চিঠি

Thu, Sep 30, 2021 5:01 AM

চিঠি

কামাল উদ্দিন

রিনা,

"ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো"। সত্যি আজ তোমাকে তোমার আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখছি। তেত্রিশ বৎসর পর কাঞ্চনের সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে। দুলালকেও পেয়েছি। নন্দ আজ কি হয়ে গেলো মন্দ? ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ফোন কোনোটাতেই নন্দ ধরা দিচ্ছে না। নন্দ কি মৃগনাভি বয়ে বেড়ায়, হয়ে গেলো সোনার হরিণ!

 

কাঞ্চনের কাছ থেকেই শুনলাম - তুমি ও বেবী আজ আকাশের ঠিকানায়! কেমন করে হঠাৎ চলে গেলে ঐ ঠিকানায়! আমার স্কুল, কলেজের কয়েকজন বন্ধুও হঠাৎ ঠাঁই নিয়েছে তোমার ঠিকানায়। তোমার সাথে কি বেবীর দেখা হয়? ডক্টর আবু হেনা মোস্তফা কামাল স্যার, ডক্টর আহমদ শরীফ স্যার, ডক্টর কাজী দীন মুহম্মদ স্যারও তো আকাশের ঠিকানায়। তোমার সাথে কি স্যারদের দেখা হয়? আহমদ শরীফ স্যার কি বিকালে হাঁটতে গিয়ে আলোচনা পর্বে লেকচার দেন। "সেই চম্পা নদীর তীরে দেখা হবে আবার, যদি ফাগুন আসে গো ফিরে"। - ডক্টর আবু হেনা মোস্তফা কামাল স্যার কি আসেন চম্পা নদীর তীর থেকে?

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের একটি ফেসবুক পেজ হয়েছে। কাঞ্চন আমাকে পেজটিতে এড করেছে। আবু হেনা স্যারকে নিয়ে আমি একটি স্মৃতিচারণ লিখে পোস্ট করেছি। আবু হেনা স্যারের ছেলে সুজিত মোস্তফা আমার ম্যাসেঞ্জারে টেক্সট করে লিখেছে -

 

"শুভ সকাল। আপনার অসাধারণ স্মৃতিচারণটির জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। একটা বড় স্মরণিকা বের করবার উদ্যোগ নিয়েছি। আপনার সহযোগিতা আনন্দিত করবে। আমি তার বড় ছেলে"।

 

এরপর সুজিত মোস্তফা'র সাথে ফোনে প্রায় ত্রিশ মিনিট কথা হয়েছে। তিনি বললেন - আপনার স্মৃতিচারণে লিখেছেন, বাবা "অসাধারণ  স্মৃতিশক্তির অধিকারী"। এই কথাটি আজো কেউ বলে না। আমি কেনো তাঁর মতো স্মৃতিশক্তি পাই নাই। আমি তো মানুষের নাম মনে রাখতে পারি না। বলেছি - স্যারের এই ক্ষমতাটি নিশ্চয়ই জেনেটিক। তিনি উপলব্ধি করার পর এই শক্তি ধরে রেখেছেন এবং জীবনের প্রয়োজনে ব্যবহার করেছেন। এই শক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে আপনার সকল ভাই-বোন ও তাঁদের সকল সন্তানদের মধ্যে আছে।

 

তুমি আকাশের ঠিকানায় একটি ফেসবুক প্রোফাইল করতে পারো। তাহলে বেবীসহ  স্যারদের এড করে নিবে। আমাকে না হয় অগ্রিম ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ো। তাহলে আমি আসার সাথে সাথেই তোমার পেজে এড হতে পারবো। আবার হারিয়ে যাবার ভয় থাকবে না। দেখো আবু হেনা স্যারের কাছ থেকে গান লেখা শেখা যায় কি-না। এ বিষয়ে আমার একটু সুপ্ত ইচ্ছা আছে। স্যারকে পেলে বলবো এবার। আমিও লিখবো - এবার আসিবো ফিরে অটামের রঙিন ঝরাপাতার দেশ থেকে।

 

তোমার সাথে দেখা হলে তোমার অনেক পোর্ট্রেট ছবি তুলবো। আমার ছেলে আমার একটি পোর্ট্রেট ছবি তুলেছে। আমার প্রোফাইলে আমার ছেলের ছবি ছিল। আমার ফেসবুক প্রোফাইলের জন্ম লগ্ন থেকেই। ছেলের তোলা ছবিটি আমার প্রোফাইলে দিয়েছি। মঈন ও আমার ভায়রা ভাই বললো - প্রোফাইলে আমার ছবি দেয়া উচিত। দু'জনের অনুরোধে প্রোফাইল পিকচারে পরিবর্তন।  পরিবর্তন হয়েছে বিপর্যস্ত এই পৃথিবীতে গত দেড় বৎসরের করোনাকালে কাছের মানুষদের দূরে চলে যাওয়া।

 

ছবি তোলায় অনীহা থাকলেও ছেলে বেশ শিস বাজায় তাঁর আপন মনে। ওকে নিয়ে একটি কবিতা লিখেছি।  বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা স্বরূপ কবিতাটি তোমাকে পাঠালাম। 

 

কবিতা

 

শিস

 

তোমাকে কবে শেষ চিঠি লিখেছি 

মনে নেই

তোমার কি মনে আছে

তুমি কি লিখেছো কখনো আমাকে

ডিভাইসে বাংলা অক্ষর টাইপ করায়

লেখা আর হয়ে ওঠে না এখন আমার

কাগজে নিজের লেখা চিনতে নিজেরই

কষ্ট হয় ভীষণ

প্রায় দেড় যুগ আগে শূন্যে ছুঁড়ে দেয়া

সেই শিশুটি এখন

আমার কিশোর বালক শিস বাজায়

হরেক রকমের শীস

কখনো, কখনো

পড়ার টেবিলে, দীর্ঘ শাওয়ারে 

এমনকি কিচেনে বাসন ধোয়ার সময়

ইচ্ছে হয় জিজ্ঞেস করি

তুৃমি কি ঘুমের ঘোরে শিস দাও

কিংবা স্বপ্নে কোনো পরী দেখে

তোমাকে কি পাঠাবো নীল ইনভেলাপে 

আমার ছেলের বাজানো 

নানান ররকমের শিস।

 

১লা জুলাই ২০২১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ১০০ বৎসর উদযাপিত হয়েছে। শুভ শতবর্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়!  তুমি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় -

 

বন্ধু দিবসে তোমার জন্য শুভেচ্ছা অপরিমিত, অপরিসীম।

 

কামাল 

টরেন্টো থেকে

আগষ্ট ১, ২০২১


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Future Station Ltd.
উপরে যান