চেক এণ্ড ব্যালেন্স

Wed, Nov 7, 2018 10:20 PM

চেক এণ্ড ব্যালেন্স

জহিরুল চৌধুরী: ডোনাল্ড ট্রাম্প দিনে দিনে যে বেপরোয়া হয়ে উঠছিলেন সেটা আমেরিকাবাসী বুঝতে মোটেও বিলম্ব করেনি। মানুষের এই উপলব্ধি কিন্তু একদিনে গড়ে উঠেনি! এজন্য সময় লেগেছে প্রায় আড়াই শ বছর। যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৭ বছরের গণতন্ত্র।

 

কাজ থেকে ফিরে, নেয়ে-খেয়ে, খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে ভোট দিতে গেলাম সন্ধ্যা ছ’টায়। গিন্নি তখনও বৈকালিক নিদ্রায়। ভোটকেন্দ্রে যেয়ে দেখি লম্বা লাইন। আমার আগে জনা পঁচিশেক। মিনিট পাঁচের মধ্যে আমার পেছনেও জনা বিশেক। টাউন হলের পার্কিং লটে গাড়ি পার্কের জন্যও খানিকটা অপেক্ষা করতে হয়েছে।

 

গত প্রায় দশ বছর ধরে ভোট দিচ্ছি। কিন্তু এমন লম্বা লাইন কখনো দেখিনি। লাইনে আমার সামনে দাঁড়ানো প্রতিবেশি মি রাফায়েলের স্ত্রী লাল জ্যাকেট গায়ে। এই লাল জামা গায়ে জড়ানোর অর্থ বুঝে নিলাম, এদের পুরো পরিবার রিপাবলিকানের সমর্থক। কাকতালীয় ব্যাপার- আমার গায়েও পাতলা নীল রং-এর জ্যাকেট। ডেমোক্রেটের সমর্থক হওয়ার কারনেই যে আমি নীল পরেছি, এমনটা নয়!

 

ভোট দিয়ে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে সাতটা। গিন্নির অনুযোগ- ভোট দিতে আমায় কেন নিয়ে গেলে না? কীভাবে তুমি একা ভোট দিতে চলে গেলে আমাকে ছাড়া? ‘ বললাম- এখনো এক ঘন্টা বাকি আছে। যাও ভোট দিয়ে আসো। অগত্যা তিনি একাই গেলেন। বললাম- ব্যালটের সবচেয়ে উপরের সারির সব ক’টি গোল চক্কর কালি দিয়ে ভরে দেবে।

 

গভর্ণর, সিনেটর, স্টেট কংগ্রেস পারসন, কাউন্টি জাস্টিস, পারিবারিক আদালতের বিচারক- সবাই ওই একটি ব্যালটেই। এমনকি স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরির জন্য অতিরিক্ত ৮ হাজার ডলার দেয়া উচিত কি-না তারও গণ ভোট ওই একই ব্যালটের পেছনের পাতায়!

 

গিন্নি ভোট দেয়ার জন্য ঘুম বরবাদ করার মানুষ না। কিন্তু তার কথা উল্লেখ করলাম এ কারনে যে, ট্রাম্পের কথাবার্তা তার মত গোবেচারীকেও এতটা বীতশ্রদ্ধ করে তুলেছে যে, ভোট না দিয়ে রক্ষে নেই!

আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা জনকেরা এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন, যাতে সরকার তার মধ্যবর্তী মেয়াদে নিজের ভুলগুলো ধরতে পারে। জনগণ রায় দিয়েছে- সরকারকে জবাবদিহিতে বাধ্য করার।

 

আট বছর পর ডেমোক্রেট আবার কংগ্রেসে সংখ্যা গরিষ্ঠতা ফিরে পেয়েছে। তবে সিনেটে রিপাবলিকানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অটুট আছে। কংগ্রেসে ২৭টি আসন কেড়ে নিয়ে ডেমোক্রেটের আসন সংখ্যা এখন ২২২, আর রিপাবলিকানের ১৯৬। সিনেটে রিপাবলিকান ৫১, ডেমোক্রেট ৪৬।

 

ট্রাম্প ভোটের ফলাফলকে স্বাগত জানালেও ডেমোক্রেটের নেতারা ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন- তারা ‘ইলেকশন মেডেলিং’-এর ঘটনাটিকে কংগ্রেসে তুলবেন। এবং সেটা ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট পর্যন্তও গড়াতে পারে। শুধু তাই না, গত নির্বাচনের আগে ট্রাম্প যে তার ট্যাক্স রিটার্ণের কাগজ জনসমক্ষে উপস্থাপন করেননি, সেটিও তারা তলব করে ছাড়বেন।

বাংলাদেশেও এখন চেক এণ্ড ব্যালেন্স খুব দরকার। সরকারকে দায়বদ্ধতার মধ্যে আনা, সংসদে জবাবদিহিতার একটি পরিবেশ তৈরি করা খুবই জরুরি। এরশাদের ভাষায় এখন যে “মিলমিশের সংসদ” রয়েছে সেটি আবার বহাল হলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে ছাড়া কমবে না।

নিউইয়র্ক, ৭ই নভেম্বর ২০১৮


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান