একুশে'র চেতনায় উজ্জীবিত হোক তরুণ প্রজন্ম

Sat, Feb 20, 2021 12:43 AM

একুশে'র চেতনায় উজ্জীবিত হোক তরুণ প্রজন্ম

জুলফিকার বকুল: মা,মাটি আর মাতৃভাষার সাথে মানুষের একটি আত্মিক যোগসূত্রতা থাকে। যে সম্পর্কের মাঝে বিচ্ছেদের টান পড়লে পুরো অস্তিত্বজুড়ে ব্যথার শিহরণ জাগে। উম্মত্ত অস্তিত্ব ব্যকুল হয়ে তা দৃঢ় বন্ধনে অনন্তকাল অবিচ্ছেদ্য করে রাখতে চায়। তাইতো বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতেও কেউ কুণ্ঠিতবোধ করে না।যার জলন্ত ইতিহাস  ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারীতে রচিত হয়েছে।এ ইতিহাস বিশ্ববাসীর অজানা নয়।ভাষার জন্য যে জাতি জীবন দিতে পারে সে জাতি দেশপ্রেমে কতটা সাহসী তা বিশ্ব অবাক দৃষ্টিতে দেখেছে। সে দিনের মা ও মাতৃভাষাপ্রেমী সূর্য তরুনেরা বাংলা ভাষার মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে অকাতরে শত্রুর বুলেটের সামনে বুক পেতে বীরপুরুষের মত আত্মবিসর্জন দিয়েছে। এ বিসর্জন রক্তে রঞ্জিত রাজপথের বুকে কালের সাক্ষী হয়ে আজও বাঙালি হৃদয়ে বেদনা ও গৌরবের পদচিহ্ন এঁকে দেয়।সালাম,জব্বার, রফিকরা কখনও মরেনা।চির ভাষ্কর,চির অম্লান হয়ে বাঙালি হৃদয় সমুদ্রে উত্তাল ঢেউয়ের মর্মস্পর্শে প্রবাহিত হয় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।শত্রুরা পারেনি কণ্ঠ নিঃসৃত মায়ের মুখের সুমধুর সেই ধ্বনিকে মুছে দিতে। তাইতো আজ বাংলা ভাষা বিশ্বের চতুর্থ বহুল ব্যবহৃত ভাষা।বিশ্বজুড়ে ৩০ কোটিরও বেশি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন। এমনকি যারা আমাদের মায়ের ভাষা কেড়ে নিয়ে বাকরুদ্ধ করে আমাদের স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল সেই পাকিস্তানের করাচিতেও প্রায় ২১ লাখ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন। করাচি সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম অফিসিয়াল ভাষা বাংলা।সিয়েরালিয়নে ২০০২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করে দেশটি। এ এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বিশ্বে দিন দিন বাংলা ভাষার প্রসার ঘটছে।১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বাংলাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি এবং ২০১০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রতি বছর এ মহান তাৎপর্যপূর্ণ দিনটি আন্তর্জাতিকভাবে যথাযথ মর্যাদায় ' আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ' হিসেবে পালন করার প্রস্তাব গৃহিত হয়।

একুশের শহীদদের আত্মা চির শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে। বাংলা আজ চির উন্নত মম শির।

মহান একুশ জাতির জীবনে শোকাবহ হলেও গৌরবোজ্জ্বল অহংকারে মহিমান্বিত অবিস্মরণীয় একটি দিন। ১৯৫২ সালের এই দিনটি ছিল ঔপনিবেশিক প্রভুত্ব ও শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং জাতীয় চেতনার প্রথম উম্মেষ।এর মাধ্যমেই বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের যে সংগ্রামের সূচনা হয় তা মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় পথ বেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ের মধ্য দিয়ে চুড়ান্ত পরিনতি লাভ করে।সে দিনের পরাধীনতার শিকল থেকে  মায়ের ভাষাকে মুক্ত করে যারা চেতনায় গভীর দেশপ্রেম, সাহস ও ত্যাগের জন্ম দিয়েছে তাঁদের ঋণ কোনদিন শোধ হবেনা। তবে তরুণ প্রজন্মকে জানতে হবে,অনুধাবন করতে হবে,চেতনায় লালন করতে হবে ৫২ এর তরুণদের রক্তে কি মিশ্রিত ছিল।আজ ৭০ বছর পরে এসে তরুণদের হাতেই বিশ্ব নির্মিত হচ্ছে। দেশমাতৃকার ব্রত নিয়ে তাই বিশ্বমানচিত্রে বাংলা মায়ের সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উন্নত দেশ গঠনে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা একান্ত প্রয়োজন। উপযুক্ত শিক্ষা, সংস্কৃতি, সততা ও দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বিশ্ব নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়াই হোক একুশের চেতনার মূলমন্ত্র। একুশ হোক তরুণ প্রজন্মের ব্যক্তিত্ব গঠনের চালিকা শক্তি। ফাগুন যেমন বসন্তকে ঋতুরাজ করেছে তেমনি ৮ ফাল্গুনের অবিনাশী শক্তি তরুণদের মাঝে রাজ্য জয়ের অনুপ্রেরণায় প্রতিফলিত হোক। একুশ জাগ্রত থাক শিশুকে ঘুম পাড়ানি মায়ের মুখের কবিতায়।শিশুর কোমল হৃদয়ের অনুভূতিতে মিশে যাক ভাষা আন্দোলনের আভা। শফিক,বরকত'রা অমর থাক নতুন প্রজন্মের মাঝে যুগ থেকে যুগান্তরে।

'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।'

সকল ভাষা সৈনিকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও রক্তিম সালাম রইল। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাক তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে।সকল শহীদের আত্মার শান্তি হোক।

লেখক: জুলফিকার বকুল,শিক্ষক, ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল, গাজীপুর।

 


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান