আনিসুল হকের ‘মা’ উপন্যাস নিয়ে কথা

Sun, Sep 20, 2020 1:52 PM

আনিসুল হকের ‘মা’ উপন্যাস  নিয়ে কথা

মোঃ কামাল উদ্দিন : মা - আনিসুল হক

সময় প্রকাশন, প্রথম প্রকাশ

বই মেলা ২০০৩, মূল্য - ১৫০/- টাকা

উৎসর্গঃ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নিযুত শহীদদের প্রত্যেকের মা'কে।

লেখক আনিসুল হক তাঁর প্রোফাইলে লিখেছেন - বইটির ১০০ তম মুদ্রণের কাজ চলছে। বইটির প্রথম প্রকাশ হয়েছিল ২০০৩ সালে। ম্যাক্সিম গোর্কির - মা, শওকত ওসমানের - জননী ও আনিসুল হকের - মা, এই তিনটি উপন্যাসই "মা"কেন্দ্রিক। লেখক ভূমিকায় "সবিনয় নিবেদনে" উল্লেখ করেছেন - মুক্তিযোদ্ধা নাট্যজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর কাছ থেকে তিনি উপন্যাসের কাহিনী শুনেছেন। এরপর এ গল্প তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। ঈদ সংখ্যা প্রথম আলোয় ২০০২ এ সংক্ষিপ্ত রূপ প্রকাশ হয়। সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত এ উপন্যাস।

৩১শে আগষ্ট ১৯৮৫ সালে জুরাইন কবরস্থানে আজাদের মা'র দাফনের ঘটনা দিয়ে উপন্যাসের শুরু। আজাদ শহীদ হবার ১৪ বৎসর পর আজাদের মা মারা যান। এই ১৪ বৎসর তিনি ভাত খাননি, বিছানায় ঘুমাননি। দিনে একবেলা রুটি খেয়েছেন। শীত, গ্রীষ্ম বারো মাস ফ্লোরে ঘুমিয়েছেন। একাত্তরে রমনা থানায় আজাদ মা'র কাছে ভাত খেতে চেয়েছিল। পরদিন তিনি রমনা থানায় ভাত নিয়ে গিয়ে ছেলের দেখা পান নাই। স্বাধীনতার পর দিন অপেক্ষায় থেকেছেন ছেলের জন্য। আজাদ ছিল তাঁর মা সাফিয়া বেগমের একমাত্র সন্তান বা "অন্ধের যষ্ঠী"। আজাদি আজাদি বলে ভারতবর্ষে যখন শোর উঠেছিল তখন সাফিয়া বেগমের পুত্র সন্তান হলে নাম রাখা হয় আজাদ। আজাদের জন্ম ১১ই জুলাই ১৯৪৬।

একাত্তরের যুদ্ধের বিভৎসতায় আজাদের মনে যে প্রতিক্রিয়া হয় তা লেখক আমাদের জানান যে, "আজাদ আর খলিল এক সঙ্গে ভাত খেতে বসে। খলিল এমনভাবে গোগ্রাসে খেতে থাকেন যে কতদিন তিনি খান না। আজাদ ভাতের থালায় ভাত নাড়ে-চাড়ে, কিন্তু ভাত তুলে মুখে দিতে পারে না। তার নাকে এসে লাগে লাশের গন্ধ"।

আজাদের পিতা ছিলেন ঢাকার শ্রেষ্ঠ ধনীদের একজন। আজাদের পিতা দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে আজাদের দৃঢ়চেতা মা আজাদকে নিয়ে স্বামী সঙ্গ ও স্বামীর বাড়ি ত্যাগ করেন। অতিথি পরায়ণ, আপোষহীন ও অনমনীয় চরিত্রের অধিকারিণী আজাদের মা আজাদকে নিয়ে জীবনে একাই বন্ধুর পথ অতিক্রম করেছেন। সাহসী এ নারী জীবন যুদ্ধে লড়ে তিনি পাঠক হৃদয়ের ভালোবাসা কেড়ে নেন। তিনি এক মহীয়সী মা। আজাদ ও আজাদের মা কেন্দ্রিক এ উপন্যাসের নামকরণ "শহীদ আজাদের মা" হলে মনে হয় যথার্থ হতো। কারণ - তাঁর কবরের নাম ফলক "শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আজাদের মা"।

 


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান