অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্সি ঝুঁকিতে, বিশ্ববাসী আতঙ্কিত

Thu, Jan 14, 2021 12:55 AM

অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্সি ঝুঁকিতে, বিশ্ববাসী আতঙ্কিত

রোমেনা হক রুমা : বিশ্ববাসী আতঙ্কে। কারন আগামী কিছুদিন বিশ্ব নিরপদ নয়। আমরা প্রতিবেশী দেশ কানাডাও শংকায় আছি। মানবজাতি ধ্বংসে সক্ষম অস্ত্রভাণ্ডারের কোড ও ব্যবহারের ক্ষমতা যার হাতে তিনি যে একজন বিপদজনক ব্যক্তি এতদিনে আম্রিকাবাসী হাতে নাতে প্রমান পেল। ‘’পাগলা সাঁকো নাড়িস নে, ভাল মনে করে দিয়েছিস’’ হ্যাঁ মনে করার আগেই সর্বোচ্চ সতর্কতার নিতে হবে। মুর্খ, অসভ্য, বর্বর লোভী, নির্লজ্জ, মিথ্যাবাদী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উগ্রবাদের চেহারা সবখানে একই রকম বিভৎস, বিকট। ঊগ্রতাবাদ, শ্রেষ্টত্ববাদ, নাজিবাদ শুধু জার্মানেই বিপদ ডেকে আনেনি, সারা বিশ্বে বিপদ ডেকে এনেছিল। আমেরিকার ইতিহাসে তেমন একজন নির্বাচিত পাগল ট্রাম্প। নিজের ক্রমাগত মিথ্যাচার এবং উসকানিমূলক কথাতেই নির্বাচনে হেরে গেছে অথচ তিনি ক্ষমতা ছাড়তে চান না। যে কোনো কায়দায় ক্ষমতায় থাকার অপচেষ্টা করছেন। আমেরিকার মতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, ট্রাম্প সেটি বিস্ময়কর বিষয়। নেতৃত্ব দেয়ার আগে যে মানসিক অসুস্থ্যতার ব্যাকগ্রাউন্ড আমলে নেয়া অতি জরুরী কিভাবে সেটি ভুলে গিয়েছিল? হিলারী বা শুধুই নারী ক্ষমতায়ন যাতে না হয়? তার সমর্থকরা হলো আমেরিকার জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ এই অশিক্ষিত, বর্বর, অসভ্যর সাপোর্টার। রিপাবলিকানরা এই লোককে লিডার মেনেছে ভাবতে অবাক লাগে। খারাপেরও একটা সীমা থাকে কিন্তু ট্রাম্পের খারাপের সীমা নেই। অনেকে এই যুক্তিতে তাকে পছন্দ করে যে সে নতুন করে কোন যুদ্ধে জড়ায়নি। হয়ত সে দ্বিতীয় টার্মের জন্য যুদ্ধ রেখে দিয়েছিল। মানবজাতির লিডারশীপ একেক সময় একেক জাতির হাতে থাকে। হ্যা ট্রাম্প প্রক্সি দিয়ে যুদ্ধ করেছে। সে ইসরাইলকে অস্র কিনতে কোটি কোটি ডলার দিয়েছে, সৌদিদের সাথে মিলে হাজার ইয়েমেনি মেরেছে । আদনান খাশগীর নিরমমহত্যা কএন্ডকে ধামাচাপা দিতে সহায়তা করেছে। যা কিনা এ পর্যন্ত কোন প্রেসিডেন্ট করার সাহস পায়নি তাই করেছে সে জেরুজালেমের উপর প্যালেসটাইনের দাবি উপেক্ষা করে অ্যামেরিকার এমব্যাসি সরিয়ে নিয়েছে। ইরানের নিউক্লীয়ের বিজ্ঞানী মহসিন ফাখ্রিজাদেহকে ও ইরাকের শক্তিমান নেতা কাশেম সুলাইমানিকে মেরেছে।

ঘটনা আমেরিকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতা তুলে ধরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নির্বাচন ঘিরে এমন সহিংসতা এই প্রথমবারের মত। গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলে পরিচিত দেশটি আজ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে থেকেই পুরা বিশ্বের উপর মাতব্বরি ও মোড়লগিরি করা জাত্যাভিমান আর শ্রেষ্ঠত্বে নিজেদের সেরা মনে করা, গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী এই দেশটিতে যা ঘটছে দেখেছে বিশ্ববাসী। প্রেসিডেন্ট আর ভাইস প্রেসিডেন্টের মধ্যে দ্বিমত, কথাবন্ধ। ক’দিন চলছে চরম নৈরাজ্য, যেন নিজেরাই নিজেদের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছে না। এক ধরনে সিভিলিয়ান সামরিক অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কেউ কেউ। ২৫তম সংশোধনীর অধীনে প্রেসিডেন্ট যদি অসুস্থতা অথবা বিকলাঙ্গতার কারণে দায়িত্ব পালনে আর সক্ষম না হন তাহলে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট সে বিষয়টি অগ্রাধীকার পাচ্ছে এখন। সহিংসতার পর আবার একত্রিত হয় সিনেটরগণ। সারা রাত নাইটমেয়ার শেষে এক যৌথ অধিবেশনে বাইডেনকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট এবং কমলা হ্যারিসকে ভাইস প্রেসিডেন্টের স্বীকৃতি দিয়েছে কংগ্রেস। অন্যদিকে নিয়মমাফিক ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প কিন্তু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের অটল থাকে।

মার্কিন গণতন্ত্রের ২০০ বছরের ইতিহাসে যা কখনো ঘটেনি সেটিই করে দেখালেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৮১২ সালের যুদ্ধের একপর্যায়ে সর্বশেষ ১৮১৪ সালে হামলা হয় ও ব্রিটিশ সেনারা ওই ভবনটি পুড়িয়ে দেয়। অ্যামেরিকা ও ইংল্যান্ডের মিত্রদের মধ্যে ওই যুদ্ধ হয়। ২০০ বছরে ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেনি।ক্যাপিটলের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা এটি প্রথম। কনফেডারেট পতাকা নিয়েও প্রবেশ প্রথম।১৮৬১ সালে ক্রীতদাস প্রথার অনুসারীরা কিছু রাজ্য আমেরিকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ‘কনফেডারেট স্টেটস’ গঠন করেছিল। রিপাবলিকান পার্টির দাসপ্রথা বিরোধী নেতা আব্রাহাম লিঙ্কন চার বছর গৃহযুদ্ধের পর ‘কনফেডারেট স্টেটস’কে আবার ঐক্যবদ্ধ আমেরিকায় পরিনত করা করেছিল। এখন আবার এতদিন পর এই সমর্থকরা যারা আমেরিকার অর্ধেক জনগোষ্ঠী মনে করেন মার্কিন দেশের নীতি বেশী উদার। ইমিগ্র্যনটদের বা অভিবাসীদের এত সুবিধা দেয়া যাবেনা, কাজকর্মে, প্রশাসনে বরাবরের মত শ্বেতাঙ্গদের প্রাধান্য রাখতে হবে।

সেদিন অধিবেশনে নির্বাচনের ফল বাতিলের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিলেন ট্রাম্প সমর্থক কয়েকজন আইনপ্রণেতা। কংগ্রেসে সদস্যরা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলকে সত্যায়ন করতে যৌথ অধিবেশনে বসেন সে সময় ট্রাম্পের সমর্থকদের একটি অংশ মিছিল করে ক্যাপিটলের ঢুকে পড়েন ও ধাক্কাধাক্কি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে কংগ্রেসের অধিবেশন চলার মধ্যেই ক্যাপিটল ভবনে ঢুকে পড়ে তারা। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও পিপার স্প্রে ব্যবহার করে। কিন্তু ট্রাম্প সমর্থকরা এরমধ্যেই জ্বালাও পোড়াও ও ভাঙচুর চালাতে থাকে। ট্রাম্পের সমর্থকরা ভবনটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। পুলিশের নিরাপত্তাব্যূহ ভেঙে উগ্র ট্রাম্প সমর্থক ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। ভোটে পরাজিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সশস্ত্র উগ্র সমর্থকরা ক্ষোভে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালায়। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখে একপর্যায়ে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন স্থগিত করা হয়।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কয়েকদিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল এই প্রত্যয়ন ভেস্তে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল। নভেম্বরে যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয় তাতে জো-বাইডেন ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট, ট্রাম্পের পেয়েছে ২৩২টি। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই ট্রাম্প অভিযোগ তুলে আসছেন ভোটে জোচ্চুরি হয়েছে। এই ফলাফলকে তিনি কিছুতেই মানবেননা। মনগড়া অভিযোগের ভিত্তিতে জনরায়কে পাল্টে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। ট্রাম্পের এই উসকানিমূলক ঘোষণার পরই রাজধানীতে জড়ো হতে থাকে সমর্থকরা।ট্রাম্পের সমর্থনে স্লোগান দিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ঢুকে যায়।এ সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট, অন্য নেতারা নিরাপদ কক্ষে আশ্রয় নেন।আইন প্রণেতাদের তাঁদের আসনের নিচ থেকে গ্যাস মাস্ক পরার পরামর্শ দেয়া হয়।অনেকে ভিত সন্ত্রস্ত হয়ে ভবনের সিঁড়িতে ও ছাদে অবস্থান নেয়। অনেকে সিনেটররা গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যান। কংগ্রেসের অধিবেশন কক্ষ, হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি, সিনেটরদের কক্ষের দরজা ও জানলায় ভাঙচুর চালায় হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদুনে গ্যাস ও পেপার স্প্রে ব্যবহার করে পুলিশ।গুলি ও পালটা গুলির ঘটনাও ঘটে। সিনেটের মঞ্চে বসে নানা ভঙ্গিমায় ছবি তোলেন।ক্যাপিটল বিল্ডিং কয়েক ঘণ্টা ধরে কার্যত জিম্মি করে রাখে ট্রাম্প সমর্থকরা। সমর্থকেরা ভবনের এখানে সেখানে ভাঙচুর চালান কিছু উগ্র মনোভাবাপন্ন মানুষ। এরপর ওই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধলে এক নারী সমর্থকসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ নিহত হন। জো বাইদেন ট্রাম্পকে সমর্থকদের সরে যেতে আহ্বান জানাতে বলেন। ক’ঘণ্টা তাণ্ডবের পর ট্রাম্প তাঁদের ফিরে যেতে বলেন। এরপর একপর্যায়ে আস্তে আস্তে তারা বের হয়ে যায়। তাণ্ডব চালানোর পরও ট্রাম্পের সমর্থকদের নির্বিঘ্নে ভবন ত্যাগ করতে দিতে দেখা গেছে। এটা সরাসরি বিদ্রোহ প্ররোচনা। কিন্তু তাঁদের নিন্দা না জানিয়ে হামলাকারীদের ‘মহান দেশপ্রেমিক’ বলে প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প।পরবরতিতে অবশ্য হামলাকারীদের শান্ত থাকার আহ্বানও জানান তিনি। প্রেসিডেন্ট কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্প বাবার সমর্থকদের আমেরিকান দেশপ্রেমিক’ বলে অভিহিত করেছিল ও সেই টুইট কিছু পরে মুছে দেয়।

বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন, আফ্রিকা-অ্যামেরিকান বা মুসলিম জনগণ এই বিক্ষোভ করলে মার্কিন প্রশাসন আর মিডিয়ায় ভিন্ন ছিত্র দেখা যেত। কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে শ্বাসরোধে মেরে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে গত বছর শুরু হয়েছিল। সেই সময় এই একই পুলিশকে ভিন্ন ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা গেছে। শান্তিপূর্ণ সে বিক্ষোভে পুলিশের টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ব্যাবহার করা হয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম আর টেলিভিশনে ক্যাপিটল আন্দোলনকারী কৃষ্ণাঙ্গ বা ভিন্নধর্মী হলে তাঁদের ক্যাপিটলে ঢোকার আগেই গুলি করা হত বলেও অনেকে অভিমত দিয়েছে। বিচার ব্যবস্হার সুস্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব পরিলক্ষিত হয়। ট্রাম্পের সমর্থকেরা যেভাবে কংগ্রেস ভবনে ঢুকে হামলা চালিয়েছেন মার্কিন রাজনীতিবিদ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সাবেক কর্মকর্তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

ভোটের অধিকার গণতন্ত্রের প্রথম ধাপ। আমরা দেখতে পাই যে চার বছর যে ভাইস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ডান হাত ছিলো সে সংবিধানকে সমুন্নত রেখেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার অসুভ তৎপরতা ও সকল ক্ষমতা দিয়েও প্রতিদ্বন্দ্বী বাই্দেনকে পরবর্তী প্রেসিডেন্সি থেকে বঞ্চিত করতে পারেননি। দল যেমন রিপাবলিকান, ডেমক্র্যাটের বিষয় গুরুত্বপূর্ণ নয়, ন্যায় ও নিতী হল গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকার আইন আদালত প্রেসিডেন্ট বা ক্ষমতায় কে আছে সেটি মুখ্য নয়, সংবিধানের অনুযায়ী আইনে চলে। নিজ দল রিপাবলিকান হলেও ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য সিনেটে হাউজ লিডার তখন প্রেসিডেন্টকে জী হুজুর করেনি। অধিকাংশ সিনেটর ট্রাম্পের প্রস্তাবকে নাকচ করে দিয়েছে। অনেকে ইম্পিচমেনটে সায় দিচ্ছে। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন, কাজ ও দায়িত্বে থাকা দফতর এবং লোকজন নিয়মের বাইরে গিয়ে ভোটার সংগ্রহ বা বদলানোর বা গণনায় কারচুপির চেষ্টাই করেননি। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ,, সর্বাধিক ক্ষমতাবান হয়েও নির্বাচন কমিশন, আইন-আদালতকে প্রভাবিত করতে পারেননি। প্রশাসনকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারেননি। অবৈধভাবে বাড়তি ভোট নিজের পক্ষে যোগার করতে পারেননি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে। বাংলাদেশী হিসেবে এটি রিতিমত বিস্ময়কর লাগে। ধান্দাবাজ ব্যবসায়ী বা ব্যবসা সংক্রান্ত ব্যাক্তিদের বা কোন অরাজনৈতিকদের রাজনীতিতে অনুৎসাহিত করা দরকার। তৃণমূল রাজনিতিকদের থেকেই নেতা তৈরি করা ঠিক। চার বছরে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তির যে ক্ষতি করে গেলেন, তা খুব সহজেই কাটিয়ে ওঠা কষ্টকর। যে বা যারা ট্রাম্পের কথা শুনেনি, তার মিথ্যাকে তারা অন্যায়কে সাপোর্ট করেনি তাকেই সে খারাপ, দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছে। যারা ট্রাম্পের কথা শুনেনি, তার মিথ্যাকে এবং তারা অন্যায়কে সাপোর্ট করেনি, তাকেই সে বরখাস্ত করেছে ও অনেককে রিজাইন করতে বাধ্য করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে উগ্র জাতীয়তাবাদীদের মার্কিন আইনসভায় হামলা ও গত চার বছরে তার বিভিন্ন ধরনের নির্লজ্জ মিথ্যাচার বলা যায় তিনি একটি বিভক্ত সমাজের জন্ম দিয়ে গেলেন। বিভেদ তৈরি করে দেশকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্প যে ‘রাজনীতি’ মার্কিন সমাজে সৃষ্টি করে গেলেন, এই ক্ষত সারিয়ে উঠতে আরও সময় লাগবে। তিনি সরে গেলেও শেষ হবেনা রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন আর তার একটি সমর্থক শ্রেণি তৈরি হয়েছে । ক্ষমতাসীন শক্তি নির্বাচনে হেরে গেলে তার সমর্থকদের নিয়ে এমন অঘটনা ঘটাতে পারে। ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির যে ক্ষতি করেছে তার খেসারত তাদেরকে দিতে হচ্ছে। হয়ত ভবিষ্যতেও দিতে হবে। ট্রাম্প কিছু রিপাবলিকান পলিটিশিয়ানদের জন্য রাজনীতি কঠিন করে গেলেন।

সেদিনের ঘটনা পরিকল্পিত ছিল। এখন পরবর্তী জটলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইনাগুরেশনের দিন পঞ্চাশটি অঙ্গরাজ্যে একসাথে সশস্র হামলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। আমেরিক সন্ত্রাসী সমর্থকদের দিয়ে কংগ্রেস ভবন দখল করা রাষ্ট্রব্যবস্থাকেও হুমকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে। দশ পনের হাজার ন্যাশনাল গার্ড পাঠানো হবে সেদিন সুরক্ষার জন্য।ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথমে হাউজ, পরে প্রেসিডেন্সি হারাচ্ছে। মান সম্মানের কথা তো বাদি দিলাম তার ফেসবুক, ইন্সতাগ্রাম, টুইটার অ্যাকাউন্ট সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।প্রাইভেট কম্পানিগুলো কত দায়িত্বশীল। এই ব্যান করার ফলে টুইটার পাঁচ বিলিয়ন ডলার, ফেসবুক ত্রিশ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি করেছে। চার বছরে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তির যে ক্ষতি করে গেলেন, তা খুব সহজেই কাটিয়ে ওঠা কষ্টকর। এ তে ব্যক্তি ট্রাম্পকে যতটা না ক্ষতি করেছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে প্রেসিডেন্ট পদটি। দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রের স্বার্থে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান