রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা, কানাডার ‘খামখেয়ালী আসর’

Wed, Mar 20, 2019 12:04 AM

রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা, কানাডার ‘খামখেয়ালী আসর’

নতুনদেশ ডটকম: রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা, কানাডার ‘খামখেয়ালী আসর’ বসেছিল ৯ মার্চ, শনিবার সন্ধ্যায়। এবারে ছিল চতুর্থ আসর। সাঙ্গীতিক চর্চার উৎকর্ষ সাধনে ব্রতী এই  আসরের এবারের বিষয়বস্তু ছিল - রবীন্দ্রনাথের গানে বাঁশির নানান ব্যঞ্জনা। রবীন্দ্রসঙ্গীতে বিভিন্ন পর্যায়ের যেসব গানে বাঁশি, বেণু, বাঁশরি ইত্যাদি বাঁশি-সমার্থক শব্দ আছে, এমন নির্বাচিত গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা সম্মেলক ও একক কণ্ঠে।

 

আসরের শুরুতেই সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশিত হয় বসন্তের গান - আহা আজি এ বসন্তে।প্রথম পর্বে, রবীন্দ্রনাথের গানে বাঁশির নানা মাত্রার দ্যোতনা ও ব্যঞ্জনার তাত্ত্বিক দিকের ওপর আলোকপাত করেন ফারহানা আজিম শিউলী। এতে স্থান পায় রবীন্দ্রনাথের একেবারে শুরুর দিকের রচিত গান থেকে একেবারে জীবন সায়াহ্নে রচিত বেশ কয়েকটি গানে বাঁশির নানা মাত্রায় প্রয়োগ। গীতবিতানের প্রেম, পূজা, প্রকৃতি, বিচিত্র ইত্যাদি নানান পর্যায়ের এবং ভানুসিংহের পদাবলী, নাটক, গীতিনাট্য, কাব্যনাট্য, নৃত্যনাট্য থেকে নির্বাচিত প্রায় ২০টির মতো গানে কতভাবে, কত আঙ্গিকে রবীন্দ্রনাথ বাঁশিকে তুলে এনেছেন - সেসব আলোচিত হয়। এই বাঁশি কখনো ছুটে চলার সঞ্জীবনী, কখনো বেরিয়ে পড়বার ডাক, কখনো মুক্তির স্বরূপ, কখনো মুক্তিকে স্বাগত জানাবার বাহন, কখনো অন্তরের অব্যক্ত ভাষার মাধ্যম, কখনো বেদনার অনুষঙ্গ, কখনো শারদ প্রকৃতির মাঙ্গলিকতা আহবানের সঙ্গী, কখনো বর্ষার বজ্র-নিনাদের স্বর, কখনো দেহ-মনে কামনা প্রকাশের ভাষা, কখনো রাধা কৃষ্ণের প্রণয়লীলার অনুষঙ্গ, কখনো দিনাবসান-জীবনাবসানের প্রতীক, কখনো মনের মানুষের খোঁজে বিরামহীন সন্ধানের বাহন, কখনো ভ্রষ্টলগ্নের অনুষঙ্গ, কখনো অহৈতুকীর ভাষা, কখনো মনের প্রতিশব্দ - কতো ভাবে, কতরকম করে যে রবীন্দ্রনাথের গানে বাঁশি এসেছে তার একটা দৃশ্যকল্প ধরবার প্রয়াস পেয়েছেন আলোচক তাঁর উপস্থাপনায়।

 

দ্বিতীয় পর্বে শিল্পীরা প্রত্যেকে দুটি করে একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন। গীত রবীন্দ্রসংগীতগুলো ছিল - জাগরণে যায় বিভাবরী, সকরুণ বেণু বাজায়ে কে যায়, এসো গো জ্বেলে দিয়ে যাও প্রদীপখানি, মন যে বলে চিনি চিনি, ধীরে ধীরে ধীরে বও ওগো উতল হাওয়া, তোমার নাম জানি নে সুর জানি, এখনো তারে চোখে দেখিনি, দূরদেশী সেই রাখাল ছেলে, প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে, জগতে আনন্দযজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ, আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল ও আমার এ পথ তোমার পথের থেকে।

 

আসরে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা ছিলেন - চিত্রা সরকার, হাবিব উদ্দিন, নিঘাত মর্তুজা শর্মী, নবিউল হক বাবলু, শিখা আখতারী আহমাদ, ফারহানা আজিম শিউলী, মমতাজ বেগম ও শাহজাহান কামাল। সবশেষে খসরু চৌধুরী আবৃত্তি করে শোনান দুটো কবিতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রাণ’ ও শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দ ভৈরবী।’   আমন্ত্রিত অতিথিরা নীরবতায় ও মনোযোগে শ্রবণ করেন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা কানাডার খামখেয়ালী আসরের সব পরিবেশনা। বিজ্ঞপ্তি।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান