জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন

Sat, Oct 20, 2018 11:44 PM

জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন

কুমার অনুপ: জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের ইস্যুটি দেশব্যাপী বেশ একটা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে বলেই মনে হচ্ছে। এই ব্যাপারে একটি বিশ্লেষণ দেয়ার জন্য অনেকদিন ধরেই আমার মনটা আঁকিবুকি করছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এটা কেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু? আমার কাছে দুটি উত্তর; জাতীয় নির্বাচন আসন্ন হলে জোট গঠনের একটা তোড়জোড় শুরু হয় ঠিক যেমনটি হয় ফুটবল বা ক্রিকেট লিগে টাকার বিনিময়ে দল পরিবর্তন, আর একটি উত্তর হচ্ছে মিডিয়ার অতিআগ্রহ যেটা হয়তো খুবই স্বাভাবিক।

আমার একটি প্রশ্ন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্যের ভিত্তি কি? আমার কাছে মনে হয় এটি একটি জগাখিচুড়ি ঐক্য। এই ধরণের একটি জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট করে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় চলে যাওয়া যাবে বলে মনে হয়না। আমি বিশ্বাস করি ঐক্য ফ্রন্টের যারা নেতা বিশেষ করে ড: কামাল হোসেন, আসম আব্দুর রব, বি চৌধুরী দের কোনো একসময় জাতীয় রাজনীতিতে অনেক বড় ভূমিকা ছিল কিন্তু পাশাপাশি এটাও মানতে হবে ভোটের রাজনীতিতে তারা আজ ব্যর্থ।

 প্রশ্ন আসতে পারে ১৪ দলেরও তো একই অবস্থা, আওয়ামীলীগের বাইরে একমাত্র জাতীয় পার্টি ছাড়া অন্য কারোরই হয়তো একক ভাবে আসন পাওয়ার সম্ভবনা নেই। তাহলে পার্থক্যটা কোথায়? আমার বিশ্লেষণ হচ্ছে, আওয়ামীলীগ যখন ১৪ দলের নেতৃত্বে ক্ষমতায় এসেছিলো তখন রাজপথে আওয়ামীলীগের একটি শক্তিশালী ইতিবাচক ভূমিকা ছিল যেটা ঐক্য ফ্রন্টের বৃহৎ দল বিএনপির নেই। বিরোধী দল হিসেবে তারা আন্দোলন সংগ্রামকে কখনোই চাঙ্গা করতে পারে নাই। তাই জনগণের আস্থা যে তাদের উপর আছে এটা পুরোপুরি ভাবা ঠিক হবেনা। আর একটি বিষয় ১৪ দলের ঐক্যের মূল ভিত্তি ছিল মুক্তিযুদ্ধ। জাতীয় ফ্রন্টের ঐক্যের ভিত্তি মানুষের কাছে আসলে কি পরিষ্কার? যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, ওই দলের একজন সাধারণ কর্মীর কাছেও ড: কামাল বা আসম রবের গুরুত্ব ছিল একেবারে শূন্যের কোঠায়। আর আজ শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ওই দলের সেই সব কর্মীর কাছে ড: কামালরা হয়েছেন দেবতূল্য এবং ওনারাও সেটা বেশ উপভোগ করছেন, বিষয়টি কিছুটা হাস্যকর নয় কি?

 যখন রাজনীতিবিদরা বলেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই তখনি সাধারণ মানুষরা বড়ই অসহায় হয়ে পড়ে । রাজনীতি কি শুধুই ক্ষমতায় আরোহনের জন্য, আদর্শের কি সেখানে কোনই মূল্য নেই? বর্তমান সরকারের শাসনআমলে অন্যায়, অত্যাচার, দুর্নীতি হয়নি বললে মিথ্যা বলা হবে।তবে যে উন্নয়নটা হয়েছে সেটাকে স্বীকার না করলে মিথ্যাচার হবে। স্বীকার করতে হবে বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে অনেক শক্তিশালী।

আমার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বলে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির বড় দুটি রাজনৈতিক ভুল আছে। আওয়ামীলীগের ক্ষেত্রে আমি মনে করি ড. কামাল বা কাদের সিদ্দিকীর মতো পরীক্ষিত মানুষের সাথে অনেক আগেই একটা আপোষ করা দরকার ছিল। এটা বিশ্বাস করা দরকার তারা দলের বাইরে থাকলে নিজেদের ভালো করতে না পারলেও আপনার দলের জন্য ক্ষতিকর কোনো অবস্থা তৈরী করতে পারে। আর বিএনপির ক্ষেত্রে আমার বিশ্বাস তারা যদি অনেক আগেই জামাতের রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হতো তাদের গ্রহণযোগ্যতা জনগণের কাছে আরো বাড়তো। পরিশেষে আরেকটি কথা বলে আমি শেষ করতে চাই যে, আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা আমাদের দেশের রাজনীতিতে ক্ষমতায় অধিষ্টিত হওয়ার জন্য যেমন প্রয়োজন জনগণের ভোট পাশাপাশি আরো অনেকগুলি প্রচ্ছন্ন ফ্যাক্টর আছে যাকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবেনা।ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সেই প্রচ্ছন্ন ফ্যাক্টরগুলি হয়তো অনেকসময় মূল ভূমিকা পালন করে।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান