সুবিধার দোটানা

Sat, Dec 15, 2018 1:03 AM

সুবিধার দোটানা

জহিরুল চৌধুরী: আমরা গণতন্ত্র চাই, সাম্প্রদায়িকতা চাই না। সব মত-পথের মিলিত বাংলাদেশ চাই, এক দলের দু:শাসন চাই না। উন্নয়ন চাই, কিন্তু দুর্নীতি চাই না। মুক্তিযোদ্ধার বাংলাদেশ চাই, যুদ্ধাপরাধীর বাংলাদেশ চাই না। জঙ্গীবাদ-উগ্রপন্থার দমন চাই, রাষ্ট্রীয় মদদ চাই না।

এই চাওয়া-পাওয়ার সম্মেলন ঘটাবেন ক্যামনে? আমরা একটা টালী করতে পারি- মহাজোট এবং ঐক্যজোটের মধ্যে। এই টালির ফলাফলের উপর ভবিষ্যত বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারি।

 

গত এক দশক ছিল বাংলাদেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই এক দশকে বাংলাদেশ অনেক কাঠ/খড় পুড়িয়ে যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যদণ্ড কার্যকর করেছে। একই সঙ্গে আশংকা তৈরি হয়েছে- ‘গণতান্ত্রিক অধিকার সীমিত হওয়ার’। পরিণামে দুর্নীতি ও বিরোধী রাজনীতিক দমন-পীড়নে অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবার।

 

এই দোটানার জালে আটকে গেছেন দেশের বরেণ্য রাজনীতিকরা। আটকে গেছেন সাংবাদিক, কবি, সীহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরাও। সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উগ্রপন্থার সঙ্গে হাত মিলিয়েছ্ন বড় দুটি রাজনৈতিক দল। তবে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতিতে আবারো পুনর্বাসনের সুযোগ করে দিয়েছে বিএনপি।

 

সাংবাদিকদের অধিকার আছে যে কাওকে প্রশ্ন করার। ক্ষমতাবানদের প্রশ্ন করলে ক্ষমতাহীনরা উপকৃত হয়। আবার ক্ষমতাহীনকে প্রশ্ন করলে ক্ষমতাবানরা উপকৃত হয়। এখন দেখা যাক আমাদের দেশের সাংবাদিকরা গত দশ বছরে ক্ষমতাবানদের কি কি প্রশ্ন করেছেন। আর কি কি প্রশ্ন করেছেন ক্ষমতাহীনদের?

 

আমাদের সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে জানেন না বলেই দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যত আজ এতটা ধোঁয়াশাপূর্ণ। আমাদের বুদ্ধিজীবীরা সময় মত সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থ বলেই রক্তক্ষয়ের ঘটনা ঘটে বারবার। সুবিধাবাদের দোটানা আমাদের পথ আগলে দাঁড়ায় বারবার।

তাহলে কি ভরসার কোনো জায়গা নেই? নিশ্চয় আছে। এরা হলেন ‘সায়লেন্ট মেজরিটি’ বা “নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ”। এবারের নির্বাচনে এরা সরব হয়ে ভবিষ্যত সরকার ও বিরোধী দলকে চেক এণ্ড ব্যালেন্সের মধ্যে আনবেন। একটি ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে অবসান ঘটাবেন সকল দোটানার।

নিউইয়র্ক, ১৫ই ডিসেম্বর ২০১৮


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান