সুদর্শন সুবচন হামবাগ থেকে সাবধান

Mon, Jan 14, 2019 7:45 PM

সুদর্শন সুবচন হামবাগ থেকে সাবধান

ইমতিয়াজ মাহমুদ: যে রাজনৈতিক অবস্থাটার মধ্যে আমরা এখন আছি এটা অভিনব। এই অবস্থায় আমরা এর আগে কখনো ছিলাম না। কলোনিয়াল সময়েও না, পাকিস্তানের সময়ও না, এর আগে কোনদিনই আমরা এই অবস্থায় পড়িনি। আর এই অবস্থা থেকে খুব শিগগিরই এ আমাদের মুক্তি হবে সেটাও মনে হচ্ছে না। মোটামুটি একটা দীর্ঘ সংগ্রামের প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন সকলে। কিন্তু এই যে দীর্ঘ সংগ্রাম বা দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা বললাম, সেটার প্রকৃতি ওর চরিত্র ঠিক এর আগের আমাদের যেসব রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আছে তার সাথে মিলবে বলে মনে হয় না।

 

আগামী বছরগুলিতে শত্রুমিত্র চিহ্নিত করাটাও আর পূর্বতন কোন সময়ের ফর্মুলা অনুযায়ী হুবহু করা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। আন্দোলন সংগ্রামের হাতিয়ার পদ্ধতি কর্মসূচী এইসবও আপনাকে নতুন করে ভাবতে হবে। নতুন করে ভাবতে হবে তার একাধিক কারণ রয়েছে। একটা তো হচ্ছে এই সম্পূর্ণ নতুন প্রপঞ্চে পুরনো পদ্ধতিগত আন্দোলনে কার্যকর ফলাফল নিয়ে আসা যে কঠিন হবে সেটা তো স্পষ্ট। আরেকটা কারণ হচ্ছে যে গত এক দশকে যোগাযোগের মাধ্যম ও ধরন এইসবের মধ্যে অভূতপূর্ব পরিবর্তন হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ একদিকে যেমন সহজ হয়েছে সেই সাথে আবার মানুষের মনে কোন একটি প্রসঙ্গ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী অভিঘাত তৈরি করা কঠিন হয়েছে।

 

প্রচলিত পুরনো পদ্ধতি প্রয়োগ কেন ফলপ্রসূ হবে না তার আরেকটা কারণ হচ্ছে, সম্ভবত এইটাই গুরুত্বপূর্ণ কারণ, বর্তমান প্রপঞ্চে রাজনৈতিক শক্তিটি দেশ ও সরকারের অরাজনৈতিক (আসলে আপাত অরাজনৈতিক বা আপাত নির্দলীয়) প্রতিষ্ঠানসমূহকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ও নৈপুণ্যের সাথে নিজেদের সুরক্ষায় নিযুক্ত করেছে। অনেকটা যেন আপনি যাপনই যাবেন রাজনৈতিক লড়াই করতে, কিন্তু দেখবেন যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দেখাই পাচ্ছেন না, আপনার সাথে দাঁড়িয়ে আছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের একটি দুর্ভেদ্য কলাম।

 

এই কাজটা ওরা এমন নৈপুণ্যের সাথে করেছে যে এইসব প্রতিষ্ঠান এখন নিজেদের স্বার্থেই রাজনৈতিক স্ট্যাটাসকো রক্ষার জন্যে প্রাণপাত করবে। পুলিশ সেনা বেসামরিক প্রশাসন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ ইন্টেলিজেন্সিয়া সকলেই এই একটা মায়া ভ্রান্তিতে রয়েছে- যে বর্তমান পলিটিক্যাল স্ট্যাটাস কো না থাকলে যেন কিয়ামত হয়ে যাবে, ওদের মহা সর্বনাশ হয়ে যাবে, দেশ রসাতলে যাবে ইত্যাদি। একটি জাতির বা একটি রাষ্ট্রের অস্তিত্বের সাথে একজন ব্যক্তির বা একটি দলের বা একটি গোষ্ঠীর অস্তিত্ব এইভাবে মিলিয়ে ফেলার প্রবনতা আপনারা পৃথিবীর ইতিহাসে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে দেখেছেন। সেই অধ্যায়গুলির অভিজ্ঞতা এখানে হয়তো কাজে লাগবে।

 

এইধরনের পরিস্থিতিতে দীর্ঘ মেয়াদি আন্দোলন সংগ্রামে একটা বড় ঝামেলা হচ্ছে মাঝে মাঝেই হঠকারী প্রবণতা চলে আসবে। সাবধান থাকতে হবে, কেননা কেবল অসংখ্য মানুষের অংশগ্রহণই দেশে একটা কার্যকর গণতন্ত্র স্থাপন করতে পারে। আর এখন হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে যেসব নেশা ধরানো ও দৃষ্টি আচ্ছন্নকারি ধোঁয়া, সেইসব ধোঁয়া কাটিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছনো একটা কঠিন কঠিন কঠিন কাজ। আর বাস্তব কথা হচ্ছে এই মুহূর্তে এই কাজটি করার জন্যে প্রস্তুত কোন রাজনৈতিক দল গোষ্ঠী বা শক্তি উপস্থিত নাই।

 

তাইলে করনীয় কি? স্থির হয়ে বসুন। বাস্তব অবস্থার খতিয়ান নিন। এক্ষুনি খুব জরুরী কিছু না হলে সরাসরি কোন কনফ্রন্টেশনে যাওয়ার কোন ইয়ে করবেন না। নিজেদের শক্তি দেখুন। শক্তি মানে ইন্টেলেকচুয়াল অবস্থা, নেতা কর্মীদের সংখ্যা, টাকা পয়সার সংস্থান এইসব সব কিছু। নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করুন, পরিকল্পনা তৈরি করুন, মানুষের কাছে কি কথাটা নিয়ে যাবেন সেটা আগে গুছিয়ে স্পষ্ট করে নিজেরা বুঝে নিন। তারপর পথে নামুন।

 

আর সবসময় সুদর্শন সুবচন হামবাগ থেকে সাবধান থাকবেন।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান