মহড়ার সংকট- টরন্টোর বাংলা নাট্যচর্চা

Tue, Sep 17, 2019 11:38 PM

মহড়ার সংকট- টরন্টোর বাংলা নাট্যচর্চা

আহমেদ হোসেন: টরন্টোয় নাটক করতে গিয়ে আরোও দশটা চ্যালেঞ্জ এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মহড়া করা। এমনিইতেই নাট্যাভিনয়ের লোকজন কম আবার তার উপরে যারাও আছে, তাদের মহড়া করার সময় কম, তাদের নিয়ে মহড়ার সময় নির্ধারণ করতে করতে জীবন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা । যদিওবা মহড়ার সময় ঠিক করা গেল। তখন এ পারবে কিন্তু সে পারবে না। শনিবার রবিবার কাজ আছে তো কাজ নাই। লং উইকে থাকতে পারবে না। শরীর ভাল নেই, হয় নিজের, নাও হয় পরিবারের। এই মতোন হাজার সাওয়াল।

দেখা গেল অধিকাংশ কলাকুশলী সন্ধ্যার পর পারবে তো, যাদের খুব বেশি প্রয়োজন তারা পারবে না। আবার ৭ টায় সবার আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে মুঠোফোনে বার্তা আসতে থাকে। আই উইল বি লেইট; কান্ট মেইক ইট; সরি ১০/১৫ মিনিট দেরি হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

তারপরও আমরা নাটক করি। বছরে একটা দুইটা ছোট বড় প্রযোজনা আনার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। নাটক করার জন্যে গাঁটের পয়সা খরচ করছি। আমরা নাট্যকর্মীরা অনেক পরিশ্রম করছি, অনেক সময় দিচ্ছি। দিনের পর দিন মহড়া করছি। তারপর নাটক আলোর মুখ দেখে। দর্শকশ্রোতারা আনন্দ পায়, আমরা উৎসাহিত হই। মহড়ার অভাবে কত স্বপ্ন মেঘে ভেসে যায়।

বলাবাহুল্য, সেই অর্থে মহড়ার করার কোন জায়গাও নেই আমাদের। এই বাড়ির বেইজমেন্ট, সেই বাড়ির বৈঠকখানায় কিংবা কোন অফিসের খালি জায়গায় মহড়া করতে হয় আমাদের । আরও আছে মঞ্চের অভাব। তাও যে কটা হল পাওয়া যায় তাও সেগুলো নিজ কমিউনিটি থেকে অনেক দূরে। দর্শকশ্রোতা আবার নিজ কমিউনিটি থেকে দূরে যেতে যায় না। আবার টরন্টোতে নাটকের মঞ্চের তারিখ পাওয়া দুস্কর। একবছর আগেই বুকিং দিয়েও তারিখ পাওয়া যায় না। আর অর্থাভাব তো আছেই। এতকিছুর পর মঞ্চায়নের পর আমরা আনন্দ করি, পার্টি করি। নাটক করার উন্মাদনা যার আছে সে বুঝে কত কষ্টের ফল এই নাট্য প্রযোজনা । আর বুঝে কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীজন। তারা বুঝে কত শত প্রতিকূলতা ডিঙিয়েও তবে নাটক মঞ্চায়ন করতে হয় আমাদের ।

 

টরন্টোয় হাসান মাহমুদ এর লেখা অনন্ত আহমেদ এর অনুরোধে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সংস্থা এর "বিবিধ বিধান "নাটক নির্দেশনা দিতে গিয়ে মহড়ার সময় ঠিক করি সকাল ৮ থেকে ১২। ছুটির দিনে সকালের ঘুম বাদ দিয়েই মহড়া করতে হয়েছে আমাদের সকলকে। নাটকের সিংহভাগ অভিনেতা অভিনেত্রী পার্টিবাজ। প্রবাসজীবনের পাঁচদিনের কাজের ক্লান্তি শেষে শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয়ে শনিবার পর্যন্ত সেই পার্টি গড়ায় সেই পার্টি। এই অবস্থায় তখন শেখর, টরি, কনক, মেহরাব, দিপ্তীকে সকাল ছয়টায় একবার, সাতটায় আরেকবার ফোন করে মহড়ায় আসার তাগাদা দিতে হতো। আগেই বলা ছিলো যে যত রাত্রেই ঘুমাক না কেন ফোন পেয়েই উঠতে হবে এবং যথাসময়ে মহড়ায় আসতে হবে। সে সময়টা সবাই সকালে চলে আসতো বলেই নাটকটি মহড়া শেষে সফল মঞ্চায়ন সম্ভব হয়েছিলো।

 

স্বপ্ন দেখি একদিন এই শহরে মহড়া কক্ষ থাকবে অসংখ্য , থাকবে নাট্যকর্মী যতজন প্রয়োজন ততজন। আর থাকবে নাটকের পাত্রপাত্রীর যথাযথ সময় মহড়া করার। কারণ অনুশীলন এর কোন বিকল্প নেই। নেই মহড়ার কোন বিকল্প।

আহমেদ হোসেন, অন্যথিয়েটার টরন্টো

 


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান