আশিকুল আলম,বাংলা সাংবাদিকতা,এবং এফবিআই'র ফাঁদ

Sat, Jun 8, 2019 10:54 PM

আশিকুল আলম,বাংলা সাংবাদিকতা,এবং এফবিআই'র ফাঁদ

সোহেল মাহমুদ: আশিকুলদের কাহিনী আমাকে হতাশ করে। এজন্য নয় যে, তারা বখে গেছে। নিজের ভেতর থেকে সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছে। এ কারণে যে, বিশেষ করে মুসলমানদের নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের নীল নকশার কাহিনীগুলো, মার্কিন গণমাধ্যম আর অধিকার সংগঠনগুলো যা নিয়ে সরব, আবার আমার মগজে স্থান করে নিয়েছে। আমি হতাশ এই ভেবে যে, আরো একটি ঘটনা আমাদের বাংলাদেশী পরিচয়কে ঘিরে। আকায়েদের কথা তো মনে আছে, তাই না? এর আগে, নাফিসদের কথা?

 

নিশ্চিত বলছি না, আশিক মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই'র ফাঁদে পা দিয়ে বিপদ ডেকে এনেছে। কিন্তু, এ কথা নিশ্চিত করে বলতে পারি, এফবিআই এ কাজ করে। নির্জনতা পছন্দ করা, কম বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিরা বেশি শিকার হয় এফবিআই'র। অন্তত ৫ শ' ঘটনা, যেগুলোর বিবরণে বলা আছে যে, আন্ডারকভার এজেন্টরা দীর্ঘদিন পেছনে লেগে ছিলো, পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা খুব নিরীহ, নির্জনতা পছন্দ করে, সমাজবদ্ধ নয়। পড়াশোনায় খুব ভালো, কিন্তু আইকিউ কম।

 

এফবিআই রীতিমতো অর্থ খরচ করে ফাঁদ তৈরি করে। এজন্য, আনুষ্ঠানিক তহবিল আছে তাদের। একটা বিভাগও। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থাকা যে কোন ব্যক্তি, বাইরে থাকা মার্কিন নাগরিকদের টার্গেট করে এফবিআই। কাউকে চাপ দেয়া হয় ইনফরমার হতে। কাউকে প্ররোচিত করা হয়, যেনো সে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে কোন সন্ত্রাসী কাজ করার ইচ্ছে প্রকাশ করে। একটা পরিবারে বা জনসমাজে সবচেয়ে সহজ সরল হিসেবে পরিচিত, কিংবা অন্তত আগ্রাসী নয় এমন কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফবিআই যখন সন্ত্রাস-পরিকল্পনার অভিযোগ দাঁড় করানোর সব রসদ সংগ্রহ করতে অনেকদিন তার পেছনে লেগে থেকে, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে, এটা প্ররোচনা। মানে, ব্যক্তির ব্রেনওয়াশ করে তাকে নিজেদের চাওয়া পথে হাঁটিয়েছে এফবিআই। এমন কয়েকটা ঘটনা আমি জানি।

 

গুগল করলে, এফবিআই'র ফাঁদের অনেক গল্প পাওয়া যায়। এফবিআইও কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ফাঁদ পাতার অভিযোগ অস্বীকার করে না। তারা বলে, একটা সময় ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তির পেছনে সময় দিয়েছে তারা। প্রশ্ন হচ্ছে, এফবিআই এভাবে করে কেনো?

 

ফাঁদ পাতে এফবিআই, এটা অনেকেই জানেন না। স্বাভাবিক। কিন্তু, সাংবাদিকরা না জানলে সমস্যা। এবং বিপদও। কারণে, তাদের অজ্ঞতা একটা জনসমাজ সম্পর্কে ভুল বার্তা দেবে। আশিক সন্ত্রাসী নয়, কিংবা সন্ত্রাসী কোনটাই বলার আমি কেউ নই। তার ঘটনাকে সামনে এনে, গোটা জনসমাজকে নিয়ে বায়বীয় কথা বলার আপনিও কেউ নন। লাগামহীন কথা বলে, জনসমাজে কারোর হস্তক্ষেপ করার সুযোগ দেয়া বিপজ্জনক।


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান