সরকার বলবে নরমাল আপনি ভাববেন এবনরমাল

Mon, Apr 19, 2021 9:54 PM

সরকার বলবে নরমাল আপনি ভাববেন এবনরমাল

মিল্টন রহমান: যুক্তরাজ্যে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগ কাটিয়ে উঠেছে প্রায়। মৃত্যু ও আক্রান্তের হার কমেছে। প্রায় ৩৩ মিলিয়ন মানুষ ভ্যাকসিন নিয়েছে। যা মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। বাকিদের জুলাই মাসের মধ্যে দিয়ে শেষ করা হবে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় লক ডাউন শিথিল করা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সবাই কাজ-কর্ম করছে। সুপার মার্কেটগুলো খুলেছে। সরকার বলছে আগামী ১৭ মে থেকে সব কিছু স্বাভাবিক করে দেয়া হবে। তবে তার আগে ২মে লিভারপুলের সেফটন পার্কে একটি মিউজিক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। তাতে সমাগম ঘটবে কমপক্ষে ৫ হাজার মানুষের। কনসার্টে কোন রকম সামাজিক দূরত্ব, মুখে মাস্ক কিছুই মানতে হবে না। করোনাকালের আগে যেমন ছিলো তেমন একটা পরিস্থিতি থাকবে সেই কনসার্টে। সরকার এটিকে পাইলট প্রজেক্ট হিশেবে হাতে নিয়েছে।

দ্বিতীয় পাইলট প্রজেক্ট হলো এফএ কাপ সেমি ফাইনাল। লেসটার সিটি বনাম সাউদাম্পটনের মধ্যকার খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে লন্ডনের উইম্বলি স্টেডিয়ামে। তাতে লোক সমাগম হবে চার হাজার।   এ দুটো আয়োজনের মধ্য দিয়ে সরকার বুঝতে চায় ভ্যাকসিনের পর কভিড-১৯ এখনো কতটুকু মারমুখি!

প্রশ্ন হলো হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত কেনো? সরকার দেশকে করোনার থাবা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছে এবং করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে হঠাৎ করে দুটি বড় অনুষ্ঠান আয়োজন অনেকটা শংকাও জাগাচ্ছে। এই যে একটি অনুষ্ঠানে ৫ হাজার অন্যটিতে চার হাজার মানুষ কোন রকম করোনাকালীন নিয়ম না মেনে অংশ নেবে তাতে কি কেউই করোনা আক্রান্ত হবে না? মনে রাখতে হবে কোন ভ্যাকসিনতো শতভাগ করোনমুক্তির নিশ্চয়তা দেয় নি। আপনি ভ্যাকসিন নেয়ার পরে এই দুটি অনুষ্ঠানের কোন একটিতে কি অংশ নিতে চান? আমি বলবো উচিত হবে না। এটিতো ভ্যাকসিন তৈরীর জন্য কোন পরীক্ষামূলক প্রকল্প নয়। যদি তাই হতো তাতে অংশ নিতে আমাদের আপত্তি থাকার কথা নয়। অনেক মানুষইতো ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলো। কিন্তু কথা হলো অনুষ্ঠিতব্য দুটি আয়োজনের কোনটিই তেমন কোন ট্রায়াল নয়। সরকার বুঝতে চায় করোনার রূপ এখন কেমন! আমি একজন সাধারণ মানুষ হিশেবে একে স্বাগত জানাই। তবে ভানুর মতো দুইখান কথা আছে। করোনার রূপ বুঝার জন্য এতো বড় অনুষ্ঠানের আয়োজনের কি প্রয়োজন? আরো ছোট পরিসরে করেওতো তা অনুমান করার সুযোগ আছে। দুটি অনুষ্ঠানে প্রায় নয় হাজার মানুষের সমাগম পরিস্থিতিকে কি আবার অস্বাভাবিক করে তুলবে না? দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, সরকার নিজেই বলছে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে যুক্তরাজ্যে আরো পঞ্চাশ হাজার মানুষ মারা যেতে পারে। এই যে দুটি অনুষ্ঠান তা কি তৃতীয় ঢেউ দ্রুত আঘাত হানবে না?

এসব বিবেচনায় আমি মনে করি সরকার যতই বলুক নরমাল আমরা বলবো এবনরমাল। অন্তত আরো এক বছর এমনিটই মনে করি। প্রায় দেড় বছর কাটিয়ে দিলাম নানান বিধি নিষেধে। বাকি এক বছর নিজেরাই বিধি নিষেধ তৈরী করে নিলে কি হয়। সবকিছু স্বাভাবিক হলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মুখে মাস্ক রাখার অভ্যাস নিয়মিত করি। তাতে করে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সাথে সাথে কমিউনিটিকে বিপদমুক্ত করা এবং সেই সাথে স্বাস্থ্য খাতকেও অতিরিক্ত চাপ থেকে মুক্ত রাখা যাবে।

লেখক: মিল্টন রহমান, কবি, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত।

লেখকের ফেসবুক পোষ্ট


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান