জি কে শামীমের জামিন কি আসলেই গোপনে হয়েছে?

Sat, Mar 7, 2020 1:57 PM

জি কে শামীমের জামিন কি আসলেই গোপনে হয়েছে?

নতুনদেশ ডটকম : মাদক ও অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হ্ওয়া জি কে শামীমের জামিন  পা্ওয়া নিয়ে নানা আলোচনা, মমালোচনা হচ্ছে।  সেটি হচ্ছে জামিন পা্ওয়ার প্রায় এক মাস পর। এই এক মাসে এই জামিনের তথ্যটিই কারো জানা ছিলো না, মিডিয়ারও না। শামীমের জামিনের খবর মিডিয়ায় প্রকাশিত হ্ওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ বলছে – তারা এই ব্যাপারে কিচুই জান তো না। আসলেই কি তাই? রাষ্ট্রপক্ষকে অন্ধকারে রেখেই কি জি কে শামীমের জামিন হয়েছে?

গত ৪ ও ৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চ থেকে জামিন হয়েছে বলে শনিবার বিকেলে ঢাকার দৈনিক সমকালকে জানিয়েছেন তার আইনজীবী শওকত ওসমান।  সমকালের রিপোর্টে বলা হয়েছে, কমাস আগে হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চ থেকে জামিন হলেও রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। অথচ, রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থিতি ছাড়া কখনই আদালতে মামলার শুনানি হয়না।

এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মুজিবুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৬ ফেব্রুয়ারি জি কে শামীমকে অস্ত্র মামলায় ৬ মাসের জামিন মঞ্জুর করেন।

এছাড়া বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি ভীস্মদেব চক্রবর্তী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ গত ৪ ফেব্রুয়ারি মাদক মামলায় ৬ মাসের জামিন দেন বলে সমকালকে জানিয়েছেন জি কে শামীমের আইনজীবী শওকত ওসমান। পাশাপাশি এ দুটি মামলায় তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে সংশ্নিষ্ঠদের প্রতি রুলও জারি করেন হাইকোর্ট। জি কে শামীমের জামিনের লিখিত আদেশ প্রকাশিত হয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি।

দুই দুইটি আদালত জি কে শামীমকে কেবল জামিনই দেয়নি, সরকারের বিরুদ্ধে রুলও জারি করেছে। তার পরেও সরকার পক্ষের হাতে এই বিষয়ে কোনো তথ্য না থাকার কথা কি বিশ্বাযোগ্য? আদালতের রুলের কপিও কি তাদের কাছে পৌঁছে নি? পৌঁছে থাকলে তারা কি এই ব্যাপারে কোনো খোঁজ খবর করেছেন? সমকালের রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের দৈনন্দিন কার্য তালিকায় দেখা গেছে, জি কে শামীমের জামিন আবেদনটি এস এম গোলাম নামে ১৩৫ নম্বর আইটেম হিসেবে ছিল।

সমকালের তথ্য অনুসারে, জামিনের বিষয়টি গোপনে হয়নি, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই আদালতে সম্পন্ন হয়েছে।

 সংশ্লিষ্ঠ বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এফ আর খান সমকালকে  জানিয়েছেন, এমন খবর তিনি সাংবাদিকদের কাছ থেতে শুনেছেন। এই ব্যাপারে জানার জন্য শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফার ডটকম তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “অনেকেই আমাকে ফোন দিচ্ছে। তবে আমার জানা মতে জি কে শামীমের কোনো মামলার বেইল এই কোর্ট থেকে হয়নি। কেউ যদি অন্যভাবে করে থাকে, সেটা তো আমরা দেখতে পারব না।”

সুপ্রিম কোর্টের কোনো আইনজীবী জি কে শামীমের জামিন নিয়ে এই আদালতে গিয়েছিলেন কি না- জানতে চাইলে ফজলুর বলেন, “সেদিন দেখলাম মানি লন্ডারিংয়ের মামলার বেইল পিটিশন নিয়ে গেছিল। আমি বললাম যে জুরিসডিকশন (এখতিয়ার) নাই।”

মমতাজ উদ্দিন মেহেদীসহ কয়েকজন আইনজীবী ফেব্রুয়ারিতে আবেদন নিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

আ্ওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের নেতা মমতাজ উদ্দিন মেহেদী ফেব্রুয়ারি মাসে জি কে শামীমের জামিন আবেদন নিয়ে আদালতে গিয়েছিলেন সেই তথ্যটি ডেপুটি এটর্নী জেনারেলের জানা আছে। সেই আবেদন নিয়ে শুনানী হয়েছে কী না, সেই শুনানীতে রাষ্ট্রপক্ষের কেউ উপস্থিত ছিলেন কী না- এই সব তথ্য অবশ্য জানা যায়নি।

 বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটক মমতাজ উদ্দিন মেহেদীর কাছে জানতে চাইলে জি কে শামীমের জামিনের বিষয়টি স্বীকারও করেননি, অস্বীকারও করেননি।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্টের কোনো বেঞ্চ থেকে জি কে শামীমের জামিন করিয়েছেন কি না- এ প্রশ্নে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “না দেখে বলতে পারব না, ফাইল দেখতে হবে। কখন কোন মামলা করি, কখন কোন মামলায় দাঁড়াই- না দেখে বলতে পারব না।”

 

জি কে শামীমের পক্ষে মামলায় লড়ছেন কি না- জানতে চাইলে মেহেদী বলেন, “আমি কিছুই বলতে পারব না এখন। হইতেও পারি। কোনো তো সমস্যা নাই। তার আইনজীবী হতে তো কোনো বাধা নাই।

“সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে আমি তার (জি কে শামীমের) মামলা করি এবং তার মামলা আসলে আমি করব, এটুকু বলতে পারি। এ ধরনের মামলা করার ক্ষেত্রে আমার কোনো আপত্তি নাই।”

সংবাদপত্রে প্রকাশিত  বিভিন্ন তথ্যাদি পাশাপাশি রাখলে  পরিষ্কার হয়ে যায় জি কে শামীমের জামিন গোপনে  হয়নি। আদালতের  বিধি মোতাবেকই হয়েছে বলে ধারনা পা্ওয়া যায়।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান