প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিদায় হওয়ার কোন সম্ভবনা নাই! 

Sun, Feb 2, 2020 1:30 AM

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিদায় হওয়ার কোন সম্ভবনা নাই! 

শিতাংশু গুহ :  মার্কিন সিনেটে শুক্রবার (৩১জানুয়ারী ০২০) ৫১-৪৯ ভোটে সাক্ষী না ডাকার পক্ষে প্রস্তাব পাশ হয়। দু’জন রিপাবলিকান সিনেটর ডেমোক্রেটদের পক্ষে ভোট দেন, কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। এ দু’জন সিনেটর হচ্ছেন, মিট রমণী এবং সুজান কলিন্স। মার্কিন ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম। ১৮৬৮ সালে প্রেসিডেন্ট এন্ড্রু জনসন এবং ১৯৯৮ সালে বিল ক্লিন্টনের সময় সাক্ষী ডাকা হয়েছিলো। হাউস স্পিকার ডেমক্রেট ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, ‘এটা কভার-আপ’। রিপাবলিকানরা বলেছেন, হাউস ট্রায়ালে বেশ ক’জন সাক্ষী ডাকা হয়েছিলো, নুতন সাক্ষীর প্রয়োজন নেই।

 

আগামী সোম ও মঙ্গলবার সিনেটে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক হবে, বুধবার ৫ই ফেব্রূয়ারি ২০২০, চূড়ান্ত ভোট। প্রেসিডেন্ট ‘খালাস’ পাবেন তা প্রায় নিশ্চিত। একশ’ সদস্যের সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি ভোট আছে, ডেমক্রেটদের ৪৭। একজন প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করতে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট, অর্থাৎ ৬৭টি ভোট দরকার। ২০টি ভোট ডেমক্রেটরা কোথা থেকে পাবেন? সিনেটে খুব সম্ভবত: পার্টি লাইনে ভোট হবে। কংগ্রেসেও পার্টি লাইনে ভোট হয়েছিলো, মাত্র ৩জন ডেমক্রেট প্রেসিডেন্টকে ইম্পিচ করতে ভোট দেননি। একজন রিপাবলিকান পক্ষ ত্যাগ করেননি।

 

মার্কিন জনগণ এবারকার ইম্পিচমেন্ট প্রক্রিয়ায় তেমন উৎসাহী নন, কারন এটি পুরোপুরি পার্টিজান লাইনে চলছে। সংখ্যাধিক্যের জোরে হাউসে ডেমক্রেটরা পুরোপুরি পার্টিজান ছিলেন, একই কারণে সিনেটে রিপাবলিকানরা পার্টিজান লাইনেই হাঁটছেন বা হাঁটবেন। বুধবার হয়তো ইম্পিচমেন্ট অধ্যায় শেষ হবে, কিন্তু এর জের চলবে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত। মঙ্গলবার ৩রা নভেম্বর ২০২০ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ট্রাম্প বলছেন, ডেমক্রেটরা জিতবে না তাই এই নাটক! পেলোসি বলেছেন, আপনার ওই সীল আজীবন থাকবে। 

 

এদিকে ডেমোক্রেট আইওয়া ককাস সোমবার ৩রা ফেব্রূয়ারি। এই ককাস গুরুত্বপূর্ণ এজন্যে যে, প্রাইমারি শুরু এবং প্রধান প্রার্থীরা ‘লাইম লাইটে’ আসতে শুরু করেন। ডেমক্রেট শিবিরে আপাতত: তিন প্রধান প্রার্থী হচ্ছেন, সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন; ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং বস্টনের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। নিউইয়র্ক সিটি’র সাবেক মেয়র মাইক ব্লুমবার্গ এবং আরো ক’জন এখনো প্রতিযোগিতায় আছেন। ব্লুমবার্গ ঘোষণা করেছেন যে, তিনি ট্রামকে হারাতে এক বিলিয়ন ডলার খরচ করবেন? 

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্যে ৪ ও ৫ ফেব্রূয়ারি গুরুত্বপূর্ণ। ৪ঠা ফেব্রূয়ারি তিনি কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। পরদিন চূড়ান্ত ভোট। মার্কিন অর্থনীতি এখন চাঙ্গা। ‘নাফটা’ চুক্তি তার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিলো, সদ্য তিনি তা করেছেন। তিনি ইসরাইল-প্যালেষ্টাইন শান্তি চুক্তির রূপরেখা দিয়েছেন। ফিলিস্তিনিরা সেটি গ্রহণ না করলেও তাঁর ভোট কমেনি। ইম্পিচমেন্টের কারণে তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। বুধবার ‘খালাস’ পাবার পর তিনি রণমুর্ক্তি নিয়ে নুতন করে আবির্ভুত হবেন?  


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান