ধন্যবাদ পাওয়ার কোনো কাজই কি বাংলাদেশের সাংবাদিকতা করেনি!

Mon, May 3, 2021 6:49 PM

ধন্যবাদ পাওয়ার কোনো কাজই কি বাংলাদেশের সাংবাদিকতা করেনি!

শওগাত আরী সাগর: সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি স্টেটমেন্টই ইমেইলে এসেছে। কানাডায় এটি ’মানসিক স্বাস্থ্য সপ্তাহ’- মেন্টাল হেলথ উইক, সে উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন। কোভিড মহামারীর সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমার নজর ছিলো ’ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে ‘ উপলক্ষে কানাডীয়ান প্রধানমন্ত্রী কি বলেন, সেদিকে।

জাস্টিন ট্রুডোর বিবৃতিটা কয়েকবার পড়লাম। বাংলাদেশের গত কয়েকদিন ’সাংবাদিকতা যে কতো নিকৃষ্টতম পেশা’ আর ‘সাংবাদিকরা কতো নিকৃষ্ট’ তার বয়ানের তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। অনেক সংবাদকর্মীও ‘নিজেরা সাংবাদিক হয়েছেন বলে লজ্জায় মুখ ঢেকে ফেলেছেন’- এমন একটা সেন্স দেয়ার চেষ্টা করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।‘ওয়ার্ল্ড প্রেস  ফ্রিডম ডে’ তেও তার ব্যতিক্রম হয়েছে বলে চোখে পরেনি।

ট্রুডোর বিবৃতিটার দিকে মনোযোগ দেই।বিবৃতিটা শুরু হয়েছে এইভাবে“Today, on World Press Freedom Day, we celebrate the invaluable role that journalists play in Canada and around the world, and honour all those who have lost their lives in pursuit of the truth. We also rededicate ourselves to a fairer and more inclusive future where everyone, everywhere, is free to make their voices heard.”কানাডা এবং সারা বিশ্বে প্রতিটি সংবাদকর্মী আলাদা আলাদাভাবে যে ভূমিকা রাখেন সেটিকে উদযাপনের কথা বলছেন কানাডীয়ান প্রধানমন্ত্রী।

ইউনেস্কো এবারের ’ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে ‘র মূল প্রতিপাদ্য ঘোষনা করেছে জনস্বার্থে তথ্য- ‘Information as a Public Good’. সমাজ বিনির্মানের কথা বাদ দেই, গত এক বছরের করোনা মাহামারীতে সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতার কি কোনো ভূমিকা ছিলো? জাস্টিন ট্রুডো অবশ্য তার বিবৃতিতে  কভিডে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকার কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, ’গত প্রায় এক বছর ধরে অসংখ্য সাংবাদিক দিনে রাতে কভিডের তথ্য - উপাত্ত বিশ্লেষণ, পর্যালোচনা করে, ভুল এবং মিথ্যা তথ্যের বিপরতে সঠিক তথ্য তুলে ধরে আমাদের সুস্থ থাকতে, জীবন বাঁচাতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।যেই সময়ে যে কোনো তথ্য বিকৃত করা এবং ভুল তথ্য জনগনের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া খুবই সহজ , সেই সময়ে আমাদের জীবন এবং সমাজকে  সুস্থ রাখতে সাংবাদিকরা যে ভুমিকা রাখছেন তা অনন্য।” তিনি মনে করিয়ে দেন, করোনা মাহামরীকালে সঠিক তথ্য হচ্ছে জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানের ব্যবধান।জাষ্টিন ট্রুডো কানাডা এবং বিশ্বের প্রত্যেক স্থানের সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন  সঠিক তথ্য তুলে ধরায় তাদের ভুমিকার জন্য।

’ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে’ তে জাস্টিন ট্রুডোর বিবৃতিটা পড়তে পড়তে ভাবছিলাম বাংলাদেশের সাংবাদিকতার কি এমন সামান্য অবদান নেই যার জন্যে ’ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে ‘র মতো বৈশ্বিক একটি দিনে তাদের সব সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে হলেও কেউ তাদের  বলবে- তোমাদের এই ভুমিকাটর জন্য জাতি হিসেবে তোমাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তোমাদের ধন্যবাদ দেই।

 ট্রুডোর মতো” They are democracies’ first line of defence, and the cornerstone of any fair, strong, and vibrant society.” বলতে না পারি, একটি আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনে উল্লেখ করার মতো একটি অবদানও কি বাংলাদেশের সাংবাদিকতার নেই! থাকলে সেটি কি আমরা স্বীকার করেছি! স্বীকার করছি!

লেখক: শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ।   


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Future Station Ltd.
উপরে যান