মহান একুশ ‘হালাল’ হয়েছে, হুজুরদের বিরোধিতা কমবে!

Sat, Feb 8, 2020 1:21 AM

মহান একুশ ‘হালাল’ হয়েছে, হুজুরদের বিরোধিতা কমবে!

শিতাংশু গুহ:  হাফেজ-ক্বারী আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ এবার ‘গবেষণায়’ একুশে পদক পেয়েছেন। তিনি চট্টগ্রামের মানুষ। শ্বশুরবাড়ীর একজন একুশে পেয়েছেন শুনে মনটা আনন্দে ভরে গেছে। হুজুরকে দূর থেকে ‘মোবারকবাদ’ জানাই। আরো আনন্দ পেতাম যদি ‘শফি হুজুর’ মহান একুশ পেতেন। বাংলাভাষা আন্দোলন ও গবেষণায় যৌবনে দু’জনে অনেকটা সময় ব্যয় করেছেন! সমাজের জন্যে এদের অবদান অপরিসীম। আগে এদের স্বীকৃতি দেয়া হতোনা। এখন হচ্ছে, এটি খুশির বিষয়। শফি হুজুরকে স্বাধীনতা পুরুস্কার দেয়া যেতে পারে, কারণ তাঁর অবদান ঢের বেশি। শুনলাম, নিজামী শাহ ছাড়াও শফি হুজুরের আর এক সাকরেদ এবার একুশ পেয়েছেন। ডবল খুশি। অনেক হুজুর আগে ‘একুশ’ বা ‘একুশে পদক’র সমালোচনা করতেন, আশা করা যায়, এবার তাঁরা থামবেন, কারণ একুশ এখন ‘হালাল’ হয়ে গেছে! 

 

হাফেজ-ক্বারী আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ’র গবেষণার বিষয় কি আমার জানা নেই, থাকলে পড়ে কিছুটা জ্ঞানার্জনের চেষ্টা করতাম। তবে ওনার নামটি চমৎকার, এতে কিছুটা  ‘পরহেজগার’, ‘পরহেজগার’ ভাব আছে? নিশ্চিত জানিনা, তবে হয়তো ওনার পূর্ব-পুরুষ সৌদি আরব থেকে এসেছেন! ওনাকে একুশে’র সম্মানে ভূষিত করা ‘সোয়াবের’ বিষয়, যাঁরা তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করেছেন, তাদের ধন্যবাদ, এই পুন্য কর্মের জন্যে হয়তো তাঁদের ‘বেহেস্ত’র দরজাটা একটু বেশি খোলা থাকবে। এই কমিটি আমাদের মত সাধারণ মানুষের একটি বিরাট উপকার করেছেন, একুশ না পেলে আমরা সাধারণ মানুষ নাম দেখে বুঝতেই পারতাম না যে উনি ‘বাঙ্গালী’।

 

নামে বা পোশাকে কিচ্ছু যায়-আসেনা। ওনার নামটি যতটা লম্বা, তিনি ঠিক ততটা বাঙ্গালী। তাঁর নামের মধ্যে একটা বাদশাহী ভাব আছে? বিশ্বাস না হলে সৌদি বাদশা’র নাম মিলিয়ে দেখুন। তার নাম: সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সউদ। একটু ছোট হয়ে গেলো? কুয়েতের আমীরের নাম, শেখ সাবাহ আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ। তবে নিজামী শাহ, তার নামের সাথে ‘বিন’ শব্দটি লাগিয়ে তাঁর পিতাকে সন্মান দিতে পারতেন, একই সাথে তাঁর নামের দৈর্ঘ্য ও সৌন্দর্য্য আরো একটু বাড়তো। প্রসঙ্গত: ‘বিন’ বা ‘বিনতে’ শব্দের সীমিত ব্যবহার বাংলা ভাষায় আছে, এর শাব্দিক অর্থ ‘অমুকের পুত্র বা কন্যা’।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ‘গীতাঞ্জলী’র জন্যে। একটি ম্যুভি যখন অস্কার পায়, তখন ছবিটি’র নামটি থাকে। দর্শক তা দেখে। একুশে কমিটি যখন কাউকে পুরুস্কার দেন, তখন তাঁর ঠিক কোন কাজের জন্যে পুরস্কারটি দিলেন, তা জানানো উচিত। কমিটি হয়তো কোথাও দিয়েছেন, বলছি, আরো ঢালাওভাবে দিলে মানুষের সুবিধা হয়, তাঁরা সেটি খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারেন। একুশে কমিটি যে খোঁজখবর রাখেন, মানুষ তাও জানতে পারে। এই সুযোগে এবার যে একুশ জন একুশে পদক পেয়েছেন তাদের সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে রাখি। নিজামী শাহ’র গবেষণার বিষয় না জানাটা আমার দৈন্যতা। নিজেকে যথেষ্ট ছোট মনে হয়, যখন দেখি একজন কবিপত্নী’র অমূল্য সাহিত্য ভান্ডারের কোন রত্নটি এবার তাঁকে একুশে পাইয়ে দিলো তা আমার জানা নেই? আমার মত অধমদের জানানোর দায়িত্ব একুশে পদক দেয়া কমিটি’র। জানতে চাই,! 

সামাজিক মাধ্যমে নিজামী শাহ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম। আবদুল্লাহ শিকদার জানিয়েছেন, তিনি চট্টগ্রাম জেলার মিরশ্বরাই থানার ‘মিরশ্বরাইয়ের পীর’ নামে পরিচিত, বিশিষ্ট ওয়াজ বক্তা এবং ‘সুন্নি আন্দোলন বাংলাদেশ’ সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা পীর-এ-কামেল শায়খুল হাদীস ----।  অন্য একজন হাসান ইমাম খান বলেছেন, উনি ধর্মীয় গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ, ধর্মচর্চায় গবেষণা করেছেন হয়তো এবং সেটিকে বাংলা ভাষার উৎকর্ষ সাধন বলে ধরে নেয়া যায়।  এরপর ‘আলহামদুল্লিয়াহ’ বলে  ‘শুকরিয়া’ আদায় করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকেনা বৈকি। পুরুস্কার-টুরুস্কারের সাথে অতীতে সম্পৃক্ত একজন এবার একুশের তালিকা দেখে বলেছেন, ২/৩জন ছাড়া বাকিদের---। ভেবেছিলাম, আমি অধম, এত গুণীজ্ঞানীর খবরই রাখিনি! পরে বুঝলাম, দেশে আমার মত অধমের সংখ্যা অনেক বেশি, তাই মনে আর কোন দু:খ নেই, যা হওয়ার ভালোই হয়েছে।

 #  guhasb@gmail.com


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান