সংগ্রামে নন্দনে আমরা

Fri, Sep 24, 2021 1:29 AM

সংগ্রামে নন্দনে আমরা

গোলাম শফিক: (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল। দেশের রাজনীতিকে উল্টোমুখো করে দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিরোধ হিসেবেই জন্ম নিয়েছিলো সংগঠনটি। না, রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, সংস্কৃতি দিয়ে দেশ এবং রাজনীতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে ধরে রাখার প্রত্যয় নিয়ে এই সংগঠনের যাত্রা। তার পর তো ইতিহাস। স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তো এই সংগঠনটি হয়ে উঠেছিলো অপরিহার্য্য শক্তি।

সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলকে যারা গড়ে তুলেছেন, বিভিন্ন সময়ে এই সংগঠনটির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে ছিলেন, তাদের ভাবনাগুলো, স্মৃতিকথাগুলোকে গ্রন্থিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন সংগঠনের পক্ষে  আহমেদ হোসেন। টরন্টোতে বসবাসরত সাংস্কৃতিক সংগঠক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলের প্রতিষ্ঠালগ্নের উদ্যোগের সাথে ছিলেন, এখনো চেতনায় সেই স্পিরিটকেই ধারন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল নিয়ে বিভিন্নজনের স্মৃতিগাঁথাগুলো গ্রন্থিত হয়ে পাঠকের হাতে যাবার আগে সেগুলো ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করবে নতুনদেশ । আপনাদের মতামতকেও আমরাও সাদরে গ্রহন করবো।– বিভাগীয় সম্পাদক, নতুনদেশ।)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই ছিলো অগ্নিগর্ভ। এখানেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ছাত্ররা উত্তোলন করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের পাতাকা। সকল আন্দোলনের সূতিকাগার এ বিশ্ববিদ্যালয়। মধুর ক্যান্টিন ছিল আমাদের প্রিয় জায়গা, যদিও সাংস্কৃতিক কর্মীরা সেখানে খুব ঘনঘন যাতায়াত করতাম না, আমাদের আড্ডাখানা ছিলো ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রÑ লিয়াকত আলী লাকীর দপ্তর। ভর্তি হওয়ার পর ১৯৭৯, ১৯৮০ এবং ১৯৮১ সাল আমাদের নিরুপদ্রবেই কাটছিলো। কিন্তু ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কর্তৃক সামরিক আইন জারি হলে আমাদের শান্তি বিঘিœত হওয়া শুরু হয়। সে রাতে সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হল ঘিরে ফেলে। কিন্তু পরিবেশ-পরিস্থিতি যথেষ্ট শান্ত ছিলো, তারা খুব স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের কক্ষগুলো তল্লাশী করছিলো। এজন্যই আমার কক্ষ তল্লাশী হওয়ার পর অন্যান্য কক্ষে কী করছে তা আন্দাজ করার জন্য বাইরে আসার সাহস পেয়েছিলাম। তারপর প্রত্যাশিত বা অপ্রত্যাশিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলো। এর পর থেকেই আমারা ল্যাটিন উদ্ভুত ‘ঈষড়ংবফ ঝরহব উরব শব্দগুচ্ছের সাথে পরিচিত হয়ে উঠতে লাগলাম। সামরিক আইন জারির পর প্রায়ই পুলিশ এসে হলগুলো রেইড দিতো। তখন অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়াকে আমরা বলতাম ‘এরশাদ ভ্যাকেশন। 

 

তবে এখানেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার প্রবণতায় ভাটা পড়েনি। সেই ফেব্রুয়ারিতে আবার ছাত্র নিহত হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিসুভিয়াসের মতো ফুঁসে ওঠে। সামরিক শাসকের কোনো উদ্যোগের প্রতিই আমাদের সমর্থন ছিলো না। মজিদ খানের গণবিরোধী শিক্ষানীতিকে ছাত্ররা সরাসরি প্রত্যাখান করে। এ দিন শিক্ষাভবন ঘেরাও করে স্মারকলিপি দেয়ার জন্য ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে হাজার হাজার ছাত্র এসে জমায়েত হলো। মিছিল এগিয়ে চললো শিক্ষাভবন অভিমুখে। ইতিমধ্যেই চাউর হয়ে গিয়েছে যেÑ জাফর, জয়নাল, দিপালী ও অন্যান্য নাম না জানা ছাত্র পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে।

 

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে ফেব্রুয়ারি মাস এলেই পুরো বিশ্ববিদ্যালয় অশান্ত হয়ে উঠতো। এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনে অতিষ্ট হয়ে ১৯৮৪ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি আমরা দস্তুরমতো জ্বলে উঠি। মারমুখী হয়ে সাংস্কৃতিক কর্মীরা এক মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে স্বৈরাচার হটানোর শপথ গ্রহণ করি। আমাদের ম্লোগান ছিলÑ প্রতিরোধ করো প্রতিক্রিয়া, রুখতে হবে স্বৈরাচার। মাইকে তখন অবিরাম গান বাজছিলো:

আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে মাগো

তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি

তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি।

কিছুদিন আগেই আমি ভাষাসংগ্রামী গাজিউল হকের একটি সাক্ষাৎকার পড়েছিলাম বিচিত্রা পত্রিকায়। তিনি বলেছিলেন, এতো বছর পর আবার আমার আন্দোলন করতে ইচ্ছে করে। সেই গাজিউল হককে ঠিকই ভাগ্যক্রমে পেয়ে গেলাম এ মিছিলে। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীও ছিলেন মিছিলটির অগ্রভাগে। তাঁর চোখেমুখেও নিরবে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ঝরে পড়তে দেখেছিলাম।

 

১৯৮৪ সালে জেনারেল এরশাদ উপজেলা নির্বাচন ঘোষণা করলে তার প্রতিবাদস্বরূপ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মিছিল বের করে। মিছিলটি ফুলবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছানোর পর বর্তমান ফায়ার ব্রিগেডের অফিসের পাশ থেকে এসে পুলিশ মিছিলের উপর ট্রাক তুলে দেয়। তাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ছাত্রনেতা ইব্রাহিম সেলিম ও কাজী দেলোয়ার হোসেন। সেদিন ছিলে ৮৪র ২৮ ফেব্রুয়ারি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার আগুন জ্বলে ওঠে। ছাত্রছাত্রীরা শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়:

সেলিম, দেলোয়ার, তিতাস

আন্দোলনের লাল পলাশ!

পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শান্তিপূর্ণ মিছিল বের হয় যার নেতৃত্বে ছিলেন স্বয়ং উপাচার্য অধ্যাপক শামসুল হক। এদিন আমরা দুটি লাইন ধরে কলা ভবন থেকে বর্তমান রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত একটি চক্কর দিই। সাংস্কৃতিক কর্মীরা এতে ব্যাপকভাবে যোগ দেয়। রাস্তায় পড়ে থাকা ঝরা পাতা ও ঋতুর আবর্তিত শীতের মৃদুমন্দ বাতাসের কারণে ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে। এ জাতির দুর্ভাগ্য যে, উপাচার্যকেও রাজপথে নেমে আসতে হয়েছিল।

 

আমরা দেখতে পেলাম ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হওয়ার একটি ঐতিহ্য গড়ে উঠলো। ১৯৮৫ সালের আগস্ট মাসে ওহঃবৎ চৎবংং ঝবৎারপব ঘবংি অমবহপু এক প্রতিবেদনে জানায় ১৯৮৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিলো সর্বমোট ১০৫ দিন, আর ’৮৪ সালে ৪৪ দিন। তাছাড়া ১৯৮৩-৮৪ সালে প্রথমবর্ষের ১৬,০০০ ছাত্র শিক্ষা কর্মসূচী অনুযায়ী কোনো ক্লাস করতে পারেনি। তাই আমরা জীবন থেকে হারালাম মূল্যবান দুইটি বছর। ’৮২ সালে আর বের হওয়া গেলো না। আমরা চূড়ান্তভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করতে সক্ষম হয়েছিলাম ১৯৮৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে।

 

দীর্ঘ বিরতির পর আমাদের সময়ে আবার ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, ১৯৭৯ সালে। সে সময় ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন জনপ্রিয় ছাত্রনেতা মাহমুদুর রহমান মান্না ও জিএস মো. আখতারুজ্জামান। এরপর ১৯৮০ এবং ’৮১ সালেও দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা যথাযথভাবে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ পায়। প্রতিবছর ডাকসু ও হল সংসদের তত্ত্বাবধানে হলে হলে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সপ্তাহ, ডাকসু সাংস্কৃতিক সপ্তাহ/উৎসব এবং আন্তঃহল নাট্য সপ্তাহ অনুষ্ঠিত হতে লাগলো।

 

আমাদের কালে ডাকসুর সামাজিক আপ্যায়ন সম্পাদক লিয়াকত আলী লাকী ছিলেন শক্তিমান সাংস্কৃতিক উদ্যোক্তা। তিনি প্রতিযোগিতাভিত্তিক নাটকের পা-ুলিপি আহ্বান করলেন। ১৯৮৩ সালের এ প্রতিযোগিতায় আমার ‘অসম্ভবের পুতুল নাচ নাটকটি প্রথম হওয়ায় এক অনুষ্ঠানে আমাকে ম্যাডেল পরিয়ে দিয়েছিলেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শামসুল হক।

 

লিয়াকত আলী লাকীর বড়ো অবদান সাংস্কৃতিক দল থেকে নিয়মিত নাটক মঞ্চয়ন করে সাড়া জাগানো। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলের (ডাকসু পরিচালিত) আলোড়ন সৃষ্টিকারী পথনাটক ছিলো ম্যাক্সিম গোর্কি রচিত, রতœাংশু বর্গী অনূদিত ও রূপান্তরিত ‘অবিরাম পাউরুটি ভক্ষণ। এ নাটকে শোষণের রূপকে এক ভিন্ন আঙ্গিকে প্রদর্শন করা হয়েছিলো। এটিতে পথ-প্রান্তরে দোর্দ- প্রতাপে অভিনয় করি। লিয়াকত আলী লাকীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও এনএসডি (ঘধঃরড়হধষ ঝপযড়ড়ষ ড়ভ উৎধসধ, উবষযর) ফেরৎ বাহারউদ্দিন খেলনের সুযোগ্য নির্দেশনায় এ নাটকটি পথনাটকের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে আছে।

 

রোকেয়া হল ও শামসুন্নাহার হলের মধ্যে দ্বিতীয়টিতে তেমন যাতায়াত ছিলো না। একবারই গিয়েছিলাম, তাদের অন্দর মহল পর্যন্ত। ‘অবিরাম পাউরুটি ভক্ষণ নাটক করতে গিয়ে হলের অভ্যন্তরেও বিচরণ করার সুযোগ পেয়েছিলাম এক সন্ধ্যায়। নাটক শেষে মেয়েরা এতোই আপ্লুত হয়ে গেলো যে, তারা আমাদের আপ্যায়ন করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লো। একজন আবাসিক ছাত্রী প্লেটে নাস্তা নিয়ে দীর্ঘ সময় আমার ঘাড়ের উপর দাঁড়িয়েছিলো। আমি হাতমুখ মুছে তার হাত থেকে নাস্তা নেয়ার পর তার সেই কী পরিতৃপ্তির হাসি! এ ছাড়াও নাটকটি আমরা মঞ্চায়ন করি সূর্যসেন হল, চারুকলা ইন্সটিটিউট, সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জাতীয় শহীদ মিনার, টিএসসির চত্বর ও অভ্যন্তর, সড়কদ্বীপ, স্বোপার্জিত স্বাধীনতাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে। পথেঘাটের বহু প্রদর্শনী তো ছিলোই। অবশেষে একটি অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বিটিভিতেও করেছিলাম। কিন্তু পরপরই আবার ছাত্র নিহত হলে ১৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ১৯৮৩র নির্ধারিত দিনে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার হলো না। আবার আমরা গ্রামে চলে যাই। এর মধ্যেই কয়েকবার সম্প্রচারিত হলেও অবলোকনের আর সৌভাগ্য হয়নি।

জীবিকার আহ্বানে সাড়া দিলে আমার স্থলে অভিনয় চালিয়ে যান আহমেদ হোসেন। অদ্ভুত মেকআপ-যুক্ত চরিত্রটির নাম ছিল, যদ্দূর মনে পড়ে, ‘শ্যামল। ভাঁড়ের মতো মনে হলেও যতো সব সিরিয়াস কথা এটির এবং পার্শ্ব-চরিত্রের মুখ দিয়ে বের হয়। মাঝখানে গোবেচারা গোকুল টানাহেঁচড়ায় ও ধস্তাধস্তিতে চিড়েচ্যাপ্টা হতে থাকে। এ চরিত্রে সফল অভিনয় করেছিল বিরূপাক্ষ পাল। আমার পার্শ্ব-চরিত্রের মরিরকে খুবই মনে পড়ে। যেদিন দুই শো থাকতো সেদিন প্রথম শোর বিরতিতে মোহসিন হলে আমার কক্ষটিতে এসে সময় কাটিয়ে যেতো। তখন কতোই না কথা হতো সুখ-দুঃখ ও শিল্পের পথ চলার। মনির আমার চেয়ে অভিনয়ে অনেক সিরিয়াস ছিল। কিছুদিন পরই শেক্সপিয়রের ‘এ মিড সামার নাইট্স ড্রিম নাটকে ওর অভিনয় দেখে আমি বিস্ময়ে বিমূঢ় হই। প্রথম কোনো প্রফেশনাল ড্রামার সকালের শো দেখি, মহিলা সমিতিতে, লোক নাট্যদলের প্রযোজনায়। 

মনিরুল ইসলাম এখন মার্কিন প্রবাসী, আর দেখা হয়নি আমি ঐ মুল্লুক ঘুরে এলেও, এই মুল্লুকে সে ঘুরে গেলেও। বিদায়ের আগে আমাকে অটোগ্রাফ দিয়েছিল। অতি যত্নে সংরক্ষণ করি যে বাণী তাতে লেখা, “জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত যাকে আমার মনে রাখতেই হবে, সে হলো আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেতা আমাদের বন্ধু, আমাদের শফিক, আমার গোলাম!” এ সায়াহ্ন-সময়ে আমিও বলছি, মনির তুইও আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেতা হিসেবেই আজ অব্দি মনোজগতে বিরাজিত। অন্য কারো দ্বারা এ স্থানটি দখল করার মতো সময় এখন আমার হাতে আর নেই।

 

ড. গোলাম শফিক, এনডিসি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলের সদস্য, লেখক-কবি-নাট্যকার, সাবেক অতিরিক্ত সচিব।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Future Station Ltd.
উপরে যান