অহেতুক যুদ্ধ ও মৃত্যু নয়, মানবতার জয় হোক

Tue, Feb 22, 2022 12:03 AM

অহেতুক যুদ্ধ ও মৃত্যু নয়, মানবতার জয় হোক

রোমেনা হক রুমা: সারা বিশ্বে একটি বিষয় ইদানীং উত্তেজনা তৈরি করেছে তা হল সীমান্তবর্তী অঞ্চলে লাখ রুশ সৈন্য অবস্থান। অবস্হাদৃষ্টে দেখা যায় , ইউক্রেনের মার্কিনপ্রীতি ও ই ইউ, ন্যাটোর সদস্য হতে চাওয়া রাশিয়ার এ কর্ম তৎপরতার কারণ। মস্কোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করছে। তারা সামরিক শক্তিমত্তা বাড়ানো ও সীমান্তে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউক্রেনও যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বেসামরিক নাগরিকদেরও। যুক্তরাষ্ট্র আত/নয় হাজার সেনা পাঠানোর ওয়াদা করেছে। যুদ্ধ অবধারিত হলে কিয়েভের সহায়তায় সামরিক জোট ন্যাটোর সেনারাও সেখানে যাবে বলে ভয় দেখান হচ্ছে। ‘' The balance of power theory’র সূত্র ধরে আমরা জানি ‘'If one state becomes much stronger, the theory predicts it will take advantage of its weaker neighbors, thereby driving them to unite in a defensive coalition’' বিশ্বে সমতা  আসুক, কোন একক শক্তি মোড়ল গিরি করুক এটি যেন আর না হয়।

 

ইউক্রেনের জনসংখ্যার বিরাট অংশ রুশ ভাষাভাষী, তারা জাতিগতভাবেও রুশ। একসময় কমিউনিস্ট সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। রাশিয়ার সঙ্গে তাদের রয়েছে ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক যোগাযোগ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ ১১টি টাইম জোন জুড়ে বিস্তৃত হলেও দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ১৪ কোটি।

রুশ ফেডারেশন রাশিয়া ইউরোপ ও এশিয়ার অংশ মিলে পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ।সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।  শোষণ থেকে মানুষকে মুক্ত করেছিল ও মেহনতি মানুষকে বিকশিত করে উন্নত জীবনের সন্ধান দিয়েছিল।  সুন্দর মানুষ বানিয়েছিল।ধনী ও দরিদ্রের ভেদাভেদ ছিলনা। ভেঙ্গা ফেলা হয় সমস্ত অসামঞ্জস্যটা এবং  শ্রমিক শ্রেণীকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হয়। রাশিয়া নিজেকে এখনও একটি পরাশক্তি হিসেবে ভাবে এবং বিশ্বে তার সেই সামরিক-রাজনৈতিক শক্তি অটুট রাখার প্রচেষটা।

 

প্রেসিডেন্ট পুতিনের মতে পশ্চিমা শক্তি আসলে নেটো জোটকে ব্যবহার করে চারিদিক থেকে রাশিয়াকে ঘিরে ফেলছে। তিনি চান নেটো যেন পূর্ব ইউরোপে তাদের সামরিক তৎপরতা কমিয়ে আনে।ইউক্রেন এখনও নেটোর সদস্য না হলেও তাদের সঙ্গে নেটোর সখ্যতা আছে। ভবিষ্যতে কোন একদিন তারা নেটো জোটের সদস্য হবে। ১৯৯৭ থেকে একের পর এক পূর্ব ইউরোপীয় দেশ নেটোর সদস্য হয়েছে। ইতিপূর্বেও রাশিয়া ইউক্রেনের সীমানা দখল করেছে। রাশিয়া বহুদিন ধরেই চেষ্টা করছে, ইউক্রেন যাতে কোনভাবেই ইউরোপীয় ইউনিয়নে না যায় এবং সেখানে রুশ-পন্থী মিলিশিয়াদের শক্ত অবস্থান আছে।'যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনে ৭০ টনের মতো 'মারণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম' পাঠিয়েছে, যাতে রণাঙ্গনের সামনের কাতারে প্রতিরোধ তৈরি করা যায়। যুক্তরাজ্য স্বল্পমাত্রার ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে ইউক্রেনকে। কিছু নেটো দেশ, যেমন ডেনমার্ক, স্পেন, ফ্রান্স এবং নেদারল্যান্ডস তাদের যুদ্ধবিমান এবং যুদ্ধজাহাজ পূর্ব ইউরোপে পাঠাচ্ছে সেখানকার প্রতিরক্ষাকে জোরালো করতে।'' ফ্রান্স ও জার্মানি পাঠায় নি দেখছে পরিস্হিতি কোনদিকে মোড় নেয়। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলছে,আন্তর্জাতিক আর্থিক বার্তা লেনদেন সার্ভিস 'সুইফট' থেকে রাশিয়াকে বাইরে রাখার  পরিকল্পনাও হচ্ছে। বিশ্বে দুশো'র বেশি দেশের ব্যাংক এবং আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো সুইফট ব্যবহার করে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, এটি একটি মারাত্মক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। রাশিয়ার একটি বেসরকারি জরিপ সংস্থা লেভাদা সেন্টারের জরিপে দেখা গেছে, ৫০%  মনে করেন, ইউক্রেন নিয়ে এই উত্তেজনার পেছনে দায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো।/বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বে ফের মার্কিন রাজপাট দৃঢ় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। চীন এবং স্নায়ুযুদ্ধের সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়াকে পাশ কাটিয়ে নিজের শক্তির বিস্তার ঘটাতে চাইছে। কিন্তু এখন কোন দেশের জনগনই আর যুদ্ধ চান না। যুদ্ধ শুধু ধ্বংসই আনতে পারে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তিনি মনে করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যে কোন সময়ে দখলের উদ্দেশ্যে ইউক্রেনে প্রবেশ করবে, তবে রাশিয়া একটি 'পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ' চায় না। Wikipedia থেকে জানা যায় “ Ukrainian People's Republic was declared on 23 June 1917. After World War II, the western part of Ukraine merged into the Ukrainian Soviet Socialist Republic, thus making the whole country, a part of the Soviet Union. Ukraine regained its independence in 1991”  ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যে ১৫টি দেশের জন্ম হয়েছে, তার একটি ইউক্রেন। 1992 এ ন্যটোভুকত হবার প্রস্তুতী শুরু হয়েছিল। রাশিয়ার সীমান্তঘেঁষা দেশটিতে জাতিগতভাবে রাশানের সংখ্যা ১৭% বেশি। চিন্তাচেতনায় রাশিয়াপন্থী অনেকে রয়েছে। স্বাধীনতার পর দুই যুগ রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের বন্ধুতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ২০১৪ সালে গণবিক্ষোভে রাশিয়াপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে উৎখাত করলে দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত খারাপ হয়ও ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চল দখল নিয়ে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর রাশিয়াপন্থী মিলিশিয়ারা দোনেস্ক ও লুহানস্কের দোনবাস এলাকাও নিয়ন্ত্রণে করে। এতে ঘরবাড়ি হারিয়েছেন লাখো নাগরিক ও চৌদ্দ পনের হাজার মৃত্যু হয়েছে।

যুদ্ধ কিভাবে এড়ানো যায় সেটিই মূল বিবেচ্য। সব সময় দুই পক্ষেরই নিজেদের পক্ষে বিস্তর  যুক্তি থাকে। যে উত্তেজনা বা তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে তা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।সংকট থেকে উত্তরণের সব সময় কিছু শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক উপায় থাকে যা উভয়পক্ষের সদিচ্ছার উপর নির্ভর করে। বিশ্ববাসীও তাকিয়ে আছে সে সদিচ্ছার প্রতিফলন অবলোকন করতে। অহেতুক আর যুদ্ধ ও মৃত্যু নয়,মানবতার জয় হোক, শান্তি শান্তি।


Designed & Developed by Future Station Ltd.
উপরে যান