রাষ্ট্রপতির ‘সমাবর্তন’ বক্তৃতা

Sun, Oct 7, 2018 1:47 AM

রাষ্ট্রপতির ‘সমাবর্তন’ বক্তৃতা

শ্ওগাত আলী সাগর : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেয়া রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আবদুল হামিদের বক্তৃতা নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের আচার্য্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি সব সমাবর্তন অনুষ্ঠানেই আমন্ত্রিত হন। কিন্তু সেখানে একজন মূল বক্তা থাকেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মূল বক্তা ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। রাষ্ট্রপতির বক্তৃতা নিয়ে আলোচনার  তোড়ে সমাবর্তন বক্তা কোথায় যেনো চাপা পড়ে গেছেন।

 

সত্যি বলতে কি রাষ্ট্রপতির বক্তৃতা নিয়ে আলোচনায় প্রশংসার চেয়ে তার নিন্দাই বেশি হচ্ছে। অতি উৎসাহী অনেকেই  ওবামা এবং জাস্টিন ট্রুডোর দেয়া সমাবর্তন বক্তৃতার ভিডি্ও ক্লিপ ফেসবুকে পোষ্ট দিচ্ছেন। ওবামা কিংবা ট্রুডো সরকার কিংবা রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে ওই সব অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেননি। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেটি করেছেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। আনিসুজ্জামানের বক্তৃতায় কি আছে সেটি কোনো মিডিয়াই সেইভাবে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেনি। যারা রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের সমালোচনা করছেন- তারা্ও বোধ হয় আনিসুজ্জামানের  বক্তৃতার উদ্ধৃতি দিতে পারছেন না।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য নিয়ে আলোচনা সমালোচনার মূল বিষয় কি? তিনি হাস্যরস করার চেষ্টা করেছেন, স্যাটায়ার করার চেষ্টা করেছেন। সেই স্যাটায়ারটা আমরা অনেকেই ঠিক ধরে উঠতে পারিনি। কিংবা রাষ্ট্রপতি কেন এই ধরনের হাস্যরস করবেন- এমন একটা মনোভাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। কিন্তু হাস্যরসের ভেতর দিয়ে তিনি যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেছেন- সেটি  আমরা এড়িয়ে যাচ্ছি।

 

সাধারন মানুষের সাথে আলোচনায় সিংহভাগই রাজনীতিকে  বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন। আমি নিজেও মনে করি, রাজনীতি প্রাতিষ্ঠানিকতা পেলে, শুদ্ধ রাজনীতি বিস্তৃতি পেলে বাংলাদেশের  অনেক সমস্যা এমনিতেই শেষ হয়ে যাবে। সেই রাজনীতির শুদ্ধতা নিয়ে রাষ্ট্রপতি  যে কথা বলেছেন তাতে কিন্তু দেশের সিংহভাগ মানুষের মনের ভা্বনাই ভাষা পেয়েছে। আমি তো মনে করি রাজনীতি নিয়ে রাষ্ট্রপতির কথাগুলোকে আরো বেশি ছড়িয়ে দেয়া দরকার, তৃণমূল পর্যায়ে এই বক্তব্যের স্বপক্ষে যে  মৌন জনমত আছে সেগুলো সংগঠিত করা দরকার। অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে আমরা উপেক্ষা করে যাচ্ছি।

 

দলীয় সরকারের রাষ্ট্রপতির সেই অর্থে  কোনো ক্ষমতা থাকে না। বাংলাদেশের সংবিধানও রাষ্ট্রপতিকে তেমন ক্ষমতা দেয়নি। দলীয় সরকারের রাষ্ট্রপতির পক্ষে রাজনীতি নিয়ে তিক্ত কথা বলাটা্ও তার জন্য ঝুঁকির। কিন্তু এডভোকেট আবদুল হামিদ সেই কাজটিই করেছেন। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তিনি এর আগেও কথা বলেছেন, এবারও বললেন। যেখানে সরকার নিজে ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে অনাগ্রহী, সেখানে সরকারের রাষ্ট্রপতি বারবার ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন, বলছেন- সেজন্য তাকে তো সাধুবাদ দেয়া দরকার।

 

সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যকে আমি একটা আলোকবর্তিকা হিসেবে দেখছি। তার বক্তৃতায় যে রাজনীতি, সমাজ এবং তরুনদের মানস গঠন নিয়ে আক্ষেপগুলো ঝড়ে পড়েছে সেগুলোকে আরো বেশি বেশি উচ্চারণের ব্যবস্থা নেয়ার পক্ষে আমি। যারা তার বক্তব্য নিয়ে হতাশ কিংবা সমালোচনামুখর হচ্ছেন- তাদের জন্য সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের বক্তৃতাটাই আবার পড়তে বলি- “ উচ্চশিক্ষা নিয়ে একজন গ্র্যাজুয়েট যদি ভালোমন্দ বিচার করতে না পারেন, ভালোর পক্ষে দাঁড়িয়ে মন্দকে প্রতিরোধ করতে না পারেন, তাহলে তাঁর উচ্চশিক্ষা বৃথা।

 

শ্ওগাত আলী সাগর, নতুনদেশ এর প্রধান সম্পাদক


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান