সাকিবের পরাজয় সকলেরই পরাজয়

Wed, Nov 18, 2020 11:34 PM

সাকিবের পরাজয় সকলেরই পরাজয়

ফরিদ আহমেদ:কোলকাতায় কালি পূজোর এক উৎসবের ফিতে কেটে উদ্বোধন করেছিলেন সাকিব আল হাসান। তিনি অবশ্য পরে উদ্বোধনের কথা অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, সেখানে শুধুমাত্র অংশ নিয়েছিলেন তিনি। উদ্বোধন করুন কিংবা না করুন, এটা সত্যি যে কোলকাতার সেই কালি পূজার উৎসবে সাকিব আল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের ইতিহাসের এ যাবতকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রিকেটার। এখনো খেলার মাঝে আছেন তিনি। কলকাতা নাইট রাইডারের হয়ে নিয়মিত আইপিএলে খেলেছেন সাকিব। স্বাভাবিকভাবেই কোলকাতার সাথে তাঁর একটা আত্মিক সম্পর্ক আছে। তিনি কোলকাতার কালি পূজোতে অংশ নিতেই পারেন। এটা এমন কোনো বিরাট ঘটনা না। কারণ, এই বাংলায় হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলমান, বৌদ্ধ এবং হিন্দুরা পাশাপাশি বসবাস করে এসেছে। ধর্মে আলাদা হলেও, এরা সবাই এই মাটিরই সন্তান। কেউ আকাশ থেকে এখানে এসে পড়ে নাই। ইতিহাসের নানা ফেরে পড়ে আমাদের পূর্বপুরুষেরাই কেউ মুসলমান হয়েছে, কেউ বৌদ্ধ হয়েছে, কেউ খ্রিস্টান হয়েছে, কেউ বা হিন্দুই থেকে গিয়েছে। ধর্মীয় ভিন্নতার কারণে তারা ভিন গ্রহের মানুষ হয়ে যায়নি। এখনো আমরা একই ভাষায় কথা বলি, একই সুখ-দুঃখকে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেই, একই জিনিসের জন্য বুকের মধ্যে প্রবল ভালবাসা অনুভব করি, একই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখি। একই মাটির উপর দিয়ে নিত্যদিন হাঁটি, একই নদীর জলে সিক্ত হই, একই আকাশের নীচে মুক্ত বিহঙ্গের মতো উড়ি।

বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় উৎসবগুলো একটা বড় অংশই সামাজিক। ফলে, সেখানে সব ধর্মের লোকেরাই অংশ নিতো প্রবল আনন্দের সাথে। কারো মধ্যেই এই নিয়ে কোনো সংকোচ কিংবা দ্বিধা কাজ করতো না যে অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়াটা কোনো অন্যায় কাজ। আমি নিজে কোনো ধর্ম পালন করি না। কিন্তু, ধর্মীয় উৎসবগুলোর সামাজিক অংশে অংশ নিতে আমার কখনোই অনাগ্রহ দেখা দেয়নি। মুসলমান পিতা-মাতার ঘরে জন্মানোর কারণে মুসলমানদের সব ধর্মীয় উৎসবের সাথেই কম-বেশি জড়িত থাকতে হয়েছে আমাকে জীবনের কোনো না কোনো সময়ে। এর বাইরে পূজোর অনুষ্ঠানগুলোতে, প্রবারণা পূর্ণিমা কিংবা বড়দিনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতেও কখনোই কোনো কার্পণ্য হয়নি আমার। মহানন্দেই সেই রঙিন উৎসবগুলোতে অংশ নিয়েছি আমি। আমার কথা বাদ দিলাম। আমি নিধার্মিক মানুষ, বিশ্বাসহীন একজন। আমাদের দেশের অনেক ধর্মপালনকারী মুসলমানও এগুলোতে অংশ নিয়ে থাকেন আনন্দের সাথেই। এই অনুষ্ঠানগুলোতে গেলে খারাপের কিছুতো ঘটেই না, বরং মানুষের সাথে মানুষের সৌহার্দ্য এবং সম্প্রীতি তৈরি হয়, আনন্দমুখর পরিবেশ রচিত হয়।

যে সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বললাম, সেই বাংলাদেশ এখন আর নেই। মুসলমানদের একটা বড় অংশ এখন পরিণত হয়ে গিয়েছে ভয়ংকর রকমের সাম্প্রদায়িক জীবে। কী কারণে এমন অধঃপতন হয়েছে, সেই ব্যাখ্যায় আপাতত যাচ্ছি না আমি। এই বাংলাদেশ এক অচেনা বাংলাদেশ আমাদের জন্য। ধর্মীয় উদারতা এবং সহনশীলতার জায়গা দখল করেছে নিয়েছে মৌলবাদ এবং ধর্মান্ধতা। অন্য ধর্মের উৎসবে অংশ নেওয়াটা এখন গুরুতর এক অপরাধ, হত্যা করতে চাওয়ার সমতুল্য অপরাধ। সাকিব আল হাসানের কালি পূজোতে অংশ নেওয়া তীব্রভাবে আহত হয়েছে সিলেটের এক তরুণের অনুভূতি। তরুণের নাম মহসিন তালুকদার। মহসিন তালুকদার নামের সেই তরুণ ফেসবুক লাইভে এসে বিশাল এক রামদা নিয়ে অশ্রাব্য গালিগালাজ করে সাকিবকে কীভাবে সে হত্যা করবে তার একটা মহড়া দেখিয়েছে সে। এই কাজটা করবে বলে প্রতিজ্ঞা করতেও সে ভুল করেনি। এই ছেলের হত্যার হুমকিকে হালকাভাবে নেবার কিছু নেই। আমি নিজে ভিডিওটা দেখেছি। তার উন্মত্ত খুনে আচরণ দেখে আমার নিজেরই গায়ের লোম খাড়া হয়ে গিয়েছে। অন্য ধর্মের প্রতি সে যে পরিমাণ ঘৃণা পোষণ করে বুকের ভিতরে, সেটা একজন মানুষকে খুন করার জন্য যথেষ্ট বলেই মনে হয়েছে আমার কাছে। ফাঁকা হুমকি সে দেয়নি। সাকিবকে সামনে পেলে সত্যি সত্যিই সে গলা কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলতো বলেই আমার ধারণা।

এই রকম ভয়ংকর ধরনের হত্যার হুমকি পাবার পরে স্বাভাবিকভাবেই সাকিব আল হাসান ভয় পেয়েছেন। ভয় পাবারই কথা। সিলেটের এই ছেলে একক কোনো ধর্ম উন্মত্ত ব্যক্তি নয়। এমন লক্ষ লক্ষ ছেলে এখন জন্ম নিয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে টিকে থাকতে গেলে এদেরকে খেপানো যাবে। যে কারণে সাকিব আল হাসান ভিডিও বার্তায় এসে বলেছেন যে তিনি একজন গর্বিত মুসলমান। কালি পূজোয় যাওয়াটা তাঁর ঠিক হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে এমন কাজ আর ভবিষ্যতে করবেন না বলে অঙ্গীকারও করেছেন।

সাকিবের এই নতজানু অবস্থানটা অনেকের কাছেই পছন্দ হয়নি। যাঁদের পছন্দ হয়নি, তাঁদের বক্তব্য হচ্ছে মৌলবাদীদের হুমকির কাছে নতি স্বীকার করে সাকিব আল হাসান শুধু নিজের ক্ষতিই করেননি, মৌলবাদের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ যুদ্ধ হতে পারতো, সেটাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এই যুক্তিটা খারাপ না। সাকিব রুখে দাঁড়ালে হয়তো অনেকেই সাহস পেতো। সেই সাহসে ভর করে মৌলবাদের বিরুদ্ধে অন্য কেউ হয়তো রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালাতো।

কিন্তু, বাস্তবতা কী বলে? সাকিবের পক্ষে কী সেই কাজটা করা সম্ভব ছিলো?

বাংলাদেশে মৌলবাদ এখন ঘাঁটি গেড়ে বসেছে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে। অনেকেই এটাকে নিয়ে প্রচণ্ডভাবে শঙ্কিত, আবার অনেকের এ নিয়ে তেমন মাথা ব্যথা নেই। কেউ কেউ আবার হয়তো খুশিও এটা ভেবে যে দেশ অবশেষে ইসলামের পতাকাতলে আশ্রয় নিচ্ছে। যে যেটাই ভাবুক না কেনো, বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশে এখন ধর্মান্ধ একটা বিশাল জনগোষ্ঠীর মানুষদের দেশ, মৌলবাদ সেখানে ছড়িয়ে পড়েছে কেন্দ্র থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত। সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পে আজ বাংলাদেশ নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছে অতল কোনো এক খাদে। এই রকম একটা ভয়ংকর সমাজে ভয়ংকর এক শ্রেণী ধর্মান্ধ এবং উন্মত্ত জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একক প্রতিবাদ করার অর্থ হচ্ছে নিজেকে ধ্বংসের হাতে সপে দেওয়া। আজকে সাকিব যদি ঘুরে দাঁড়িয়ে বলতেন যে, 'কালি পূজোয় গিয়েছিতো কী হয়েছে?’, কালকেই তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দিতো শান্তির ধর্মের সেনানীরা, পরশুদিন মাগুরাতে তাঁদের বাড়ি আক্রান্ত হতো, তাঁর বাবা-মা, ভাই-বোন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতো, সাকিবের ক্রিকেট ক্যারিয়ারেরও দফারফা করে দিতো এরা।

মাফ চাওয়ার পরেও সাকিবের বিপদাপন্ন অবস্থা কিন্তু কাটেনি, দুরবস্থা দূর হয়নি এখনো। গানম্যান সাথে নিয়ে ক্রিকেট প্রাকটিস করতে হচ্ছে তাঁকে। মাফ না চাইলে কী হতে পারতো সেটা বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হবার কথা নয়। নিজেকে একবার সাকিবের জায়গায় বসিয়ে ভাবুন যে আপনি হলে কী করতেন? সাকিব যে কাজটা করেছে তার বিপরীতটা যদি করতেন, তবে আপনি নিঃসন্দেহে বিশাল একজন সাহসী পুরুষ কিংবা নারী। একেবারেই ব্যতিক্রমী ধরনের একজন। নিশ্চিতভাবেই স্যালুট পাবার যোগ্য আপনি। আর যদি সাকিবের মতোই কাজ করতেন, তবে আপনি আমাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ। বড় ধরনের বিপদে পড়লে, সেটা হতে পারে নিজের জন্য কিংবা পরিবারের জন্য, আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হই। আমি নিজে বাংলাদেশে এখন থাকলে, যে লেখাটা এই মুহূর্তে লিখছি, সেটা আমি লিখতাম না বলেই আমার ধারণা। কারণ, এই এক লেখার কারণে আমি চাকরি হারাতে পারতাম, নিজের এবং পরিবারর অন্য সদস্যদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতাম। ধর্ম যতোই মুখে মুখে শান্তির কথা বলুক না কেনো, ধর্মান্ধরা খুব শান্তিপ্রিয় কোনো প্রাণী নয়।

আজকে বাংলাদেশে যে অবস্থা চলছে, সেটার সঙ্গে পুরোপুরি না মিললেও, মধ্য যুগের ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশকে আমরা তুলনা করতে পারি। সেই সময়ে ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্ম উন্মত্ত আচরণ করতো। এই ধর্মের অনুসারীরা কোনো যুক্তির কথা শুনতে চাইতো না, শুনতে চাইতো না কোনো প্রগতির কথা। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে সহাবস্থানের ব্যাপারে খুব একটা সহনশীল ছিল না তারা। প্রচণ্ড রকমের সংকীর্ণ এবং সাম্প্রদায়িক চিন্তাভাবনা দিয়ে তারা পরিচালিত হতো।  তাদের অত্যাচারে ইহুদিদের নাভিশ্বাস দশা ঘটেছিলো। শুধু ইহুদি না, নিজেদের ধর্মের মধ্যেও কাউকে এক বিন্দু দম ফেলার সুযোগ তারা দিতো না। সামান্যতম মতবিরোধ হলেই ধর্মদ্রোহী খেতাব দিয়ে গলায় ফাঁস ঝুলিয়ে দেওয়া হতো কিংবা আগুনে পুড়িয়ে মারা হতো। ইউরোপে সেই সময়ে হাজার হাজার নারীকে ডাইনি খেতাব দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। এদেরকে মারার জন্য কোনো বিচারের ব্যবস্থা ছিলো না, প্রমাণ-অপ্রমাণের বিষয় ছিলো না। কেউ একজন কাউকে ডাইনি বলে অপবাদ দিলেই উন্মত্ত জনতা সেই নারীকে ধরে নিয়ে গিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলতো।

এই রকম এক অন্ধকার যুগে কোপার্নিকাস আবিষ্কার করেছিলেন এক সত্যকে। টলেমির ভূকেন্দ্রিক ভ্রান্ত মতবাদের বিপক্ষে গিয়ে সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদকে আবিষ্কার করেন। কোপার্নিকাস নিজেও ক্যাথলিক চার্চের পাদ্রি ছিলেন, ছিলেন একজন নামকরা বিজ্ঞানী এবং জ্যোতির্বিদ। এ'রকম একজন মানুষের সমাজে যথেষ্ট প্রতাপ থাকার কথা। সেটা ছিলোও তাঁর। তারপরেও তিনি তাঁর সেই সত্য আবিষ্কারকে প্রকাশ করতে সাহস পান নাই। সারাজীবন ধরে চেপে রেখেছিলেন। শেষ বয়সে গিয়ে যখন তিনি মৃত্যু শয্যায়, তখন মৃত্যু ভয়কে কাটিয়ে উঠেন তিনি। প্রকাশ করে যান তাঁর সেই আবিষ্কৃত সত্যকে বই আকারে।

কোপার্নিকাসের পরে গ্যালিলিও যখন এই সত্য প্রচারে নামলেন, তাঁকে বিপদে পড়তে হয়েছিলো। তিনিও যথেষ্ট প্রতিপত্তি রাখতেন সমাজে। সেই প্রতিপত্তিও কোনো কাজে আসে নাই। তাঁকে বন্দি হতে হয় এবং বিচারের রায়ে তাঁকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় এই বলে যে তিনি যা বলেছেন সব ভুল বলেছেন। প্রায়শ্চিত্তের স্ক্রিপ্ট ধরিয়ে দিয়ে তাঁকে দিয়ে অত্যন্ত অবমাননাকরভাবে সেই স্ক্রিপ্ট বার বার পড়ানো হয়। হাঁটু মুড়ে বসে গ্যালিলিওকে স্বীকার করতে হয় যে তিনি ভুল ছিলেন, বাইবেলই সত্য।

এই দুজনের বাইরে গিয়ে দুর্দান্ত সাহস দেখিয়েছিলেন ব্রুনো। তিনি মঠ থেকে পালিয়ে গিয়ে কোপার্নিকাসের তত্ত্বকে প্রচার করা শুরু করেছিলেন হাটে-মাঠে-ঘাটে। এই দুঃসাহসিকতার প্রতিদান তিনি পেয়েছিলেন অকালে নিজের জীবন হারিয়ে। খুঁটির সাথে বেঁধে তাকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছিলো ধর্মান্ধ ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা।

আমাদের দেশ এখনো ওই পর্যায়ে যায়নি। তবে, ওই দিকেই যে এগোচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যে সমাজ অতল এক অন্ধকারের দিকে যাত্রা শুরু করেছে, দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে খাদের কিনারের দিকে, উন্মত্ত একদল ধর্মান্ধ তৈরি করে চলেছে দ্রুতগতি, সেই সমাজে সবাই ব্রুনোর মতো সাহস দেখাবে, এই আশা আমরা করতে পারি না। সেখানে কোপার্নিকাস কিংবা গ্যালিলিও-র মতো আপোষকামী মানুষও থাকবে। এই আপোষকামিতা স্বার্থের কারণে করা হয়নি, করা হয়েছে টিকে থাকার প্রয়োজনে। এ ধরনের আপোষকামিতাকে তাই দেখা উচিত ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে। সমাজ কিংবা রাষ্ট্র এদেরকে রক্ষা করতে পারেনি ধর্মীয় মৌলবাদের হাত থেকে, পারেনি রক্ষা করতে ধর্মান্ধ পশুদের কাছ থেকে। বনে বাস করে বাঘের সাথে লড়াই করা যেমন যায় না, তেমনি যায় না জলে নেমে কুমীরের সাথে কুস্তি করা।

সাকিবের নতজানু হয়ে ক্ষমা চাওয়াটা তাই আমার কাছে ব্যক্তি সাকিবের নতজানু হওয়া নয়, বরং যে গাঢ় অন্ধকার এগিয়ে আসছে আমাদের দিকে, সেই অন্ধকারের কাছে ব্যক্তির অসহায় আত্মসমর্পণের নামান্তর মাত্র। সাকিবের পরাজয় তাই আমাদের সকলের পরাজয়। আজকে সাকিব বিপদে পড়ে মাফ চেয়ে এই অবস্থা থেকে উদ্ধার পেতে চাচ্ছে, কাল হয়তো আমাকে একই কাজ করতে হবে, পরশুদিন আপনাকে, কিংবা অন্য কাউকে। এই রকম জটিল পরিস্থিতিতে তাই ব্যক্তির কাছ থেকে মেরুদণ্ড প্রদর্শনের আশা না করে আমাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের দিকে যেতে হবে। একক কোনো ব্যক্তি যেহেতু এই সর্বনাশা শক্তির সামনে টিকতে পারবে, আমাদের সবাইকে একত্রিত হয়ে এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। এই লড়াইটা করতে পারলে হয়তো মৌলবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতাকে এখনো রুখতে পারি আমরা। প্রয়োজন হচ্ছে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করা, দেশের রাজনৈতিক চর্চাকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনা।

সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হচ্ছে বহতা নদীর মতো। এই নদী যখন কুলকুল করে বয়ে চলে, এর দু'পাশে জন্ম নেয় সবুজ ফসলের সমারোহ। এই ধারাটা বন্ধ হয়ে গেলে বদ্ধ পানিতে জন্ম নিতে থাকে মৌলবাদের আগাছা। সুস্থ রাজনৈতিক ধারাটাকে ফিরিয়ে আনতে না পারলে, গণতন্ত্রকে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেবার সুযোগ করে না দিতে পারলে, এই দেশের আশা ছেড়ে দেওয়াটাই ভালো। এটা ইরান আফগানকেও টপকে যাবে প্রতিক্রিয়াশীলতা এবং মৌলবাদিতায়। উর্বর এই ভূমিতে তখন চাষ হবে অজ্ঞানতা, অবিমিশ্রতা, অকল্যাণ এবং অকুশলতায়। অদ্ভুত এক আঁধিয়ার এসে ছেয়ে ফেলবে আমাদের আঙিনা।

লেখক: ফরিদ আহমেদ, ব্লগার

লেখকের ফেসবুক থেকে নেয়া


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান