ইরান বনাম আমেরিকা : কার কত শক্তি?

Thu, Jan 9, 2020 1:28 AM

ইরান বনাম আমেরিকা : কার কত শক্তি?

কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে এবার সামরিক ক্ষমতা খোয়াতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতোমধ্যে সে উদ্যোগে নেওয়াও হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যাতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে না দিতে পারেন সেজন্য তার সামরিক ক্ষমতা কমাতে মার্কিন আজ বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটি হবে।

 

এদিকে, সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে বুধবার ইরাকে অবস্থিত দু’টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। এবার ইরানের ড্রোন হামলা আতঙ্কে ভুগছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। ইরাকে মার্কিন সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপনাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এতে অন্তত ৮০ জন মার্কিন সোর মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে বহু। এছাড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরাকে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি আইন আল-আসাদের রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

 

সোলাইমানিকে মার্কিন বাহিনীর হত্যা এবং ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, যুদ্ধ বাঁধাতে চাইলে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। জবাবে তেহরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করলে কিছুই নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কার কত সামরিক শক্তি এর একটি তুলনামূলক চিত্র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি

কোনো ধরনের বিতর্ক ছাড়াই বিশ্বে সামরিক শক্তিতে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। জলে, স্থলে, আকাশে মার্কিনিদের টেক্কা দিতে পারার মতো সক্ষমতা এখন পর্যন্ত কোনো দেশেরই নেই। এর কারণও আছে। মার্কিনিরা তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিশাল এক বাজেট রাখে, যার পরিমাণ ৭১৬ বিলিয়ন ডলার। তবে নিজ দেশ থেকে বহুদূরে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মুখোমুখি হতে হলে দেশটিকে বেশ বেগ পেতে হবে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক শক্তি।

 

সেনাবাহিনী

মার্কিন সেনাবাহিনীতে সক্রিয় সেনা সদস্যের সংখ্যা ১২ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন। এছাড়া সংরক্ষিত রয়েছে আরও ৮ লাখ ১১ হাজার জন। সেনাবাহিনীতে ট্যাংক রয়েছে ৬ হাজার ৩৯৩টি।  সাঁজোয়া যানের (আর্মরড ফাইটিং ভেহিকল) সংখ্যা ৪১ হাজার ৭৬০টি। সেনাসদস্যের ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কামান রয়েছে ৩ হাজার ২৬৯টি। পাশাপাশি ৯৫০টি সংক্রিয় কামান (সেলফ প্রপেলড আর্টিলারি) ও ১ হাজার ১৯৭টি রকেটচালিত কামান (রকেট আর্টিলারি) রয়েছে।  

 

বিমানবাহিনী

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ক্ষমতা বিশ্বে প্রথম স্থানে। দেশটির বিমানবাহিনীর মোট আকাশযানের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩০৪টি। এর মধ্যে রয়েছে-ফাইটার বিমান ২ হাজার ৩৬২টি, অ্যাটাক বিমান ২ হাজার ৮৩১টি, হেলিকপ্টার ৫ হাজার ৭৬০টি ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার রয়েছে ৯৭১টি। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সেরা

স্টেলথ ফাইটার (রাডারে ধরা না পড়ে আক্রমণ করতে সক্ষম) এফ-২২ ও এফ ৩৬। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও পরিবহনের জন্য উড়োজাহাজ রয়েছে বাহিনীটির। 

 

নৌবাহিনী

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে মোট যানের সংখ্যা ৪১৫টি। এর মধ্যে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার রয়েছে ২৪টি, ফ্রিগেট রয়েছে ২২টি, ডেস্ট্রয়ার রয়েছে ৬৮টি, করভেট রয়েছে ১৫টি ও সাবমেরিন রয়েছে ৬৮টি। এছাড়া পেট্রোল বোট ১৩টি ও মাইন ওয়্যাফেয়ার রয়েছে ১১টি।

 

ইরানের সামরিক শক্তি

সামরিক শক্তিতে ইরানের অবস্থান ১৪তম। মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির অবস্থান খুবই শক্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোকে একহাত নেওয়ার ক্ষমতা আছে ইরানের। ইরানের ডিফেন্স বাজেট ৬৩০ কোটি ডলার। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক দেশটির বর্তমান সামরিক শক্তি।

 

সেনাবাহিনী

ইরানের বর্তমান সক্রিয় সেনাসদস্য ৫ লাখ ২৩ হাজার। এছাড়া সংরক্ষিত সদস্য রয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার জন।  দেশটির ট্যাংকের সংখ্যা ১ হাজার ৬৩৪টি।  সাঁজোয়াযানের (আর্মরড ফাইটিং ভেহিকল) সংখ্যা ২ হাজার ৩৪৫টি। সেনাসদস্যের ব্যবহারের জন্য কামান (টোয়েড আর্টিলারি) রয়েছে ২ হাজার ১২৮টি। পাশাপাশি ৫৭০টি সংক্রিয় কামান (সেলফ প্রপেলড আর্টিলারি) ও ১ হাজার ৯০০টি রকেটচালিত কামান (রকেট আর্টিলারি) রয়েছে। 

 

বিমানবাহিনী

ইরানের বিমানবাহিনীর মোট আকাশযানের সংখ্যা ৫০৯টি। এর মধ্যে রয়েছে-ফাইটার বিমান ১৪২টি, অ্যাটাক বিমান ১৬৫টি, হেলিকপ্টার ১২৬টি ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার ১২টি। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের জন্য ১০৪টি ও পরিবহনের জন্য ৯৮টি উড়োজাহাজ রয়েছে বাহিনীটির। ইরানের হাতে এখন পর্যন্ত স্বীকৃত কোনো স্টেলথ ফাইটার বিমান নেই।

 

নৌবাহিনী

ইরানের নৌবাহিনীতে এখন পর্যন্ত যোগ হয়নি কোনো এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার। বাহিনীটিতে ফ্রিগেট রয়েছে ছয়টি, করভেট রয়েছে তিনটি এবং সাবমেরিন রয়েছে ৩৪টি। নেই কোনো ডেস্ট্রয়ার। তবে ইরানের ৮৮টি পেট্রোলবোট  ও তিনটি মাইন ওয়্যাফেয়ার রয়েছে।

 

পারমাণবিক শক্তির তুলনা

যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ হলেও এখন পর্যন্ত ইরানের বোমা নেই বলে ধারণা করা হয়। মার্কিনিদের হাতে ৭ হাজার ২০০টি পারমাণবিক বোমা রয়েছে। তাই পারমাণবিক শক্তির দিক দিয়ে বেশ এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। 

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান