ বিক্রীর চুটকীতো প্রায় প্রতিদিনই শোনাতে হত। যারা ভুলে গেছেন তাদের জন্য শুরুটা বলি - " আসসালামু আলাইকুম, আমার হিন্দু ভাইয়েরা আদাব আর মুসলমান ভাইয়েরা সালাম, যারা ডাইল দি ভাত খাই আইছেন -বিশেষ করি খেসারীর ডাইল দি তারা একটু সরি বরি দাড়ান, কারণ খেসারির ডাইলের স্বভাব খারাপ "। এটি পরে আমার থেকে অনেকে কিছু কিছু শিখে আমাকে দেখলেই বলত সরি বরি দাড়ান। আহা কোথায় সেই দিনগুলো। মনে হয় ফিরে যাই সে সব দিনগুলোতে।

 

বি সি এস পাশ করে ১৯৮৬ সালে পেশাগত কাজে চট্টগ্রাম চলে আসি। কিন্তু ঢাবিসাদ এর কথা ও স্মৃতি ভুলতে পারিনি। নিয়মিত যোগাযোগ রাখতাম লাকী ভাই সহ অনেকের সাথে। তখন জানতে পারলাম আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হাল ধরেছে। ১৯৯৪ সালে বদলী হয়ে আবার ঢাকায় এসে সবার সাথে দেখা না হলে ও আস্তে আস্তে যোগাযোগ হয়ে যায়।

 

যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তা কিন্তু থেমে থাকেনি। প্রায় ৩৫/৪০ বৎসর পর অসি, লতা, পাপড়ি, হীরা সহ কয়েকজন যেভাবে ২/৩ বার পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সফল আয়োজন করতে পেরেছে, তাতে নিজেকে যেন আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ছাত্র মনে হয়েছিল। "আমরা সুন্দরের অতন্দ্র প্রহরী"  গানটি তো এখন আমাদের পাথেয়। কথা ছিল আমাদের পথচলা ক্ষান্ত হবেনা কিন্তু ভয়ঙ্কর মহামারী করোনা আমাদের আপাততঃ দমিয়ে রেখেছে। প্রায় দেড় বছর পূর্বে শিল্পকলা একাডেমীতে শেষ মহামিলন ঘটেছিল আমাদের - এখনো সেই সময়ের জন্য নিরন্তর অপেক্ষার প্রহর গুনে চলেছি। আশা করি অচিরেই সে আশা পূর্ণতা পাবে।

 

লেখক: নারায়ণ চন্দ্র শীল, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল, সাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বেতার।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Future Station Ltd.
উপরে যান