পাঠশালার আসরে ‘দ্যা স্টর্ম’ নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা

Sat, Nov 24, 2018 5:35 PM

পাঠশালার আসরে  ‘দ্যা স্টর্ম’ নিয়ে   প্রাণবন্ত  আলোচনা

নতুনদেশ ডটকম: দর্শন-সমাজ-সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান চর্চ্চা কেন্দ্র 'পাঠশালা'র নবম আসর বসেছিল গত ২২শে নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, এগলিনটন স্কোয়ার টরন্টো পাবলিক লাইব্রেরিতে। এবারের আলোচ্য বই ছিল দ্য স্টর্ম। আলোচনা করেছেন বইটির লেখক আরিফ আনোয়ার। 

প্রথম পর্বে লেখক-আলোচক আরিফ আনোয়ার তুলে ধরেন উপন্যাসটি লেখার পটভূমি, অভিজ্ঞতা, পেছনের গল্প এবং বইটির সারবস্তু। দ্বিতীয় পর্বে আরিফ আনোয়ার, অদিতি জহির ও ফারহানা আজিম শিউলীর যৌথ অংশগ্রহণে উঠে আসে বইটির আরো বিস্তারিত আলোচনা।

বাংলাদেশী-কানাডিয়ান লেখক আরিফ আনোয়ারের লেখা ডেব্যু উপন্যাস - 'দ্য স্টর্ম' এ বছরের মার্চ মাসে বের করে অত্যন্ত প্রেস্টিজিয়াস হারপার কলিন্স পাবলিকেশন্স, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাইমন এন্ড শুস্টার। এখানকার মূলধারার মিডিয়া - নিউইয়র্ক টাইমস, গার্ডিয়ান থেকে শুরু করে সিবিসি বুকস সর্বত্র বইটি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলে বের হবার পর পরই। প্রতিশ্রুতিশীল লেখক হিসেবে এখানকার সাহিত্য জগতে বেশ আলোচনায় উঠে আসেন আরিফ, আরিফের কাজ 'দ্য স্টর্ম।' বলা হয়, তিনি - 'immensely talented new voice in international fiction.' তাঁর 'দ্য স্টর্ম' এপিক হিসেবে,  বিশ্বখ্যাত লেখক খালেদ হোসাইনির 'দ্য কাইট রানার' এবং রোহিনতন মিস্ত্রির 'দ্য ফাইন ব্যালেন্সে'র ধারার লেখার মর্যাদা পায়। গুডরিডসে বইটির রেটিং এবং পাঠ প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ইম্প্রেসিভ। সিবিসি বুকসের এ বছরের উল্লেখযোগ্য বইয়ের তালিকায় 'দ্য স্টর্ম' দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। বইটি ইতিমধ্যে জার্মান, ইতালিয়ান ও তুর্কি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

বইটির গল্প জুড়ে আছে - ৪ টি দেশ, ৫ টি পরিবার, ৭ টি দশক এবং একটি প্রাণঘাতী ঝড়।

এ উপন্যাসে এসেছে ১৯৪২ এর বার্মা, ১৯৪৬ এর ভারত, ১৯৭০ এর বাংলাদেশ, ২০০৪ এর যুক্তরাষ্ট্র; প্রতিটি দেশের ক্রান্তিকাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন বৃটিশ অধিকৃত বার্মায় জাপানের আক্রমণের সময়কাল , দেশভাগের প্রাক্কালে ভারত, জলোচ্ছ্বাসের সময়কার বাংলাদেশ এবং ৯/১১ পরবর্তী ওয়ার অন টেরর চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র।

এসব দেশের, বিচিত্র ব্যাকগ্রাউন্ডের নানান চরিত্রকে আরিফ তাঁর ন্যারেশনে গেঁথেছেন। গল্পে পাই - দরিদ্র বাংলাদেশী জেলে জমির, তার স্ত্রী হনুফা ও তাদের ছোট সন্তান; পাই সচ্ছল ভারতীয় মুসলিম রহিমকে, যে তার স্ত্রী সহ দেশভাগের আগে আগে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় কোলকাতা ছেড়ে পূর্ববঙ্গে চলে যায়। পাই - ক্লেয়ার নামের এক বৃটিশ ডাক্তারকে, যে ধরা পড়া জাপানি পাইলট ইচিরোর চিকিৎসা করে। পাই মূল চরিত্র শাহরিয়ারকে, যার ভিসা শেষ হয়ে যাওয়ায় আমেরিকা ছাড়ার সময় হয়ে এলে নানান অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয়; পাই শাহরিয়ারের সন্তান আনা। আরো পাই অন্যান্য চরিত্র। আর সব কটি চরিত্রের, প্রোটাগনিস্ট শাহরিয়ারের জীবনের সাথে যোগসূত্র স্থাপন করানোর দুঃসাধ্য কাজটি যথেষ্ট দক্ষতার সাথে করেছেন আরিফ।

বইটির বিশাল ক্যানভাস জুড়ে ফুটে উঠেছে - কলোনিয়ানিজম, সাম্প্রদায়িক ইস্যু, মাইগ্রেশন, অভিবাসনের দ্বন্দ্ব-অভিঘাত, মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েন। সবমিলিয়ে এটি এক মহাকাব্যিক প্রয়াসই বটে।

সবশেষে আগত উপস্থিত সাহিত্যানুরাগীগের সাথে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে মিলিত হন আরিফ আনোয়ার।

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন ফারহানা আজিম শিউলী। বিজ্ঞপ্তি।


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান