সৃষ্টিশীল চেতনায় জাগ্রত হোক তারুণ্য

Sun, Oct 18, 2020 9:46 PM

সৃষ্টিশীল চেতনায় জাগ্রত হোক তারুণ্য

জুলফিকার বকুল :সৌন্দর্য,সজীবতা ও জীবনীশক্তির উদ্দীপনায় মিশ্রিত সম্মিলিত রুপের বৈশিষ্ট্য নিয়েই তো জেগে উঠে তারুণ্য। তারুণ্যের সংজ্ঞা কখনও সময়ের সাথে বা নির্দিষ্ট কোন বয়সের সীমারেখায় বেঁধে বর্ণনা করা যায় না।যুগে যুগে তারুণ্যের গতিময়তায় গতিশীল থেকেছে পৃথিবী। তরুণরাই জয় করেছে মহাসমুদ্র থেকে মহাকাশের জাগতিক বিশ্বকে।তাই তরুণরাই পারে আলোকিত বিশ্ব গড়তে।স্বপ্ন দেখাতে পারে ক্ষত-বিক্ষত হৃদয় নিয়ে বয়ে চলা সীমাহীন গন্তব্যের ক্লান্ত পথিককে।

তরুন সমাজ আজ জ্ঞান ও অদম্য সাহসে পরিপূর্ণ। বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির সংস্পর্শে এসে বিশ্বায়নের যুগে খুব কাছে থেকে বিশ্বকে দেখছে নিবিড়ভাবে।যা তারুণ্যের তেজদীপ্ত রক্ত প্রবাহে অজানাকে জানার তীব্র আগ্রহ সৃষ্টি করছে অবিরত। কিন্তুু কোথায় কাজী নজরুলের সেই তারুণ্যের দল? 'কে আছো জোয়ান,হও আগুয়ান।' কোথায় কবি গুরুর 'ওরে নবীন,ওরে আমার কাঁচা?' সময় এসেছে তরুণদের নতুন করে জেগে উঠার।আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে, বিশ্ব বৈচিত্রের স্বরুপ দর্শন করে দেশ ও জাতিকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার প্রজ্ঞা তো তরুনদের মধ্যেই প্রতিফলিত হওয়ার কথা। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ, সব ক্ষেত্রেই তরুণদের ভূমিকা মূখ্য ছিল। সে দিনের সেই তরুণরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে পাকিস্তানি শোষক গোষ্ঠীকে পরাজিত করে ছিনিয়ে এনেছিল লাল সবুজের পতাকা। স্বপ্নের বাংলাদেশ।

আজ বিশ্ব দরবারে প্রদীপ্ত শিখায় উদীয়মান সূর্যের ন্যায় আলোকিত প্রিয় মাতৃভূমি। প্রযুক্তির সাথে শিক্ষা,গবেষণা ও সংস্কৃতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।দেশের এ উন্নয়ন যেমন ধরে রাখা প্রয়োজন তেমনি সম্মান,গৌরব, মর্যাদা ধরে রাখাটাও একান্ত জরুরি। আর এই মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে তরুণদের ভূমিকা অগ্রগণ্য।

প্রতিটি পাড়া,মহল্লায় তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্নীতি, খুন,ধর্ষণ তথা সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। নিজে সমস্ত অন্যায়ের উর্ধ্বে থেকে সমাজে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরীতে জোড়ালো ভূমিকা রাখতে হবে।মনে রাখতে হবে একমাত্র কল্যাণকর কাজের মধ্য দিয়েই মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করা যায়।আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তারা নিজেরা যখন কর্মে আত্মনিয়োগ করবে তখন অন্যরাও উৎসাহিত হবে।নারী অধিকার নিশ্চিত করার নিমিত্তে যথাযথ সম্মান ও কামনাহীন দৃষ্টি নিয়ে নারীর পাশে দাঁড়াতে হবে।সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চা, ধর্মীয় রীতিনীতির মধ্য দিয়ে দেশপ্রেম বুকে লালন করে মানব সেবায় মনোনিবেশ করলে অপরাধ থেকে দূরে থাকা যায়।তরুণদের ভাবাদর্শ ও মানব দর্শন সঞ্চালিত হয় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের চেতনায়।তাই নতুন প্রজন্মের মাঝে ইতিবাচক তারুণ্যের অনুপ্রেরণা হয়ে বেঁচে থাকাটাও তরুণদের প্রত্যাশিত কামনা হওয়া উচিত।

একটা সময় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগ নিরক্ষর থাকা সত্ত্বেও সমাজে শান্তি বিরাজ ছিল।মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ছিল।তাদের মধ্যে আত্মসম্মানবোধ কাজ করতো।তবে কি আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা মানবিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে? বয়সের মাপকাঠিতে কখনও মানুষ মূল্যায়িত হয় না।চেতনাবোধ,মূল্যবোধ,দক্ষতা ও সততা দিয়ে মানুষ মূল্যায়িত হয়।তরুনদের স্বশিক্ষিত হয়ে মানবিক গুণাবলীর দ্বারা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় মানুষ আরামপ্রিয় ও সহজলভ্য জীবন যাপন করছে।তাই বিজ্ঞানের আবিস্কার হবে সবসময়ই আশীর্বাদ স্বরুপ। কিন্তু এটাকে মানব কল্যাণে প্রয়োগ না করে যদি আমরা অপব্যবহার করি তাহলে তা হবে আত্মঘাতী। ফেসবুক, ইন্টারনেট তরুণ প্রজন্মের কাছে দুর্গম পথ চলার প্রিয় সঙ্গী হতে পারে।কিন্তুু তা তারুণ্য মনকে পথভ্রষ্ট তো করতে পারেনা! কিন্তুু অবাক লাগে তখনই, যখন পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তরুণের নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয়ের চিত্র উঠে আসে।তারুণ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়।স্থবির হয়ে যায় মন।মনে প্রশ্ন জাগে,উত্তাল তরঙ্গের মাঝে কে উড়াবে নৌকার পাল?

হাজারো কষ্টের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা।যা মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তারুণ্যের চিন্তা ও সৃষ্টিশীল চেতনায় সোনার বাংলা বিনির্মানের স্বপ্ন ও সাধনা চির জাগ্রত হয়ে উঠুক।গড়ে উঠুক স্বপ্নজয়ের আগামীর সম্ভবনাময় নতুন বাংলাদেশ।

লেখক: জুলফিকার বকুল,শিক্ষক, ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল, গাজীপুর।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান