বিশ্ববাসী ফিলিস্তিনি হত্যা ও আবাসন দখল দেখে ক্লান্ত

Wed, May 19, 2021 8:14 AM

বিশ্ববাসী ফিলিস্তিনি হত্যা ও আবাসন দখল দেখে ক্লান্ত

রোমেনা হক রুমা: বিশ্ববাসীর চোখের সামনে যুগ যুগ ধরে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা হচ্ছে অথচ কেউ কোনো কথা বলছে না। তাদের আবাসন থেকে জোড় করে উচ্ছেদ করে ইসরাইল নিজের দখলে নিচ্ছে। এই একবিংশ শতাব্দীতেও জোড় যার মুল্লুক তার’’ মতবাদে ইসরাইলের মত ক্ষুদ্র একটি দেশ বিশ্বের সবার নাকের ডগায় বসে স্বেচ্ছাচারিতা করছে। কিভাবে ও কেন?

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় যেই আসুক ইসরাইলের সংগে পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন হবেনা।তেমনি নির্যাতিত জনগোষ্ঠীকে নয় বরং ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বর্বরতার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানায় বাইদেন।ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরাইলের পাশবিক হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আমেরিকার বিরোধিতার কারণে অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। চীনের বার্তাসংস্থা সিনহুয়াকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াংই বলেন, ‘’ ওই অঞ্চলে যে সংকট চলছে, দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদ অনেক আগেই সমাধান করতে পারত।দুঃখজনক হলেও সত্য, তা এখনও করা যায়নি। প্রধান কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরাইলি পাশবিকতার প্রতি আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা-গাজা উপত্যকার বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরাইলের পাশবিক গণহত্যা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও তেল আবিবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকা ও অস্র ক্রয়ের জন্য অনুদান দিয়েছে।

সাম্প্রতিক কালে প্যালেস্টাইনের গাজায় কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেল আল-জাজিরার কার্যালয় ভবনে শক্তিশালী বোমা মেরে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। সেটি আবাসিক ভবন হিসেবেও ব্যবহার করা হত। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বা এপি'র কার্যালয়ও ছিল। ভিডিও ফুটেজে ইসরাইলি জঙ্গিবিমান থেকে উচ্চ ধ্বংস ক্ষমতা সম্পন্ন বোমা ফেলে নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারের মত ভবনটি মাটিতে ভেঙে পড়তে দেখা যায়। আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ ও কুদস শহর থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের জন্য ফিলিস্তিনিদের বেঁধে দেয়া সময় শেষ হওয়ার পর, গত সোমবার থেকে ইসরাইলের সঙ্গে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি সেনাদের বোমা বর্ষণে প্রচুর মানুষ নিহত- আহত হয়েছে।জেরুসালেমে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলি পুলিশের সাথে ফিলিস্তিনিদের সংঘাত চলছিল। হামাস বলছে ফিলিস্তিনিদের বলপূর্বক তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপনের প্রতিবাদে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে। হামাসও আরব-ইসরাইল শহর তাইবে এবং পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ, গান তুলকারেম শহরে রকেট হামলা চালায়। তাদের অধিকার আদায় ও জনগন নিহতও আহত হওয়ার পর হামাস এই রকেট হামলা চালায়

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দুজনকেই ফোন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।তিনি ইসরায়েলের তাণ্ডব চালানোকে ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বাইডেন ইসরায়েলে রকেট হামলা বন্ধ করতে ফিলিস্তিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বাড়িঘর থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচারে বিমান হামলায় নারী, শিশুসহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়েও কোনও কথা বলেননি।

ট্রাম্প, বুশ, ওবামা শুধু আলাদা নাম কিন্তু ইসরাইলের ক্ষেত্রে কার্যক্রম ও পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে আলাদা নয়, একাত্ম। আমেরিকা ইসরাইলের নিরাপত্তার কাজে অর্থায়নে নিয়োজিত। প্যালেস্টাইনকে শুধু ইসরাইলের সাথে নয়, পক্ষান্তরে অ্যামেরিকার সাথেই লড়তে হচ্ছে, সাথে ব্রিটেন ফ্রান্স ইউরোপ, যুক্তরাজ্যও। মুসলিম দেশগুলোকে কোন সামান্য কোন ঘটনা ঘটালেই মানবাধিকার লংঘনের প্রশ্ন আসে বিপুরীতে ইসরাইল সরাসরি হত্যা করলেও সেখানে সেটি নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য হয়েছে বলা হয়। কিছু কিছু মুসলিম ধর্মের প্রশ্নে অন্ধ, ধর্মান্ধ। যা কিনা কোন মডারেট মুসলিমের কাম্য নয়। এই ধর্মান্ধতার অজুহাতেই পৃথিবীর অনেক দেশের প্রতিপক্ষ হয়ে দাড়িয়েছে যেন মুসলমানগন। উন্নয়নের ছোঁয়া লাগা কোন মুসলিম দেশকেই রেহাই দেয়া হয়নি। আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া,পাকিস্থান, লিবিয়া ধ্বংস হবার পথে। মিশর, ইরান, সৌদি,তুরস্ক, নিজেদের রক্ষা করার প্রস্তুতিতে নানান কৌশল অবলম্বন করছে। জেরুজালেম ও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলার পর বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম দেশের সংগঠন ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) জরুরি অনলাইন বৈঠকে করে। গাজা উপত্যকায় বিপজ্জনক উত্তেজনা ও সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ, ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়। ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যকার সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বে ইসরায়েলের প্রতি পক্ষপাতিত্বের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা জানিয়েছে চীন। ট্রাম্পকে নিয়ে সবার যুদ্ধে জড়ানোর আশঙ্কা ছিল কিন্তু নাহ তার জামাতা ইহুদী হলেও নিজে ব্যাবসায়ী হবার কারণে যুদ্ধে জড়ায়নি। বাইদেনের হাত রক্তে রাঙানো হল। বার্নিকে না দিয়ে বাইদেন কে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর নমিনেশন দেয়া হয়েছিল এ কারণেই।

ধর্মীয় কারনেই শুধু আমেরিকা নয়, জার্মানি, বৃটন, ফ্রান্স, ইতালি, এমনকি রাশিয়া, ভারতও ইসরাইলকে সমর্থন করে। ভারত কুটনৈতিক ও ইসলামী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সবসময় ইজরায়েলকে সমর্থন করে আসছে। ইসরায়েলের বেথেলহেমে যিশুখ্রিস্টের জন্মভূমি। খ্রিস্টান ও জুইশ অর্থাৎ ইহুদীজাতী কখনও ইসরাইলকে হাতছাড়া করতে চায়না। সম্ভবত বাইবিলিক কারনেই খ্রিস্টানরা জেরুজালেমে ইহুদিদের আধিপত্য চায়, ইসরাইল ক্ষমতাবান হোক সেটা চায়। সভ্যজগতে মুখোশ লাগিয়ে তারা ইহুদিদের ব্যবহার করে নিজেদের তীর্থভূমিকে যেন প্রকারান্তরে দখলে রাখছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হবার সুযোগ করে দিয়েছে সহজে যাতে মুসলিম বিশ্বে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রকৃত জূডিজম অনেক মানবিক, ইসলামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দুই ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহবস্থান প্রাচীন সময় থেকেই। বর্তমান আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদ নীতিতে কী প্রতীয়মান হয়? ইসরাইলকে দিয়ে ভিন্ন ধর্মীয় দেশে হামলা। এই কারনেই ইসরাইলকে বিরোধীতা করে এমন কোনো ব্যক্তি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়নি হতেও পারবেনা। কোন সিনেটর পদেও নির্বাচিত হতে পারবে না। আরেকটি মুল কারণ ডোনেশান এবং পার্টির টাকায় তাদের নির্বাচনী ব্যয় মিটাতে হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী ফাণ্ড দাতা প্রতিষ্ঠান হল AIPAC – আমেরিকা ইসরাইল পাবলিক এয়াফেয়ারস কমিটি। অ্যামেরিকার ব্যাবসার প্রানকেন্দ্র, ব্যাঙ্ক, আমদানি রপ্তানী ও অর্থনীতির চালিকা শক্তি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নির্বাচনী ফাণ্ড বা তহবিল সংগ্রহ একটা চ্যালেন্জ আর নিজের টাকায় কেউ প্রেসিডেন্ট হতে পারেন নি। কাজেই দায়বদ্ধতা থেকেই যায়, তারা হাত পা বাঁধা থাকে। নাকে খত দিয়ে প্রেসিডেন্ট হতে হয়। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ইসরায়েল তথা ইহুদী কমিউনিটি বার্নি স্যান্ডার্সকে সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ ধরে বেশ প্রচার চালিয়েছিল। কারণ বার্নি স্যান্ডার্সের পররাষ্ট্রনীতির মূলে ছিল ফিলিস্তিন- ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান। তিনি বলেছিলেনঃ “ দুই রাষ্ট্রই ফিলিস্তিন সংকটের একমাত্র সমাধান ও ১৯৬৭ সালে নির্ধারিত সীমানা অনুযায়ী কার্যকর করতে হবে। জেরুজালেম হবে দুই দেশেরই রাজধানী।‘’ মধ্যস্থতার জন্য প্রয়োজনে উভয় পক্ষকে চাপ প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করবে যদি স্যান্ডার্স যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়। তিনি চার দশক ধরেই উচ্চকণ্ঠ । ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। বর্তমানে বিদ্যমান যুদ্ধপ্রেমী প্রশাসনের উপর তিনি ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধির গুরুত্ব দিতে চেয়েছিলেন। অভিবাসন বিরোধী ও মুসলিমবিদ্বেষী গোষ্ঠী একচেটিয়া তার বিরোধিতা করেছে।

বার্নি স্যান্ডার্স যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রোটিক পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দুই দফা চেষ্টা করেও পরাস্ত হন।পরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হলেও শুরুতে বার্নির অবস্থান বাইডেনের চেয়ে অনেকগুলো স্টেটে আগানো ছিল। বাইডেন-ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বিতাই ছিল তরুণদের আশার প্রতীক। ট্র্যাম্প-বাইদেন যেই জিতুক, তাদের খুব একটা ক্ষতি নেই। তবে স্বার্থান্বেষী মহল মরিয়া হয়ে বার্নি স্যান্ডার্সের নমিনেশন ঠেকিয়েছিল। কারণ বার্নি তাদের যথেষ্ট ভয় ছিল। বার্নি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনীতির লড়াইটাকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু মনোনয়ন না পেলেও, প্রেসিডেন্ট হতে না পারলেও সফলতা যে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের মধ্যে তিনি মানবিকতার বোধকে জাগাতে পেরেছেন। বার্নিও বলেছেনঃ ‘ট্রাম্পকে হটালেই সমস্যার সমাধান হবে না, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তর ঘটাতে না পারলে’।বার্নি স্যান্ডার্স! তিনিই একমাত্র অ্যামেরিকার রাজনীতিক যিনি বিশ্ব নেতা হবার উপযুক্ত এবং নিজেদের সমালোচনা ও সংস্কার চেয়ে বলতে পারেনঃ ‘’সস্তা জ্বালানি তেল, আর অস্ত্র-বাণিজ্যের দোহাই দিয়ে ধর্মীয় উগ্রতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র চুপ থাকতে পারে না। তিনি আরও বলেন দুঃখজনক যে, নিজের সুরক্ষার স্বার্থেই যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক সময় অগণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে কাজ করতে হয়। কিন্তু এটা মনে রাখাও জরুরি যে, নিরাপত্তার জন্য দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকের ওপর নির্ভর করাটা শেষ পর্যন্ত একটি নিষ্ফল জুয়া’’

মুসলমানদেরকে ধর্মান্ধ বলা হয় কিন্তু পশ্চিমা জগতে অলিখিতভাবে ধর্মীয় অনুভূতি কাজ করছে রাজনীতির চেয়ে। বাইবেলের কোন অংশে কোথাও সম্ভবত লেখা আছেঃ এক সময় জেরুজালেম থাকবে ইহুদীদের অধীনে এবং যীশু ঐ জেরুজালেমে আবির্ভূত হবেন। সেখানে যীশু এবং তার সমর্থকদের সাথে ইহুদীসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ব্যাটল অব আর্মাগেড্ডন হবে, যীশু জয়ী হবেন, বেচে যাওয়া ইহুদীরা খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির ও অর্থনীতির নির্ধারক হিসেবে কাজ করে ইজরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েলকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নানান স্বার্থরক্ষা হচ্ছে। আবার অ্যামেরিকার অস্র, অনুদান ও সার্বিক প্রযুক্তি ব্যাবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে টিকে আছে ইজরায়েল। বিশ্বেই যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইজরায়েল কূটনীতিক এবং পলিটিক্যাল এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে।

তবে ইসরাইলের অপরাধ যজ্ঞের প্রতি বাইডেন প্রশাসনের একপেশে সমর্থনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন বেশ কয়েকজন মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা। আশার আলো হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য কোরি বুশ বলএনঃ ‘’ নিরস্ত্র সাধারণ ফিলিস্তিনিকে স্বাধীন করার ও ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসনের মুখে দেশের জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন দিতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্টের অর্থ ইসরাইলি আগ্রাসনের তহবিল হতে পারে না’’ মার্কিন নাগরিকদের ট্যাক্সের অর্থ নির্যাতিত ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের জন্য তহবিল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না। আমরা যুদ্ধ-বিরোধী; আমরা দখলদারিত্বের বিরোধী এবং আমরা বর্ণবাদ বিরোধী’’ কোরি বুশ -নিউ ইয়র্ক পোস্ট। প্রতিনিধি পরিষদে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত অন্যতম ডেমোক্র্যাট সদস্য আয়ান্না প্রেসলি সংসদ অধিবেশনে ইসরাইলের প্রতি আমেরিকার ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সাহায্যের ঘোর বিরোধিতা করেন। তিনি বলেনঃ “এই সামরিক সহায়তা নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যা ও তাদেরকে শরণার্থীতে পরিণত করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।আমরা আমেরিকার অর্থ এভাবে একটি জাতিকে হত্যার কাজে ব্যবহার করতে দেয়া যায়না’’।

ক্বাবা ঘড়ের পর মুসলমানদের দ্বিতীয় পবিত্র স্থান আল আকশা মসজিদ যেখানে এক রাকাত নামাজ পড়লে নাকি পাঁচশ রাকাত নামাযের সওয়াব পাওয়া যায়। সেই মসজিদ থেকেই বোরাকে করে সাত আসমান অতিক্রম করে মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। শবে-মেরাজের রাতে মসজিদুল হারাম তথা থেকে মসজিদুল আকসা {বায়তুল মুকাদ্দাসে} প্রথম সফরও ভ্রমন করিয়েছিলেন।সূরা বনি-ইসরাইলে উল্লেখ্য। জেরুজালেম দুই ধর্মাবলম্বিদেরই পবিত্র স্থান।

পৃথিবীতে ইহুদীদের মোট সংখ্যা দেড় কোটির মত সবাই অত্যান্ত মেধাবী। একটিই ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইল। ইসরাইলে ইহুদীর সংখ্যা ৫৪ লাখ, অবশিষ্ট প্রায় এক কোটি ইহুদী সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে।আমেরিকাতে ৭০ লাখ এরা প্রতিভাবান জনগোষ্ঠী। আমেরিকায় অবস্থানরত ইহুদীদের ৮৫% বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া, নোবেল বিজয়ীদের ৪০%, অনেক জন সিনেটর। তাদের মেধা কল্যাণের কাজেই ব্যবহৃত হোক। ইসরাইলের প্রধান মন্ত্রি নেতানিয়াহুর মত অশুভ ব্যাক্তিত্ব আর কেউ না হোক। আমেরিকায় বড় কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, অফিসে অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পদে জুইশ আমেরিকানরা নিয়োজিত। মিডিয়া জগতে, বিশ্ববিখ্যাত সি এন এন,এইচ বি ও, এ বি সি, ই এস পি এন, ফক্স নেটওয়ার্ক, ২০-থ সেঞ্ছুরী ফক্স, নিউ ইয়র্কের প্রসিদ্ধ ৪/৫টি নিউজ পেপার যেমন নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল ষ্ট্রীট জার্ণাল, ওয়াশিংটন পোষ্ট, মিডিয়া মুগল রুপার্ট মারডকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সারা বিশ্বের অসংখ্য টিভি চ্যানেল, পত্রিকা। বিশ্বের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাত যেমন: আর্থিক খাত, মিডিয়া খাত, এডুকেশন খাত এবং বিজ্ঞান ও চিকিৎসা খাত, উপরের দিক থেকে পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে জুইশ আমেরিকানরা। অবশ্যই তাদের জগ্যতার জোরেই। মূলতঃ বিষয়টি হলো, মার্কিন ইকোনমি কন্ট্রোল করে জুইশ আমেরিকানরা অর্থাৎ ইহুদীরা। মার্কিনীরা কন্ট্রোল করে পৃথিবী। যুক্তিবিদ্যা অনুযায়ী পৃথিবী কন্ট্রোল করছে তারাই। মেধাবী, প্রতিভাবান সবই ঠিক আছে তবে কিছুটা মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন হলেই এমন নির্মমভাবে নিরিহ শিশু মহিলাদের উপর বোমাবর্ষণ বন্ধ হত। সেই শৈশবকাল থেকেই দেখে আসছি, মানুষ ক্লান্ত বিরক্ত। গত কয়েক দশক ধরে বিদ্যমান ইসরাইল ফিলিস্তিনি দ্বন্দ্ব নিরসনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি সবার আহ্বান জানাতে হবে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রটির জন্ম হয়েছিল জাতিসংঘ দুটি দেশের স্বীকৃতি দিলেও সমতার ভিত্তিতে করেনি, কখনই ইকুয়াল হিউম্যান রাইট করেনি। আর সমতা, মানবিকতা না থাকলে কখনই শান্তিও আসবেনা।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ব্যাপক তরুন জনগোষ্ঠী রয়েছে। পরবর্তীকালে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে তারাই হবে কর্ণধার ও প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বৈশ্বিক ও পরিবেশ-সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বিগ্ন। বয়োজ্যেষ্ঠদের রাজনৈতিক চক্রান্ত তাদের কাছে গ্রহণীয় নয়। গতানুগতিক রাজনীতির ওপর এরা আস্থা হারাতে পারে এমন কিছু থেকে বর্তমান নেতৃত্ব সরে আসুক। যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ সমাজের মধ্যে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা কমেছে। বার্নি স্যান্ডার্স এদের উদ্দীপ্ত করতে ও আশা জাগাতে পেরেছিল ব্যাপারটি নির্বাচন কালে দৃশ্যমান হয় । তরুন নেতৃত্ব মানবিকতায় পরিপূর্ণ এবং তারাই সুন্দর বিশ্ব গড়বে হতাশা নয়! তরুণ নতুনদের উপর প্রত্যাশা থাকুক।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Future Station Ltd.
উপরে যান