নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে বিড়ম্বনা

Thu, May 26, 2022 12:20 AM

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে বিড়ম্বনা

সোহেল মাহমুদ: ভিনদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার চেয়ে নিজদেশের পাসপোর্ট পাওয়া কষ্টসাধ্য"- যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী এক বাংলাদেশীর আক্ষেপ। নিউ ইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের ভেতর অনেকটা চড়াগলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে।

ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু করার পর থেকে জটিলতা বেড়েছে অনেক। ই-মেইল আইডি দিয়ে সাইন ইন করা অনেক প্রবাসী/অভিবাসীর পক্ষে যে সম্ভব নয়, এ সত্য পাসপোর্ট অফিসের একজন পিয়নেরও অজানা নয়। এরপরও, সহজ করা যায় এমন একটা পদ্ধতিকে কেনো প্যাঁচের পর প্যাঁচের বৃত্তে আবদ্ধ করে রাখতে হবে বোধগম্য নয়। বাংলাদেশে পাসপোর্ট নিয়ে দুইনম্বরী হয় না? ৩/৪ লাখ টাকা খরচ করে এমআরপি-ডেটা মুছে ফেলার ঘটনা একটাও নেই? অথচ, পাসপোর্ট ইস্যুতে প্রবাসী/অভিবাসীদের সারাক্ষণ হাইকোর্ট আর সুপ্রিমকোর্টই দেখতে হয়।

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে এসব নিয়ে যখন কথা বলি, তারা জানান যে, ঢাকার সিদ্ধান্তে তাদের কিছু করার থাকে না। বরং, অনেকবার দেখেছি, পদ্ধতিগতভাবে ভালো সেবা দিয়েও কনস্যুলেট স্টাফদের ক্ষুব্ধ লোকজনের দুর্ব্যবহারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এ পরিস্থিতি পাল্টাবে, কোনভাবে মনে হয় না। এই এক পাসপোর্ট পাওয়া নিয়ে মানুষের যতো ক্ষোভ। সরকারের কেউ কি কখনো ক্ষুব্ধ মানুষের কথা শুনতে চান? বরং, কেউ কিছু জানাতে চাইলে তার বলতে চাওয়া আমলে না আনাটাই যেনো সরকারী নীতিমালা।

হারানো পাসপোর্ট নিয়ে জটিলতা আরো কয়েকধাপ আগানো। হারিয়েছে বাংলাদেশী পাসপোর্ট। সেটা পেতে হলে যা করতে হয় প্রবাসী/অভিবাসীদের, রীতিমতো একটা যুদ্ধ। কন্স্যুলেটে দুইটা ফরমে আবেদন করে তিনি জানাবেন যে পাসপোর্ট হারিয়েছেন, এরপর কন্স্যুলেট আপনাকে লিখে দেবে "তিনি বলেছেন তিনি তার পাসপোর্ট হারিয়েছেন।" এই মর্মার্থসম্বলিত দুইতিন লাইনের একটা প্রত্যয়নপত্র কন্স্যুলেট থেকে সংগ্রহ করে নিতে হবে স্থানীয় পুলিশের কাছে। পুলিশ একটা নম্বর দিলে সেটা উল্লেখ করে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে একটা প্রতিবেদন নিতে সময় চাইতে হবে। অনেক দিন ব্যয় করে সেই প্রতিবেদন হাতে পেলে সেটা সংযুক্ত করে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হবে। নাকে দড়ি!

হাতে লেখা পাসপোর্টের যুগে বিদেশে যারা এসেছেন, যেতে পারেন নি দেশে, তারা জন্মসনদ পাবেন কোথায়? অনলাইনে আবেদন করে? তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র আসবে কোত্থেকে? বাংলাদেশ থেকে? অনলাইনে জন্মসনদ আবেদনে যে ফাইল আপলোড করতে বলা হয়, সেটি কীভাবে সম্ভব? কেউ কি করতে পেরেছেন? এমন অনেক জটিলতা। পড়ালেখা জানা লোকদের পর্যন্ত গলদঘর্ম, যারা অনলাইন বোঝেন না, অক্ষরজ্ঞান নাই, তাদের অবস্থা তো ডাঙায় মাছের মতো। এমআরপিতে যদি আমার জন্ম তারিখ থাকে, ঠিকানা থাকে, নামধাম থাকে, তাহলে আবার ই-পাসপোর্ট পেতে আমাকে কেনো বাধ্যতামূলকভাবে জন্মসনদ নম্বর দিতে হবে, কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর?

ভুক্তভোগীরা বলে। সংবেদনশীলরা সংহতি প্রকাশ করেন। অথচ, "তারা" কেউ শোনেন বলেও মনে হয় না।

লেখক: সোহেল মাহমুদ, সাংবাদিক। নিউইয়র্কে বসবাস করেন।


Designed & Developed by Future Station Ltd.
উপরে যান