ক্রান্তিকালে নবজাগরণ

Fri, Sep 10, 2021 10:45 PM

ক্রান্তিকালে নবজাগরণ

লিয়াকত আলী লাকী : (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল। দেশের রাজনীতিকে উল্টোমুখো করে দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিরোধ হিসেবেই জন্ম নিয়েছিলো সংগঠনটি। না, রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, সংস্কৃতি দিয়ে দেশ এবং রাজনীতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে ধরে রাখার প্রত্যয় নিয়ে এই সংগঠনের যাত্রা। তার পর তো ইতিহাস। স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তো এই সংগঠনটি হয়ে উঠেছিলো অপরিহার্য্য শক্তি।

সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলকে যারা গড়ে তুলেছেন, বিভিন্ন সময়ে এই সংগঠনটির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে ছিলেন, তাদের ভাবনাগুলো, স্মৃতিকথাগুলোকে গ্রন্থিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন সংগঠনের পক্ষে  আহমেদ হোসেন। টরন্টোতে বসবাসরত সাংস্কৃতিক সংগঠক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলের প্রতিষ্ঠালগ্নের উদ্যোগের সাথে ছিলেন, এখনো চেতনায় সেই স্পিরিটকেই ধারন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল নিয়ে বিভিন্নজনের স্মৃতিগাঁথাগুলো গ্রন্থিত হয়ে পাঠকের হাতে যাবার আগে সেগুলো ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করবে নতুনদেশ । আপনাদের মতামতকেও আমরাও সাদরে গ্রহন করবো। বিভাগীয় সম্পাদক, নতুনদেশ।)

১৯৭৫ এ আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। ১৫ আগস্টের ঘটনা জীবনের উপর ভীষণভাবে প্রভাব ফেললো। ইতিহাস পাল্টে যেতে লাগলো। বিকৃতির চরম রূপ দেখতে পেলাম। বঙ্গবন্ধুকে দেশের সবচেয়ে বড় শত্রæ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করলো। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ হলো ভূলুণ্ঠিত।

তখন পুরনো ঢাকার পাটুয়াটুলী লেনে নিজেদের বাসায় থাকি। ১৬ আগস্টে বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশে বাধা প্রাপ্ত হলাম। কি করতে পারি! কিছু করার শক্তি সামর্থ তো নেই। প্রতিবাদ মিছিলও তো দেখিনা। নিজেকে খুব ছোট ও অক্ষম মনে হলো। এক সময় মনে হলো গান তো জানি। জহুরুল হক হলে বিকেলে হারমোনিয়াম গামছা দিয়ে বেধে গলায় ঝুলিয়ে সাহস করে গাইলাম গান ‘শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে উঠে রণি’। প্রথমে প্রতিক্রিয়া তেমন পেলাম না। তবে শুরুতে ১০-১২ জন দর্শক ছিল ২-৩টি গান গাওয়ার পর তা বেড়ে ৪০-৫০জন হয়েছিল। মাঝে মাঝে ভূপেন হাজারিকার গানও গেয়েছিলাম। ভয়ও পাচ্ছিলাম। এই বুঝি ধরে নিয়ে যায়। তারপর এ হলে, সে হলে, কলা ভবনের বিভিন্ন করিডোরে। বিপদ দেখলে ভূপেনের গান, সুযোগ পেলেই বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু নিষিদ্ধ, কিন্তু গান তো নিষিদ্ধ করতে পারবেনা।

 ক্রমে ক্রমে ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে প্রিয় হয়ে গেলাম। যেতে হলো ঢাকার বাইরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। কিছু কিছু জায়গায় আমার সঙ্গে ২জন নামকরা শিল্পী নেয়া হতো। রবীন্দ্রনাথ রায়, ইন্দ্র মোহন রাজবংশী। কিন্তু সকল দর্শক আমার গান শুনতে চাইতো বেশি বেশি। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত পুরনো গানের পাশাপাশি নতুন নতুন গান তৈরী করে গাইতাম এই সকল অনুষ্ঠানে, পথে কিংবা মিছিলে। তখন হারমোনিয়ামের বদলে গলায় ঝুলিয়ে নিয়েছিলাম এ্যাকোর্ডিঅন । বিপদ-আপদ ও মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি কয়েকবার। কয়েকটি বিশাল আয়োজনের কথা মনে পরে। কিশোরগঞ্জ মানসী সিনেমা হল, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় হল, ফরিদপুর ইয়াসিন কলেজ, রাজবাড়ি ট্রেন স্টেশন, মাদারীপুর কলেজ প্রভৃতি স্থানে। বিশাল সমাবেশে গান গাইবার স্মৃতিগুলো এখনো উজ্জল।

 

জনাব ওবায়দুল কাদের, জনাব বাহলুল মজনুন চুনুœ, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, খ ম জাহাঙ্গীর এর নেতৃত্বে কখনো জেলা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতাদের আমন্ত্রনে দেশের অনেক বড় বড় আয়োজনে গান গেয়ে মানুষকে উদ্দীপ্ত করার চেষ্ট করেছি। আমার সৃষ্টি ৭টি গান ও পুরনো ৩টি গান নিয়ে ক্যাসেট বের করার স্বপ্ন ছিল বহুদিনের। অবশেষে ১৯৮০ সালে আমার পরিকল্পনা, সুর সংযোজন ও সঙ্গীত পরিচালনায় বন্ধুবর কবি কামাল চৌধুরী’র গ্রন্থনায় ‘যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা’ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রথম ক্যাসেট বের করতে সক্ষম হলাম।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল গঠনের আগের কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ বলেই উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করেছি । গান দিয়ে আমার সাংস্কৃতিক জীবন শুরু হলেও সেই শৈশব থেকে নাটকে অভিনয় করা, দল সংগঠিত করা, নির্দেশনা দেয়ার অভিজ্ঞতার কথাগুলোও অপ্রাসঙ্গিক নয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাফাতে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বিভাগের প্রথম ব্যাচের ছাত্র হিসেবে সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্ন করলেও ঝুকে পরেছিলাম গান সঙ্গীতের দিকে। গুরু হিসেবে পেয়েছি ওস্তাদ জালাল আহমেদ ইমমী, ওস্তাদ ফজলুল হক, অজিত রায়, ভূপেন হাজারিকা, শেখ লুৎফর রহমান, আতিকুল ইসলাম, মোঃ মোরাদ আলী, আব্দুল লতিফসহ অনেক বরেণ্য গুণীজনদের।

 

সেই সময় সারাদেশে ছাত্র সংসদে জাসদ ছাত্রলীগের রমরমা অবস্থা। সঙ্গে কিছু বাম ও সরকারী দলের ছাত্র ফ্রন্ট। জাসদ থেকে বাসদ হলো মান্না আকতার। আকতার বাবলু’র নেতৃত্বে ১৯৮০-১৯৮২ এর ডাকসু। আমার সৌভাগ্য সেই সময় আমাদের প্যানেলে আমি সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হই। আমি সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮০০০ ছাত্রছাত্রীর উপর আজীবন  কৃতজ্ঞ থাকবো আমাকে আস্থায় নেয়ার জন্য। আমার বিশ্বাস স্থাপনের জন্য। আমার দায়িত্বেরও অতিরিক্ত দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করেছি।

 

বহুদিনের লালিত স্বপ্ন সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ডাকসু’র সাংস্কৃতিক সম্পাদকের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল প্রতিষ্ঠা করি ১৯৮২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যার যাত্রা শুরু। অনানুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল মার্চ মাস থেকেই। একটি গঠনতন্ত্র তৈরি করে অনুমোদন করিয়ে নিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাননীয় উপাচার্য, পৃষ্ঠপোষক রেজিষ্টার, উপ-উপাচার্য ও ১১টি হলের সম্মানিত প্রক্টর মহোদয়গণ। টিএসসি’র পরিচালক উপদেষ্টা। দলের পরিচালক ডাকসু’র সাংস্কৃতিক সম্পাদক। নাটক, নৃত্য, সঙ্গীত, আবৃত্তি ও উপস্থাপনা সাংগঠনিক ইত্যাদি বিভাগে একজন করে উপপরিচালক। দল পরিচালনার জন্য ২৮ জনের একটি নির্বাহী কমিটি ছিল। ৭৫ জন শিল্পী নিয়ে দলের যাত্রা শুরু। প্রত্যেক সদস্যকে কয়েকটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আসতে হতো। প্রার্থীর শিল্পমান, রাজনৈতিক সচেতনতা (মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধে বিশ্বাসী হতে হবে) নিষ্ঠা, রুচিশীল, কর্মনিষ্ঠাতা ও সাংস্কৃতিক জাগরণে দলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অবিচল হতে হবে। কোন তদবীর গ্রহণযোগ্য ছিলনা। শুধু আদর্শের উপর ভিত্তি করে প্রায় পাঁচশত শিল্পী আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, গণসঙ্গীত, পথ নাটক, আবৃত্তি শিল্পসহ শিল্পের সকল বাহনকে যুক্ত করে গড়ে উঠেছিলো সেই মহা জাগরণ। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন অনুষ্ঠান কর্মশালা অথবা আন্দোলনের কর্মসূচি থাকতোই। এছাড়া ছিল নিয়মিত মহড়া। একক নাটক, রথযাত্রা, অবিরাম পাউরুটি ভক্ষণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার নাটকের হতো নিয়মিত প্রদর্শনী।  প্রযোজনা করেছিলাম স্টুডিও থিয়েটার ঋত্বিক ঘটকের ‘সেই মেয়ে’। নৃত্যনাট্য, সোনাই মাধব, চন্ডালিকা, শতাধিক সঙ্গীত শিল্পীর অংশগ্রহণে কয়্যার দল ছিল, দেশ সেরা আবৃত্তি বিভাগ প্রযোজনা করেছে ‘বিস্ফোরণের বৃন্দগান’ দেশের প্রথম কোরিওগ্রাফিক্যাল বৃন্দ আবৃত্তি প্রযোজনা এবং ‘একদিন সূর্যের ভোর’ ইত্যাদি। চলচ্চিত্র, ফটোগ্রাফী, নৃত্য ও নাটকের কর্মশালা হতো নিয়মিত। শিল্প ও সাহিত্য বিষয়ক নির্বাচিত ১০০টি লেকচার ওয়ার্কশপের মধ্যে ৫২টি সম্পন্ন করতে সমর্থ হয়েছিলাম। টিএসসি মিলনায়তন, কলাভবন, মল চত্বর, কার্জন হল চত্বর, বাংলা একাডেমি, সাইন্স এন এক্স ভবন এলাকা ছাড়াও ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় অনুষ্ঠান করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল। প্রায় প্রতিবছর আয়োজন হতো সাংস্কৃতিক বনভোজন। একটি অসাধারণ সাংস্কৃতিক সফর হয়েছিল শাহজাদপুর কুঠিবাড়ি, লালন আখড়া, শিলাইদহ কুঠিবাড়ি ও মুজিবনগর ভ্রমণ।

 

আমরা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, আবৃত্তি ফেডারেশান। জাতীয় সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলের শিল্পীরাই ছিল প্রাণশক্তি। একুশে উদ্যাপন কমিটি গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান এর আন্দোলনে সিংহভাগ আন্দোলনকারীর অভাব পূরণ করতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল।

 

১৯৮২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি দাবী সম্বলিত স্মারকলিপি পেশ করা হয় ‘নাট্যকলা, সঙ্গীত ও তুলনামূলক সাহিত্য’ বিভাগ খুলতে হবে। নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগ খোলা হয় তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগটি আসলেই খুব প্রয়োজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলের সহযোগিতায় ডাকসু’র নাট্য উৎসবটি ছিল অনবদ্য। ১৯৮৩ সালে সবক’টি হলের অংশগ্রহণে এই উৎসবে দিল্লীর এন এস ডি থেকে ফেরত প্রায় সকলেই যুক্ত হয়েছিলেন। কেউ নির্দেশক, কেউ লাইট, সেট, মিউজিক, কস্টিউম, প্রপ্স ডিজাইনার হিসেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল উৎসব ছিল এটি। এর পরের বছরই আয়োজন করা হয় ডাকসু সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। সেটিও ছিল একটি অন্যতম আয়োজন।

 

ডাকসু নির্বাচনের পরপরই দুটি ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করতে পেরেছিলাম। কলা ভবনের সামনে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ও প্রদীপ ঘোষের আবৃত্তি অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২.৩০ মিনিট পর্যন্ত রোদে, গাছের তলায়, রাস্তায়, কলা ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাজার লোক সে অনুষ্ঠান উপভোগ করেছিলো। খরচ হয়েছিল মাত্র ৫৫০ টাকা। মাইক ১৫০, কবিতার বই উপহার ১০টি করে ২০০ টাকা, চা-বিস্কুট ৫০ টাকা, ব্যানার ৫০ টাকা, চৌকি সাজানোর জন্য লেবার ৫০ টাকা, প্রচার-পোষ্টার ৫০ টাকা। মোট ৫৫০ টাকা। এ ছিল ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান। আরেকটি ঘটনা উল্লেখ করা প্রয়োজন। এরশাদ সাহেব ঘোষণা দিলেন এবার শহীদ মিনার এলাকায় আলপনা করতে দেয়া হবেনা। আমি রুদ্র মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ পরিকল্পনা করলাম এবার শাহবাগ এবং নীলক্ষেত থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত সর্বত্র আলপনা হবে। চারুকলার বন্ধুরা আহŸানে ঝাপিয়ে পড়ল। টাকাও যোগাড় করে ফেললাম।

 

পঁচাত্তর পরবর্তীকালে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল একটি অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছে সে দাবী নির্দিধায় করা যায়। প্রায় পাঁচশত শিল্পযোদ্ধাই হয়ে উঠেছিল আত্মশক্তিতে বলীয়ান ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, জাসদ ছাত্রলীগ, বাম ছাত্র সংগঠন, এমনকি ছাত্রদলেরও কেউ কেউ এই আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে অংশ নিয়েছিল। অনেক ঘরোয়া অনুষ্ঠান, আড্ডার ভেতর দিয়ে গড়ে উঠেছিল গভীর হৃদ্যতা। এ শুধু নষ্টালজিয়া নয়। সাংস্কৃতিক জাগরণের ইতিহাস সৃষ্টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীই ভালোবাসত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলকে। আমাদের মধ্যে যে ঐক্যটি গড়ে উঠেছিল তা ছিল রুচির ঐক্য, দেশ প্রেম ও ভালবাসার ঐক্য, স্বপ্ন সংগ্রামের ঐক্য। বঙ্গবন্ধুকে আমরা চিনতে পেরেছিলাম, চেনাতে পেরেছিলাম, সংস্কৃতির সফ্টওয়ার তৈরি করে দেশের শত্রæদের চিহ্নিত করে আলাদা করে দিয়েছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই গর্বের সাথে স্মরণ করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলের গৌরবের ৮টি বছর। সাংস্কৃতিক আন্দোলনের স্বর্ণ সময় ১৯৮২-১৯৯০ স্বৈরাচারের পতন পর্যন্ত।

 

গঠনতন্ত্রে ছিল পরবর্তী ডাকসু’র সাংস্কৃতিক সম্পাদক এই দলের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। অশোক কর্মকার ও পরে মিলন মেহেদী কিছুটা ভূমিকা পালন করেছে কিন্তু পরে সব হারিয়ে গেল। তেয়াত্তরের ডাকসু একটি নাট্যদল গঠন করেছিল ‘নাট্যচক্র’। সেটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাইরে চলে আসে। আমি তা চাইনি। আমি চেয়েছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাই অনাদিকাল ধরে এ প্রতিষ্ঠান চালাবে। সেটি হলোনা। কিন্তু ঐ যে প্রায় পাঁচশত শিল্পযোদ্ধা অনেকেই জাতীয় ক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন। প্রায় সকলেই জীবনে প্রতিষ্ঠিত। কেউ কেউ হয়তো মনে করেন ‘পুরনো সেই দিনের কথা’ অথবা ‘টিএসসি’র সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’। কেউ হয়তো এখনো মনে ধারণ করেন ‘আমরা সুন্দরের অতন্দ্র প্রহরী’।  


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান