আসন্ন ভোটযুদ্ধে আমাদের ইশতেহার

Sun, Nov 25, 2018 3:56 PM

আসন্ন ভোটযুদ্ধে আমাদের ইশতেহার

জহিরুল চৌধুরী : ১. আমাদের লক্ষ্যবিন্দু বাংলাদেশের গ্রাম। প্রতিটি গ্রামের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করা। প্রাথমিক শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্হ্য সুবিধা, আবাসন এবং সুপেয় পানীয় ও পয়:নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

 

২. প্রতিটি ইউনিয়নে ব্যাংক সুবিধা থাকবে। ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে প্রতিটি গ্রামের পাকা রাস্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ১০ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা। প্রতিটি ইউনিয়নে মাধ্যমিক স্কুল, এইচএসসি সমমানের শিক্ষা এবং ভোকেশনাল ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সৃষ্টি করা। যাতে যুবকরা নিজস্ব উদ্যোগে কিছু করার সুযোগ পায়, সে জন্য ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা।

 

৩. ইউনিয়ন হবে সকল প্রশাসনিক ও বিচারিক কার্যের প্রাথমিক স্তর। তাই প্রতিটি ইউনিয়নে নিম্ন আদালত প্রতিষ্ঠা করা। যাতে গ্রামের মানুষকে বিচারপ্রার্থী হয়ে শহরমুখী হতে না হয়। দেওয়ানী ও ফৌজদারি মামলা ইউনিয়ন পর্যায়ে নিস্পত্তি করা না গেলে তবেই জেলায় স্থানান্তরিত হতে পারে।

 

৪. নগরায়ণের প্রতি জোর দেয়া হবে। প্রতিটি থানা কিংবা উপজেলা হবে স্যাটেলাইট শহর। উপজেলায় বহুতল ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে স্থানীয় উদ্যোগে। তবে তাতে সরকারি সহযোগিতা এবং সহজসাধ্য কিস্তিতে ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ থাকবে। নগরায়ণ যাতে স্থায়িত্বশীল (সাসটেইনেবল) ও পরিবেশ বান্ধব হয় সেদিকে বিশেষ যত্ন থাকবে।

 

৫. প্রতিটি জেলায় সাধারণ আদালতের পাশাপাশি হাইকোর্টের বেন্চ প্রতিষ্ঠা করা। যাতে বিচার প্রার্থনা করতে নাগরিকদের রাজধানীতে যেতে না হয়। এছাড়া প্রতিটি জেলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শাখা প্রতিষ্ঠা করা। যাতে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসা শিক্ষার প্রধান বিষয়ে ছাত্রদের বড় বড় শহরে ভীড় জমাতে না হয়। এছাড়া প্রতিটি জেলায় থাকবে মেডিকেল কলেজ, যাতে সব ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রদান করা যাবে। প্রতিটি জেলায় স্বতন্ত্র প্রকৌশল কলেজ এবং পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠান থাকবে।

 

৬. প্রতিটি পাবলিক প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে হাসপাতাল ও স্কুল-কলেজ যেন ছবির মত সুন্দর, নির্মল ও দৃষ্টিনন্দন এবং সেবার মান যেন উন্নত বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দাঁড়াতে পারে সেদিকে মনোযোগ দেয়া হবে। সেজন্য বিপুল সংখ্যক ডাক্তার ও প্রকৌশলী নিয়োগের প্রয়োজন দেখা দেবে।

 

৭. যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে আমাদের দেশে বহু প্রতিষ্ঠান মুখ থুবরে পড়ে। এর কারন যোগ্যতা, দায়বদ্ধতা না থাকা। সর্বক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ব্যবস্থা রেখে ইউনিয়ন থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সর্বত্র তরুণদের নিয়োগে উৎসাহ দেওয়া। তারুণ্যের প্রাণশক্তিই হবে উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। আধুনিক বাংলাদেশ মানেই তারুণ্য নির্ভর বাংলাদেশ।

 

৮. স্থানীয় বিচারক, স্থানীয় পুলিশ প্রধান ইত্যাদি নির্বাচিত হবে স্থানীয় ভিত্তিতে। বিচারক ও গ্রাম পুলিশের প্রধান হতে চাইলে নির্দিষ্ট গুণাবলী ও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। এমনকি স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাও নেয়া হবে স্থানীয় ভিত্তিতে। কেন্দ্রের ভূমিকা থাকবে সহায়কের। স্থানীয় স্কুল-কলেজে কেন্দ্রীয় কারিকুলামের বাইরে আর কি কি বিষয় কিংবা সুবিধা যুক্ত করা যায় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেবে স্থানীয় পরিষদ।

 

৯. রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব নির্বাচিত হতে হবে স্থানীয় ভিত্তিতে। স্থানীয়ভাবে দায়িত্ব পালন করে ধীরে ধীরে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্ব বিকশিত হবে।

 

১০. আমরা বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনের নেব। একজন প্রধানমন্ত্রী দুই বারের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এবং কোনো সংসদ সদস্য চারবারের বেশি (২০ বছর এক টানা) নির্বাচিত হতে পারবেন না। এতে করে নেতৃত্বে নতুন এবং তারুণ্যের প্রাধান্য বাড়বে। জাতীয় সংসদে উচ্চ ও নিম্ন কক্ষ নির্ধারণ করা। এবং উচ্চকক্ষের কাজ হবে কেবল নীতি-নির্ধারণ করা। নিম্নকক্ষের কাজ হবে বরাদ্ধ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ণ করা।

 

১১. নদনদী এবং বন-বনানী বাংলাদেশের হৃদপিণ্ড। এগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপণা ও উন্নয়ন না হলে ভবিষ্যত বাংলাদেশ বসবাস অযোগ্য হয়ে যাবে। আবার এগুলোর সঠিক পরিচর্যায় দেশের পর্যটন শিল্প বিকশিত হওয়ার সুযোগ আছে। কাজেই প্রকৃতির এই দান রক্ষণাবেক্ষণে কোনওভাবেই অপচয় বলে বিবেচিত হবে না।

 

১২. উল্লেখিত কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ণে প্রচুর মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণের প্রয়োজন। বাংলাদেশে এখন সেই তারুণ্যের জোয়ার। এরা সর্বশেষ টেকনোলজির সঙ্গে পরিচিত। সর্বপোরি এদের সততা ও কর্মনিষ্ঠার প্রতি বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ থাকার সুযোগ নেই। এরা বিজয়ী হবে সেই বিশ্বাস নিয়েই এই ইশতেহার নিবেদন করলাম।

 

নিউ ইয়র্ক, ২৫শে নভেম্বর ২০১৮


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান