বাংলাদেশ কমিউনিটি এসোসিয়েশান অফ নোভাস্কসিয়ার বিজয় দিবস উদযাপন

Sun, Dec 23, 2018 10:59 PM

বাংলাদেশ কমিউনিটি এসোসিয়েশান অফ নোভাস্কসিয়ার বিজয় দিবস উদযাপন

গোলাম কিবরিয়া তালুকদার: অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে বাংলাদেশ কমিউনিটি এসোসিয়েশান অফ নোভাস্কসিয়ার উদ্যোগে গত ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ লিব্রান কমুনিটি সেন্টার, বেডফোরড, হালিফাক্স, কানাডা তে ৪৭তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে বাংলাদেশী প্রবাসীরা বাঙালি সংস্কৃতি প্রবাসের মাটিতে তুলে ধরার শপথ নিয়ে । উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হ্যালিফ্যাক্সসহ নোভা স্কসিয়ার বিভিন্ন প্রান্তের প্রবাসী বাংলাদেশীরা এবং সেই সাথে অনেক ক্যানাডিয়ান অতিথিবৃন্দরাও।

 

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল বাঙালী জাতীর ধারাবাহিক মুক্তি আন্দোলনের একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় রূপ, গৌরবময় অধ্যায়.১৬ ডিসেম্বর আমাদেরশৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন, বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন কারন ১৯৭১ এই দিনে নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর বিকেলে বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর প্রায় ৯১ হাজার ৬৩৪ সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনীর কাছে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষা একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড পেয়েছে যার নাম বাংলাদেশ যা এসেছে অসীম ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমে,অনেক তাজা প্রাণ, মা-বোনদের সম্ভ্রমহানী এবং সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে। বিজয়ের এই আনন্দের দিনে বাংলাদেশ কমিউনিটি এসোসিয়েশান অফ নোভাস্কসিয়ার আয়োজনে আগত প্রবাসী বাংলাদেশীরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে যারা জীবন দিয়েছে, যে সব মা হারিয়েছেন সন্তানকে, সন্তান হারিয়েছেন মাকে, মা হারিয়েছেন বাবাকে, ভাই হারিয়েছেন বোনকে, বোন হারিয়েছেন ভাইকে, স্বামী-স্ত্রীকে স্ত্রী-স্বামীকে হারিয়েছেন, কোন ক্ষুধার্ত মুক্তিযোদ্ধাকে খেতে দিয়েছেন নিজের থালার ভাত অথবা চোখের সামনে সকল আপনজনদের প্রাণ দিতে দেখেছেন । আপনাদের জন্য একটি ছোট্ট তথ্য (হয়ত অনেকেই জেনে থাকবেন) :-ত্রিশ লক্ষ মানুষকে যদি একের উপর এক শোয়ানো হয় তবে তার উচ্চতা হবে ৭২০ কিলোমিটার, যা মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতার ৮০ গুণ!ত্রিশ লক্ষ মানুষ যদি হাতে হাত ধরে দাঁড়ায় তবে তার দৈর্ঘ হবে ১১০০ কিলোমিটার, যা টেকনাফ হতে তেঁতুলিয়ার দূরত্বের চেয়েও বেশি!ত্রিশ লক্ষ মানুষের শরীরে মোট রক্তের পরিমাণ ১.৫ কোটিলিটার, যা শুকনো মৌসুমে পদ্মা নদীতে প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত পানির সমান!তারপরও হয়তো আমরা কখনই বুঝবোনা যে কতটা মূল্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে! এই শুভদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের।

 

যখন বাড়ছে অন্ধতার প্রতি অনুরাগী মানুষের দল, যখন ‘প্রজ্ঞায় সংহত' মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে তখন দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেবার জন্য অন্ধকার দুরে ঠেলে আলোর দিকে এগিয়ে চলার, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নে শপথ নিয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিটি এসোসিয়েশান অফ নোভাস্কসিয়া যারা বিশ্বাস করে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন, যারা ভাবতে চায় গনমানুষের সুখ শান্তি ও স্বপ্ন এবং আশা-আকাঙ্খাকে অবলম্বন করে গড়ে উঠবে বাংলার নিজস্ব সাহিত্য-সংস্কৃতি।

 

১৯৭১ এ সংস্কৃতিকর্মীদের কাছে সংস্কৃতিই হয়ে উঠেছিল হাতিয়ার৷ ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত মুক্তির যে ধারাবাহিক সংগ্রাম, তাতে দেশের সংস্কৃতি কর্মীরা ঝুঁকির পরোয়া না করে কাজ করে গেছেন নিঃশঙ্কচিত্তে৷ দাবি আদায়ের যুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে গান, নাটক, কবিতা৷ এই ধারাটি সমুন্নত রাখার জন্য বাংলাদেশ কমিউনিটি এসোসিয়েশান অফ নোভাস্কসিয়া সাংস্কৃতিক কর্মীরা জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন, এর পর সমবেত সঙ্গীত ‘আমরা করব জয়, ছোটোদের দলীয় নাচ ‘ফুলে ফুলে ঢোলে, ছোটোদের আবৃতি ‘আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা, ছোটোদের নাটিকা ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প, মুক্তিযুদ্ধের তথ্য চিত্র ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, সমবেত সঙ্গীত ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে, জুগল সঙ্গীত ‘ধন ধান্যে পুস্প ভরা, আবৃতি ‘স্বাধীনতা তুমি, গান ‘সোনার ময়না, হাসতে দেখ, বাঁশীর সুর পরিবেশনা করা হয়। এরপর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব, বাংলাদেশের ঐতিহ্য নিয়ে ধাঁধাঁর আশর, লটারি, বাংলাদেশ কমিউনিটি এসোসিয়েশান অফ নোভাস্কসিয়ার নিজস্ব ব্যান্ডের গান মনে করিয়ে দেয় আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের বিজয় আমাদের গৌরব। দিবসটিকে ঘিরে এছাড়াও আয়োজন করা হয়েছিল শিশুদের চিত্রাঙ্কন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র এবং আলোকচিত্র প্রদর্শন।

বিডিক্যান্স আশা করে আপনার-আমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের সোনার বাংলাকে বিশ্বের দরবারে সাফল্য দেখাবে আর বুক ফুলিয়ে বলতে পারব "আমরাও পারি নতুন কিছু করতে"।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান