৭ নভেম্বর ছিল কর্নেল (অব:) তাহেরের নেতৃত্বে একটি সিপাই বিদ্রোহ 

Fri, Nov 9, 2018 1:10 PM

৭ নভেম্বর ছিল কর্নেল (অব:) তাহেরের নেতৃত্বে একটি সিপাই বিদ্রোহ 

মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু: স্টকহলম: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শুক্রবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে সামরিক বাহিনী থেকে বহিষ্কৃত ও চাকুরীরত কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল সেনা কর্মকর্তা। একে সামরিক অভ্যুত্থান বলে আখ্যায়িত করা  যায় না। ১৫ আগস্ট বাংলাদেশে কোনো সামরিক অভ্যুত্থান হয়নি, হয়েছে উচ্সৃঙ্খলতা, অরাজকতা ও দুস্কৃতিকারী দ্বারা অতর্কিত একটি হামলা। যারা কাজটি করেছে তাদের অনেকেই সামরিক বাহিনীতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বহিষ্কৃত ছিলেন। তাদের বেক্তিগত আক্রোশ ও সাথে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্টি,মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষশক্তি একত্রিত হয়ে সেদিন  বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা করেছিলছ। এখানে সি আই এ  সম্পর্কের  কোথাও  অনেকে  বলে  থাকেনl  কারণ বাংলাদেশ তখন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক পথে পা রেখেছিল যা সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা কখনো মেনে নিতে পারেনি।

 

১৯৭৫ জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যখন সমাজতান্ত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ হিসেবে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বাকশালে যোগদান করেছিলেন। তবে মেজর জেনারেল শফিউল্লাহর চেয়ে সিনিয়ার হওয়া সত্তেও তাকে সেনা প্রধান না করাতে তিনি প্রথম থেকেই বঙ্গবন্ধুর উপর মনক্ষুন্ন ছিলেন। অনেকে মনে করেন জিয়াকে সেনা প্রধান করলে হয়তো তিনি অনেক আগেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করতেন। কারণ জিয়া ছিলেন একজন ক্ষমতালোভী, উচ্চুবিলাসী বেক্তি। অতীতে তার বিভিন্ন কার্যকলাপে তা প্রমানিত করেছে।

 

এদিকে  জিয়াউর  রহমান  বাংলাদেশের  রাষ্ট্রীয়  ক্ষমতায় থাকাকালীন সামরিক বাহিনীতে তার বিরুদ্ধে কয়েকবার বের্থ অভ্যুত্থান হয়েছে। এই কারণে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে ঐসময় একে অপরকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা শুরু করে। পরবর্তিতে বের্থ অভ্যুথানকারী এসকল মুক্তিযুদ্ধা অফিসারদের জিয়া ফাসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছিলেন। জিয়ার হুকুমে নিহত অনেক অফিসারের পরিবার এখনো বেঁচে আছেন। তাদের এবেপারে এগিয়ে এসে সবকিছু তুলে ধরে জিয়ার আসল চরিত্রের মুখোস উন্মোচন করা উচিত বলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি মনে করে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কৌশলে জেনারেল জিয়া ক্ষমতা দখল না করলে দেশে এত সামরিক অফিসার হত্যা হতো না। শুধুমাত্র ক্ষমতাকে আক্রে রাখার লক্ষে তিনি যাকেই সন্দেহ করেছেন তাকেই ঠান্ডা মাথায় হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার এই হত্যা শুরু হয় কর্নেল (অব:)  তাহেরকে ফাসি দেওয়ার মধ্য দিয়ে। অথচ এই তাহেরই তাকে একসময় জেল থেকে মুক্ত করেছিলেন। পরবর্তিতে জিয়া কর্নেল(অব:) তাহেরকে ফাসিতে ঝুলিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বাংলাদেশ দুতাবাসে চাকুরী দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন। এখানেই পরিষ্কার হয়ে আসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জেনারেল জিয়ার সম্পর্কতা।

 

তবে তাহেরের ৭ নভেম্বরের সিপাই বিদ্রোহের বেপারে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি নিজেই নিজের ফাদে পড়েছিলেনl সেদিন সাধারণ সিপাইদের উচকিয়ে দেওয়ার কারণে কেন্টনমেন্টের ভেতরে তারা অনেক অফিসারকে হত্যা করে। এতগুলো নিরীহ অফিসার হত্যার জন্য অনেকে সরাসরি কর্নেল (অব:) তাহেরকে দায়ী করেন। কর্নেল তাহের ৭ নভেম্বর সিপাইদের নিয়ে বিদ্রোহ না করলে কারাগারে বন্দী জিয়াকে বঙ্গবন্ধু হত্যার দোষে বিচারের সন্মুক্ষীন হতে হতো। খালেদ মোশাররফ তাকে সরাসরি হত্যা না করে গ্রেফতার করার কারণই ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার সকল রহস্য জিয়ার মুখ থেকে বের করে আনা। কিন্তু সেই সুযোগ আর পাওয়া যায়নি। কর্নেল তাহেরের সিপাই বিদ্রোহ সবকিছু উলট পালট করে দেয়। পরবর্তিতে জিয়ার বিচার হওয়াতো দুরের কথা উল্টো তাকে বীরের মত মুক্ত করে এনেছিলেন কর্নেল (অব:)  তাহের। চতুর জিয়া মুক্তির পর আর অপেক্ষা না করে তার জীবন রক্ষাকারী কর্নেল (অব:) তাহেরকে ফাসিতে ঝুলিয়ে দেন।  

 

ঐতিহাসিক দৃষ্টি কোন দিয়ে বিবেচনা করলে দেখা যায় যে ৭ নভেম্বর আসলে ছিল জাসদ সমর্থিত কর্নেল (অব:)  তাহেরের নেতৃত্বে ঘটে যাওয়া একটি সিপাই বিদ্রোহ। যার নাম দেওয়া হয়েছিল সিপাহী জনতা বিপ্লব। এই তথাকথিত বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি শুধু বন্দী জিয়াকে মুক্ত করে সেনা প্রধান বানাতে পেরেছিলেন। সেনা প্রধান হওয়ার পর জিয়া কৌশলে কর্নেল (অব:) তাহেরের সিপাহী জনতা বিপ্লবের অন্যান্য পরিকল্পনাগুলো আর সফল হতে দেননি। সুতরাং কর্নেল (অব:)  তাহেরের সিপাহী বিদ্রোহের কারণে ৭ নভেম্বরকে জাসদের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন বলা যেতে পারে, কিন্তু বিএনপির জন্য কিছুই ছিল না। অথচ মিথ্যা ইতিহাসের বদৌলতে দিনটিকে এখন পালন করছে বিএনপি। তারা বলছে এই দিন জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনা হয়েছিল। একেবারে সত্য কথা। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে কে করেছিল এই মুক্তি? এইদিন বিএনপি কেন ভুলেও তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মুক্তিদাতা কর্নেল (অব:) তাহেরের নাম উচ্চারণ করে না।

 

পচাত্তরের পরবর্তিতে এভাবেই দেশের জনগনকে এক বিভ্রান্তির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিএনপির জন্য যদি ৭ নভেম্বর পালন করতে হয় তাহলে সবার আগে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে হবে কর্নেল (অব:) তাহেরকে। যিনি তাদের নেতাকে মুক্ত করেছিলেন। কিন্তু বিএনপি কি তা করছে? করছে না। কারণ সত্য সামনে আসলে তাদের নেতা জিয়াকে মরণোত্তর বিচারের কাঠ গড়ায় দাড়াতে হবে। যে দাবি আজ হাসানুল  হক ইনু সহ জাসদের নেতারা এখন করছেন।

 

সব কথার শেষ কথা হলো ৭ নভেম্বর ছিল কর্নেল (অব:) তাহেরের নেতৃত্বে একটি সিপাই বিদ্রোহ, বিএনপির কোনো দিবস নয়। দিনটি জাসদ নেতা কর্নেল (অব:) তাহেরের সিপাহী বিদ্রোহের দিন। এজন্য একমাত্র জাসদই পালন করতে পারে ৭ নভেম্বর, বিএনপি নয়। বিএনপি যদি জিয়ার মুক্তি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর পালন করে তাহলে জিয়ার মুক্তিদাতা কর্নেল (অব:) তাহেরকে তাদের শ্রদ্ধা ও সন্মানের সাথে স্মরণ করতে হবে। এখন আর মিথ্যা ইতিহাস রচনা করে জনগনকে ধোকা দেওয়া যাবে না। সুতরাং বিএনপির ৭ নভেম্বর পালন থেকে দুরে সরে আসাই হবে সবচেয়ে বড় উত্তম কাজ। শাক দিয়ে মাছ ঢেকে বিএনপি আর কতদিন রাজনীতি করবে?


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান