ঢাকার মানুষের করোনা অ্যান্টিবডি নিয়ে কথা

Mon, Oct 12, 2020 2:43 PM

ঢাকার মানুষের করোনা অ্যান্টিবডি নিয়ে কথা

রুবায়েত হাসান তানভি : ঢাকায় ৪৫% মানুষের করোনা অ্যান্টিবডি পজিটিভ, বস্তিতে ৭৪%!!! খুব উৎসাহব্যাঞ্জক একটিও সংবাদ বাংলাদেশের মানুষের জন্য ! এই সংবাদের সঠিক বিশ্লেষণ করার জন্য বিস্তারিত কোনো তথ্য পাচ্ছিনা। ঢাকা শহরের বিভিন্ন মহল্লা ও বস্তি থেকে বারো হাজারের বেশি মানুষের নমুনা র্যান্ডম স্যাম্পলিং করে পরীক্ষা করা হয়েছে। ধরে নিচ্ছি যে টেস্ট দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে তার সেনসিটিভিটি ও স্পেসিফিসিটি আগেই নিশ্চিত করে নেওয়া হয়েছে। ঠিক নিশ্চিত না, আরটি-পিসিআর এবং এন্টিবডি টেস্ট দুটোই করা হয়েছে কিনা। কিন্তু এন্টিবডি টেস্টভিত্তিক তথ্য যদি নির্ভরযোগ্য হয়, অন্তত এসব বস্তি এলাকা তে হার্ড (herd) ইমিউনিটি চলে আসার কথা!

বাংলাদেশে অপর্যাপ্ত আরটি-পিসিআর টেস্টভিত্তিক পরিসংখ্যানের উপর আস্থা ছিলোনা প্রথম থেকেই, কিন্তু এই জরিপের মাধ্যমে বেরিয়ে আসলো যে বাস্তব অবস্থার সাথে তার ফারাক কত। ভেবে দেখুন ঢাকা শহরের লোকসংখ্যা কত আর তার শতকরা ৪৫ ভাগ কত! যাহোক এন্টিবডি টেস্ট ভিত্তিক এই কমিউনিটি সার্ভে অত্যন্ত জরুরি ছিল। অনেকদিন ধরেই এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে লিখছিলাম। ইউএসএ আইডি এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এর অর্থায়নে আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআরবি র উদ্যোগে করা এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি কে স্বাগত জানাই।  জরুরি ভিত্তিতে এই জরিপের আরো সম্প্রসারণ প্রয়োজন সারা দেশ জুড়ে। যত বেশি মানুষকে এই জরিপের আওতায় আনা যাবে তত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাব। আর যত কম ক্ষতিতে যত বেশি মানুষ এন্টিবডি পজিটিভ হবেন মহামারী ঠিক ততখানিই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা যায়। 

কোভিড - ১৯ করোনাভাইরাসের স্বল্পমেয়াদি ইমিউনিটি ও দ্বিতীয়বার ইনফেকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু এমুহুর্তে স্বল্পমেয়াদি ইমিউনিটিও মহামারী নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এতে ভাইরাসের ট্রান্সমিশনে একটা ছেদ পড়ব। এবং নতুন অরক্ষিত হোস্ট এর অভাবে ক্রমশ  বিলীন হয়ে যাবে। তাছাড়া একবার ইমিউন হয়ে গেলে, ইমিউনিটি দীর্ঘস্থায়ী না হলেও, দ্বিতীয়বার ইনফেকশনেও শরীর দ্রুত রেস্পন্স করবে এবং রোগীর প্রথম বারের তুলনায় হালকা উপসর্গ বা উপসর্গহীন থাকার সম্ভাবনাই বেশি । শতকরা ৪৫ ভাগ থেকে ৭০ ভাগ খুব দূরে না বলেই শোনায় । তাই এমুহুর্তে নিশ্চিত করে জানা প্রয়োজন হার্ড ইমিউনিটি থেকে এদেশের মানুষ আসলেই কত দূরে? ভ্যাকসিন আসার আগেই কি জাতি হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করবে? কিন্তু এই সম্ভাবনার মানে কিন্তু এই না যে মাস্ক পড়া বা ঘন ঘন হাত ধোয়া বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ছেড়ে দিতে হবে । মনে রাখতে হবে এখনো সরকারি হিসেবেই দৈনন্দিন ২০-৩০ জন মৃত্যু বরণ করছে। মহামারী প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ছাড় দিলে এখনো অনেক বিরাট ক্ষতি হবার ঝুঁকি রয়েছে। বরং ধীর স্থির ভাবে কম ক্ষতিতে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের আশায় বুক বেঁধে আরো উৎসাহের সাথে নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন।

লেখকের ফেসবুক পোষ্ট


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান