উইনিপেগে  নির্মিত হচ্ছে উত্তর আমেরিকার প্রথম পূর্ণাঙ্গ শহিদ মিনার

Thu, Oct 15, 2020 7:48 PM

উইনিপেগে  নির্মিত হচ্ছে উত্তর আমেরিকার প্রথম পূর্ণাঙ্গ শহিদ মিনার

হেলাল মহিউদ্দিন: কানাডার উইনিপেগে ইতিহাস রচিত হতে চলেছে। ম্যানিটোবা প্রদেশের রাজধানী উইনিপেগে উত্তর আমেরিকার প্রথম পূর্ণাঙ্গ শহিদ মিনারটির নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আশা করা যায় ডিসেম্বরের মধ্যেই সকল নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।

উইনিপেগের কার্কব্রিজ পার্ক একটি বর্ধিষ্ণু কমিউনিটি পার্ক। ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনতিদূরে একটি অভিজাত আবাসিক এলাকার মধ্যে পার্কটি অবস্থিত। এই পার্কের একটি ছোট ডাক পণ্ড [বালিহাসদের জন্য পুকুর] লাগোয়া স্থানকে চত্ত্বরটি নির্মাণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

উইনিপেগের বাংলাদেশিদের কয়েক বছরের আন্তরিক নিরলস প্রচেষ্টার ফসল এই শহিদ মিনারটি। ম্যানিটোবার প্রাদেশিক সরকার এবং উইনিপেগের নগর কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটির সিংহভাগ ব্যয় বহন করছে। রয়েছে বাংলাদেশিদের অর্থসাহায্যও। গত কয়েক বছরে একাধিক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উইনিপেগের বাংলাদেশিদের অর্থ-সহায়তার সংস্থান হয়। চত্বরটির নির্মাণব্যয় বাংলাদেশি মুদ্রার অংকে ১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

কাঠামোগুলোকে শীতসহিষ্ণু ও পরিবাশবান্ধব রাখার প্রয়োজনে গ্যাল্ভানাইজড স্টিলে মূল মিনারগুলো নির্মিত হবে। বেদি ও চারপাশের এলাকা্য থাকবে কংক্রিট ও পাথরের নান্দনিক মিশ্রণ। সবুজ শীতসহিষ্ণু গুল্ম আচ্ছাদিত থাকবে চত্বর সীমানা। কানাডার আদিবাসী ভাষা-চিহ্নের স্মারক প্রস্তরের গাথুনিও থাকবে মূল বেদিতে।

উইনিপেগ শহরটি নানা কারণে বিশেষত্বপূর্ণ। শহরটি কানাডার তিনটি প্রেইরি প্রদেশের মধ্যে সবচাইতে বড় সমতলভূমি। তার চাইতেও গুরুত্বপুর্ণ বিষয় এই যে শহরটি উত্তর আমেরিকার ‘জিরো পয়েন্ট’। কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে একটি বৃত্ত আঁকলে কেন্দ্রবিন্দুটিই উইনিপেগ।

শহরটির আরো বিশেষত্ব এই যে পৃথিবীর একমাত্র মানবাধিকার যাদুঘরটিও উইনিপেগেই। যাদুঘরটির কারণে ম্যানিটবার মানবাধিকার কর্মীগণ উইনিপেগকে ‘জেনেভা অব হিউম্যান রাইটস’ বা ‘মানবাধিকারের জেনেভা’ নামেও উল্লেখ করতে শুরু করেছেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা চত্বরটি একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হবার পাশাপাশি এলাকাটিকে একটি সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রে পরিণত করবে বলে আয়োজকদের বিশ্বাস।

লেখকের ফেসবুক পোষ্ট থেকে


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান