ম্যাক্সিম বার্নিয়ারই কি তবে কানাডার ডোনাল্ড ট্রাম্প?

Thu, Jul 25, 2019 11:56 PM

ম্যাক্সিম বার্নিয়ারই কি তবে কানাডার ডোনাল্ড ট্রাম্প?

মুনতাসীর মামুন: কনজারভেটিভ পার্টি থেকে বের হয়ে এসে পিপলস পার্টি নামে নতুন পলিটিক্যাল পার্টি তৈরি করা ম্যাক্সিম বার্নিয়ার আস্তে আস্তে কানাডার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠছেন বলে মনে হচ্ছে, যদিও এখন পর্যন্ত তার জনসমর্থন ৩ শতাংশের বেশি না, তবু তার দিকে নজর রাখা দরকার আছে।

পৃথিবীর দেশে দেশে পপুলিস্ট কনজারভেটিজম যেভাবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে কানাডায়ও তার ছায়া এসে পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই তার পপুলিস্ট কথা বার্তা অনেকের মধ্যেই জাতীয়তাবাদে উস্কে দিচ্ছে। গতকালকে তিনি বলেছেন কানাডা আর আমেরিকা বর্ডারে ( মূলত নিউয়র্ক স্টেইট আর ক্যুবেক এর মধ্যকার ইমিগ্রেশন ক্রসিং জোনে) তিনি 'ফেন্স' বসাবেন! ফেন্স এর খরচা কে দিবে এই বিতর্ক গোড়ায় থামিয়ে দেয়ার জন্য বলেছেন এইটা তেমন খরচাপাতির ব্যাপার না, সুতরাং এইটা নিয়ে মাথা না ঘামালেও চলবে। শুধু তাই না, লিবারেলদের ফি বিছর তিন লাখ ইমিগ্রেন্ট নিয়ে আসার প্ল্যান কাটছাট করে তিনি বছরপ্রতি মাত্র এক থেকে দেড় লাখ ইমিগ্রেন্ট নিয়ে আসবেন! সাথে ফ্রি ট্রিটমেন্ট হিসেবে আছে তথাকথিত 'বার্থ ট্যুরিজম' এর দরজা বন্ধ করে দেয়া। অবশ্য তার সভায় হাজির হওয়া বহু লোক এই এক দেড় লাখেও বেজার, তারা চায় বড়জোড় হাজার পঞ্চাশেক ইমিগ্রেন্ট আসুক বছরপ্রতি! অবশ্য 'বেবি বুমার্সদের' মাস রিটায়ারমেন্টের এই সময়ে পঞ্চাশ হাজার ইমিগ্রেন্ট দিয়ে উনারা কতটুকু কি পোষাতে পারবেন ওনারাই ভালো জানেন, মনে হয় একেক জন দশ বারোটা করে জব বাগাবেন, নিজেই অফিসের কর্মচারি হবেন, নিজেই বস হয়ে ধমকা ধমকি করবেন!

 

অবশ্য এই ডামাডোলের মধ্যে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে, তার পিপলস পার্টির অনেকটা আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে আবির্ভুত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশদ্ভোত সালিম মনসুর। সালিম সাহেব ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টারিওর পলিটিক্যাল সায়েন্সের প্রফেসর, তবে এর চেয়েও বড় পরিচয় হলো তিনি কানাডার ডাইভার্সিটির ঘোরতর বিরোধি! প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো সুযোগ পেলেই বলেন, ডাইভার্সিটি হলো কানাডার বিগেস্ট এসেট, সালিম সাহেবের মত পুরাই উলটা। বার্নিয়ার সাহেব কয়দিন আগে বলেছিলেন, ' এক্সেসিভ ডাইভার্সিটি ক্রিয়েটস ঘেটুইজম’, এই কথা আসলে তিনি শিখেছেন সালিম সাহেবের কাছ থেকে। সালিম সাহেবের মত হলো, কানাডায় আসার পরে প্রত্যেকটা মানুষকে কানাডার মূল স্রোতের সাথে মিশে যেতে হবে, নিজ নিজ কালচার নিয়ে মজে থাকা চলবে না! এই যে সারা সামার জোরে সবাই খালি কমিউনিটির পিকনিক নিয়ে ব্যস্ত আছেন এইগুলা এইবার বন্ধ হতে চললো বলে! এই দুইজনের কথা বার্তা ইন্টারেস্টিং, কিছু কিছু শুনলে মনে হয়, আসলেই তো! অনেক ফার্ষ্ট বা সেকেন্ড জেনারেশন ইমিগ্রেন্টও হয়তো বার্নিয়ার সাহেবের দিকে ঝুকে পড়তে পারেন, অনেকটা ঢাকার রাস্তায় মারামারি করে বাসে উঠে কন্ডাকটরকে দরজা লাগানোর জন্য মা-বাপ তুলে গালি দেয়ার মত আর কি!

 

আমার অবজার্ভেশন হচ্ছে এই ইলেকশনে হয়তো ম্যাক্সিম-সালিমরা খুব একটা কিছু করতে পারবে না, তবে পরের ইলেকশন আসতে আসতে ওনারাই না কনজারভেটিভ পার্টির মূল ধারা হয়ে যান! সেইজন্য কানাডায় ইমিগ্রশনের জন্য যারা ঢিমেতালে আগাচ্ছেন তারা এইবার একটু গা ঝাড়া দেন! পরের ট্রেন ধরার চিন্তা করতে করতে ইস্টিশন না বন্ধ হয়ে যায়!!


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান