শেষ পর্যন্ত মেগান, তুমিও নারী হলে!

Tue, Jan 28, 2020 2:58 PM

শেষ পর্যন্ত মেগান, তুমিও নারী হলে!

কিশোয়ার লায়লা : করোনা ভাইরাস সারা বিশে^ ছড়িয়ে পড়ার আগের প্রায় দুসপ্তাহ ধরে বিশ^বাসীর কৌতুহল মেটাতে মিডিয়ায় একটা জায়গা বরাদ্দ ছিলো মেগান-হ্যারীর রাজ্য ছাড়ার সংবাদ! এখনো আছে। রাজা-রানী, রাজপুত্র বা রাজকন্যা যুগযুগ ধরেই মানুষের কৌতুহলের জায়গা। আর তাইতো এই হাইটেকের যুগে এখনো বাচ্চাদের গল্প শোনানো শুরুই হয়, এক যে ছিলো রাজা আর রানী।

হ্যারী-মেগান বিয়ের পর বেশ ক’বারই কানাডা এসেছেন। কিন্তু এবারের আসাটার পেছনে যে একটি গল্প ছিলো সেটা আসার পরে মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারলাম। তবে সত্যি কথা হলো, রাজপরিবারের প্রতি আগ্রহের চেয়ে বেশি নজর ছিলো, তাঁরা এখানে কোন মর্যাদা নিয়ে থাকবেন? কানাডাবাসীকে কী বছর শেষে আরো বেশি কর গুনতে হবে? তাঁরা ঠিক কোন অঞ্চলে থাকবেন? তাঁদের কারনে নিশ্চই সেখানার জীবনযাত্রার ব্যয় আরো বেড়ে যাবে? ইত্যাদি। কিছু প্রশ্নের জবাব, ট্রুডো সরকার দিয়েছে।

 নানা গুঞ্জন আর রসালো কাহিনীর ডালপালা গজানোর মাঝপথেই স্বয়ং রানীমাতা বিশ^কে জানিয়ে দিলেন নাত-নাতবউয়ের সিদ্ধান্তের কথা এবং সেই সিদ্ধান্তে রাজ্যের পরবর্তী করনীয়র ব্যাখ্যাও দিলেন তিনি। সেই কারন বা ব্যাখ্যা নিয়ে নয়, আমার নজর এখন পড়ছে, বেচারা মেগাে মার্কেলের ওপর! যুগযুগ ধরে পরম যতেœ লালিত আমাদের চারিত্রিক বেশিষ্ট্য একেবারে জাপটে ধরেছে মেগানকে। রাজ্য ভাঙ্গার আঙ্গুল এখন মেগানের প্রতি। ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া বাঁধালো এই নারী! নারীর রূপ বোঝা এতো সহজ নয়, একা মেগানই রাজ্য ছাড়া করলো রাজপুত্রকে, শ^াশুড়ি ডায়নাও চেয়েছিলো রাজ্য ভাঙ্গতে- পারেননি। তুমি পেরেছো। বউয়ের জন্য আরাম আয়েশের জীবন ছেড়ে আসতে হলো মাসুম বাচ্চা হ্যারীকে।

 আরে বোকার দল, হ্যারী যে প্রিন্সেস ডায়নার সন্তান সেটা ভুলে গেলেন কী করে? তাঁর শরীরে যে সেই জেদী আর প্রতিবাদী নারীর রক্ত সেটা আমলে নিচ্ছেন না কেন? শুধুু মেগান নারী বলেই কী ভুলে যাচ্ছেন হ্যারীর জন্মদাত্রীর কথা? যেভাবেই হোক, নারীকেই দোষ দিতে হবে- সেটা মেগান হোক বা মৃত প্রিন্সেস ডায়নাই হোক। কারন কিছু লেখায় মেগানের পাশাপাশি প্রিন্সেস ডায়নাকেও দুটো কথা শোনাতে ভুলছে না অনেকে।

এখনো মনে পড়ে, প্রিন্সেস ডায়নার মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতায় ছোট্ট হ্যারীর অভিমানি চেহারা। মায়ের কফিনের সাথে সাথে দুই ভাইয়ের হেঁটে চলায় কোথায় যেনো একটু ভিন্নতা ছিলো। হয়তো, রাজ্যের ভবিষ্যত রাজার ভারিক্কি নিয়ে চলতে হয়েছিলো, বড়ো ভাই উইলিয়ামকে। কিন্তু হ্যারিকে বরাবরই বেশ জেদ চেপে রাখা চেহারায় দেখা গেছে। তখন এটা নিয়ে আলোচনাও হয়েছিলো, যে বড়োটা হবে বাপের মতো, আর ছোটটা মায়ের মতো- ত্বেজদ্বীপ্ত। আজ প্রায় কুড়ি বছর পর সেটাই হলো। মায়ের পথেই চলা শুরু করলো প্রিন্স হ্যারি। মাঝখানে কিছু উর্বর মস্তিস্কের মানুষের চিন্তা আর কথার গালমন্দ শুনতে হচ্ছে বেচারা মেগানকে। রাজ্য ভাঙ্গা বা সিংহাসন ছাড়ানোর সকল দায় শুধু নারীই নেবে। ঠিক যেমন নিয়েছিলেন, ওয়ালিস সিম্পসন। যাকে বিয়ে করে সিংহাসন ছেড়ে দিয়েছিলেন রানীমাতা এলিজাবেথের চাচা রাজা অষ্টম এডওয়ার্ড। প্রায় একশো বছর হতে চললো। সেদিনও সেই নারীকে সম্পূর্ণ দোষারোপ করা হয়েছিলো, আজও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে মেগান মার্কেলকে। পৃথিবীর অনেক কিছুই পাল্টাবে। শুধু পাল্টাবে না, পৃথিবীর মানুষের মানসিকতা। সিম্পসনও নারী ছিলেন, মেগানও নারীই রয়ে গেলেন। সাধু রয়ে থেকে যান, এডওয়ার্ড আর হ্যারীরা।

লখেক: কিশোয়ার লায়লা, সাংবাদকি, টরন্টোয় বসবাসরত   


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান