ল্যানসেটের গবেষণার তথ্য নিয়ে তিন বিশেষজ্ঞর বিশ্লেষণ

Sat, Apr 24, 2021 2:27 AM

ল্যানসেটের গবেষণার তথ্য নিয়ে  তিন বিশেষজ্ঞর বিশ্লেষণ

নতুনদেশ ডটকম: আন্তর্জাতিক মেডিকেল জার্নাল ‘ল্যানসেটে’ প্রকাশিত একটি গবেষণার বরাত দিয়ে করোনা ভাইরাস বাতাসে ছড়ায় বলে যে খবর বেরিয়েছে সেটি নিয়ে আতংকিত না হতে পরামর্শ দিয়েছেন কানাডা, আমেরিকার তিনজন বিশেষজ্ঞ।

 উত্তর আমেরিকার এই তিন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, করোনা ভাইরাস বাতাসে ভেসে বেড়ায়না বা বাতাসে  ভর করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গিয়ে মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে না। বদ্ধ ঘরে তিন ঘন্টা পর্যন্ত কোবিড জীবাণু ভেসে থাকতে পারে সেটিকেই বায়ুবাহিত হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

তাঁরা মাস্ক পরাকে  দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য  অনুসঙ্গ করে নেয়ার পরামর্শ দেন।

কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রচারিত ‘শওগাত আলী সাগর লাইভ’ এর আলোচনায়  তারা এই মতামত দেন। স্থানীয় সময় বুধবার রাতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বোষ্টনের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রুহুল আবিদ বায়ুবাহিত টার্মটির ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, কোভিড ভাইরাস যদি পৃথিবীর বাতাসে ভেসে বেড়াতো তা হলে তো আমাদের বাঁচার কোনো পথ থাকতো না।সারাক্ষণই এমনকি ঘুমের মধ্যেও আমাদের মাস্ক পরে থাকতে হতো। তিনি বলেন বায়ুবাহিত বলতে যেটি বোঝানো হচ্ছে তা হলে কোভিডের ভাইরাস বদ্ধ ঘরে তিন ঘন্টা পর্যন্ত ভেসে থাকতে পারে।বড় কণাগুলো দ্রুত মাটিতে পরে যায়, ছোটো কণাগুলো বাতাসে ভাসতে থাকে। এই সময়ে মাস্কবিহীন কেউ ওই বদ্ধ ঘরে  ১৫ মিনিটের বেশি সময় অবস্তান করলে তিনি সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে পরে যান।

স্পর্শছাড়া আর কিভাবে কোভিডের সংক্রমণ ছড়াতে পারে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ধরেন, একটা আবদ্ধ কক্ষে কোভিড পজিটিভ কেউ  হাঁচি দিয়ে গেছে। সে চলে যাওয়ার পর কেউ  ওই রুমে মাস্ক ছাড়া ঢুকলে এবং সেখানে ১৫ মিনিটের বেশি সময় অবস্থান করলে  তার সংক্রমিত হওয়ার আশংকা থাকে। আবার ধরেন,  দুইজন লোক কাছাকাছি বসে কথা বলছে। তাদের একজন  কোভিড পজিটিভ  কিন্ত তার কোনো লক্ষণ নাই।পনেরো মিনিটের বেশি সময়  মাস্ক ছাড়া তারা  কাছাকাছি বসে কথা বললে সংক্রমিত হওয়ার আশংকা  তৈরি হয়। কিন্তু যদি দুজনের বা একজনের অন্তত  মাস্ক থাকলে  সংক্রমণের আশংকা ৯৫ শতাংশ কমে যায়। ড. রুহুল আবিদ বলেন, করোনার বড় সমস্যা হচ্ছে এটি লক্ষণ ছাড়া ছড়ায়।একারনেই এটি এতো ছড়িয়েছে। কোভিডের বিপদ হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কোনো কোনো জায়গায় ৭০ শতাংশ লক্ষণ নাই।

তিনি বলেন, এলিভেটর, বদ্ধ ঘর,রেসস্তোরা বা ছো্ট্ একটি ঘরে অনেকগুলো মাস্ক ছাড়া জন্মদিনের বা অন্য কোনো পার্টি করছে, সেখানে এটি বায়ুবাহিত।কিন্তু  আপনি রাস্তা দিয়ে  হেটে যাচ্ছেন,জগিং করছেন, সেখানে সরাসরি আপনি সংক্রমিত হবেন না। সেখানে  সংক্রমিত আরেকজন মানুষ লাগবে।

তিনি বলেন, রোগীকে মাস্ক পরিয়ে আমরা মাস্ক পরে মাসের পর মাস রোগী দেখেছি। ডাক্তাররা সংক্রমিত হননি। আবার আইসিউসহ অন্যান্য জায়গায় সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। যখন কাউকে ভ্যান্টিলেটর দেয়া হয় বা হাই ফ্লো দেয়া হয়,ওইখানের পুরোটা জায়গায়  করোনা বায়ুবাহিত।

মন্ট্রিয়লের একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত অণুজীববিজ্ঞানী ড. শোয়েব সাঈদ  আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, কোভিড আক্রান্ত ব্যক্তির  হাঁচি থেকে বের হওয়ার পর ভাইরাস  কিছুক্ষণ বাতাসে থাকে। তারপর সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর হয়ে যাবে বা মাটিতে পরে যাবে। যেই সময়টা বাতাসে থাকে সেই সময়ে কেউ সেই বাতাসটা  নিলে  সংক্রমিত হওয়ার আশংকা থাকে। কিন্তু  বাতাসে ভর  করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছড়িয়ে যায় বিষয়টা এরকম না।  তিনি বলেন, এ জন্যেই মাস্ক পরতে বলা হয়। মাস্ক, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার অনুশীলণ করা গেলে করোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন হ্ওয়ার কোনো কারন থাকে না।

টরন্টোর একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত অণুজীববিজ্ঞানী নিবেদিতা বিশ্বাস বলেন,কোভিডের প্রথম দিকেও কিন্তু এই ধরনের একটি গুঞ্জন ছড়িয়েছিলো। মানুষ ভাবতো দরোজা জানালা দিয়ে বাতাসের সাথে কোভিড ভাইরাস  ঘরে ঢুকে সবাইকে সংক্রমিত করবে। এতে বরং ক্ষতি হয়েছে। কেননা, ঘরে বায়ু চলাচল না থাকলে, বদ্ধ ঘরে করোনারবেশি ছড়ায়।


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান