ডাক্তারদের সুরক্ষা পোশাক প্রশাসনের লোজন কেন পরবে?

Fri, Mar 27, 2020 2:04 AM

ডাক্তারদের সুরক্ষা পোশাক প্রশাসনের লোজন কেন পরবে?

ইমতিয়াজ মাহমুদ: (১)বেসামরিক প্রশাসনের লোকজন, যারা চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী নন এরা সব ডাক্তারদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক পরে অফিস করছেন লাইন ধরে পোজ দিয়ে ফটো তুলছেন। এইসব ফটো কি সত্যিই? নাকি ছেলেপিলেরা ঠাট্টা তামাশার জন্যে বানিয়েছে? ঠাট্টা তামাশা তো মনে হচ্ছে না। কিন্তু এটা কি হচ্ছে? প্রশাসনের লোকজন এইসব পোশাক পরে অফিস করবেন কেন? এটা তো বুঝতে পারছি না। ওরা কি বেকুব নাকি?

 

ডাক্তার সাহেবেরা চিৎকার করছেন যে আমাদেরকে সুরক্ষা পোশাক দেওয়া হোক, নার্সরা অরক্ষিত- যতক্ষণ কাজে থাকে ওরা সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে। ডাক্তারদেরকে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পোশাক আমাদের নেই। কেবল আমাদের বলে কথা নয়, সারা দুনিয়াতেই এখন এইসব পোশাকের সংকট চলছে। বিদ্যুতগতিতে সংক্রমণ হয় এই ব্যাধিটির। এই সময়ে ডাক্তার নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে রক্ষা করা আমাদের জন্যে এখন সবচেয়ে জরুরী। এই কথাটা তো দেশের সবচেয়ে বেওকুফ বেল্লিকটাও বুঝার কথা। এখন যারা এইসব ঠাট্টা তামাশা করছে ওদের তো একটা লিস্টি করা দরকার। নাকি?

 

শোনেন, দুনিয়াতে সকল পেশা সকল কাজই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সময় অসময় আছে। যদি যুদ্ধ লাগে, তাইলে মিলিটারিদেরকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হয়। আজ যদি বাংলাদেশের সাথে কারো যুদ্ধ লেগে যায়, তাইলে হয়তো দেখা যাবে এই ইমতিয়াজ মাহমুদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে বিশ বছর ওকালতি করার অভিজ্ঞতা ইত্যাদি নিয়ে একজন সুবেদার মেজরের অধীনে কান্ধে একটা রাইফেল নিয়ে দৌড়াচ্ছে। একজন হাবিলদার এসে বলবে এটেনশন, আপনি খাড়া হয়ে যাবেন। এইটাই নিয়ম, এইটাই করতে হয়- এরকম উদাহরণ আপনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাবেন। দেখবেন যে বিশিষ্ট সব লোকজন মিলিটারির ফুট সোলজার হয় কাজ করেছে।

 

(২) এখন তো লোকে বলছে যে আমরা একটা যুদ্ধে আছি। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও নাকি এইরকম বলেছেন (নিজের কানে শুনিনাই, অপরের মুখে শুনেছি- তথ্য ভুল হলে মাফ চাই)। করোনার বিরুদ্ধে এইটাকে যদি যুদ্ধই বলেন তাইলে আমাদের জেনারেল বলেন আর ফুট সোলজারই বলেন এরা তো ডাক্তার সাহেবেরা। কামান বন্দুক আরমার্ড কার ট্যাংক এইসব তো উনাদের কাছে থাকবে। ওরা আমাদেরকে রক্ষা করার জন্যে যা কিছু করার করবেন। ফ্রন্টে তো ওরা আছেন। আপনি টিএনও এসডিও ডিসি আপনারা এইসব পরে বসে আছেন কেনে? পাগল নাকি!

 

শোনেন, ডাক্তার সাহেবদেরকে রক্ষা করেন। ওরা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা করছেন। ওদের সাথে যারা আছেন, নার্স ও অন্যান্য কর্মীরা, ল্যাব কর্মীরা এমন কি হাসপাতাল বা ডাক্তারখানার ক্লিনার বা দারওয়ান মালী এরাও আছেন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা করছে বলেই নয়- ওরা তো এখন সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যেও আছেন আরকি। সবচেয়ে এসেনশিয়াল সার্ভিসটা ওরা দিচ্ছেন এবগ্ন সেই সাথে সবচেয়ে ভালনারেবল অবস্থায় ওরা আছেন। ওদের কাছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পোশাক নাই আর আপনারা বসে আছেন সেগুলি পরে এটা কি ধরণের নিষ্ঠুরতা! ঠাট্টা পেয়েছেন নাকি?

 

না, যদি আপানরা হাসপাতালে যান বা এমন জায়গায় যান যেখানে সংক্রমণের সম্ভাবনা আছে সেটা আলাদা কথা। এরকম তো হয়। মন্ত্রীরা যায় বা বড় আমলারা যায় হাসপাতালে, তখন ওদেরকে সুরক্ষা পোশাক পরিয়ে দেওয়া হয়। এমনি সাধারণ সময়েও হাসপাতালের বিশেষ কোন উনিতে ঢুকলে দেখা যায় যে সাধারণ মানুষদেরকেও ওরা অপারেশনের ঐসব গাউন ফাউন পরিয়ে দেয়, মুখোস বেঁধে দেয়। এই অভিজ্ঞতা আমার আছে, অনেকেরই আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরও ছবি দেখেছি, পিজিতে তিনি কাকে যেন দেখতে গিয়েছিলেন, তাঁকেও ওরা ঐ পোশাক পরিয়ে দিয়েছে। সেগুলি তো আলাদা কথা। কিন্তু এমনি এমনিই আপনারা ঐসব পরে বসে থাকবেন নাকি?

 

(৩)

বলবেন যে টিএনও সাহেবদেরও তো সংক্রমণের ভয় আছে। সেটা তো ভাই আমারও আছে- কিন্তু ডাক্তারদের মতো ঐরকম তো না। সেটার জন্যে আপনি মাস্ক পরবেন, হাত ধোবেন, আর করমর্দন করা থেকে বিরত থাকবেন। তাছাড়া অফিসের কারো সাথে শারীরিকভেব ঘনিষ্ঠ হবেন না বা ব্যাংক নোট বেশী ঘাটাঘাটি করবেন না। এইটা করলেই হয়। ডাক্তারদের মতো ঐসব পোশাক তো আপনাদের দরকার নাই। না, যদি এমন হয় যে দেশে অনেক ঐরকম সুরক্ষা পোশাক হয়ে গেছে, হাতে মাঠে ঘাটে পাওয়া যাচ্ছে, সেটা হলে আলাদা কথা। তখন তো আমিও এক পিস কিনে নিয়ে সেটা পরে ফটো উটো তুলবো আরকি।

 

কিন্তু এখন তো ডাক্তার ও তাদের কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে এরকম কিছু করা ঠিক না। শুধু নিরাপত্তা পোশাক নয়, ওদের জন্যে যাতায়াত থাকা খাওয়া সেগুলিরও তো বিশেষ ব্যাবস্থা করা দরকার। কাল দেখলাম কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল থেকে এক ডাক্তার ম্যাডাম ডিউটি শেষ করে হেঁটে হেঁটে বাড়ীর দিকে রওনা দিয়েছেন। এটা তো ঠিক না। উনাদের জন্যে এখন সার্বক্ষণিক গাড়ী থাকবে না কেন?

 

প্রয়োজনে প্রতি জেলায় ডিসি সাহেবদের পুল থেকে কয়েকটা গাড়ী নিয়ে নেন না কেন? উনাদের তো বেশ কিছু বাড়তি গাড়ী থাকে আরকি। এছাড়া অন্যান্য অফিসারদের সরকারি গাড়ী বা ভালো ভালো বেসরকারি গাড়ীও রিকুইজিশন করে নিতে পারেন। সেগুলিকে স্টেরিলাইজ করে দরোজা জানালা আটকে এয়ার কন্ডিশন্ড ঠিকঠাক রেখে ডাক্তারদের জন্যে বরাদ্দ করেন।সাথে গাড়ীর ছাদে একটা করা সাইরেন লাগিয়ে দেন। যখনই কোন এলাকা থেকে করোনা সংক্রান্ত কোন খবর পাওয়া যাবে, সাথে সাথে ডাক্তার আর তাদের সহকারীদের একটা দল দৌড়ে যাবে ঘটনাস্থলে।

 

(৪) করে দেখেন না এটা। সাইরেনওয়ালা গাড়ী থাকবে, যন্ত্রপাতি বা প্রাথমিক ঔষধপত্র থাকবে, নিরাপত্তা পোশাক থাকবে, সাথে পুলিশ বা মিলিটারি থাকবে ওদের অধীনে- দেখেন না ডাক্তার সাহেবেরা তখন কি করেন! এখন তো আপনার সর্দি জ্বরেও নাকি ডাক্তারদেরকে খুঁজে পান বা বলে নাকিস্বরে কাঁদেন, তখন দেখবেন ডাক্তার সাহেব আর ডাক্তার ম্যাডামরা বাড়ী বাড়ী গিয়ে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে আপনাকে খুঁজবে, কই এখানে নাকি করোনার একটু ইয়ে পাওয়া গেছে, দেখি!

 

বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে আপনি অফিস করবেন আর ক্যাপ্টেন সাহেবকে বলবেন, শত্রুর কামান মোকাবেলায় যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে যাও! এইটা তো হয়না রে ভাই।

 


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান