নির্বাচনী হাওয়ায় ইতিহাস কেন মনে পড়ে

Tue, Sep 25, 2018 10:37 PM

নির্বাচনী হাওয়ায় ইতিহাস কেন মনে পড়ে

বেলাল বেগ: আমাদের লোকসাহিত্য, লোকসংগীত, প্রবাদ-প্রবচন, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, সহজ সরল জীবনধারা ইত্যাদি প্রমান করে আমরা একটি স্বচ্ছল, মেধাবী, কর্মমুখর, কল্পনাপ্রবন সৃজনশীল প্রাচীন জাতি ছিলাম এবং আছি। আমরা এখন কেবল বিভক্ত নই, পরস্পরের প্রাননাশেও পিছপা হইনা। আমাদের এ অধঃপতন শুরু হয়েছে বৃটিশ আমলে বৃটিশদেরই চক্রান্তে।

৫০০০ মাইল দূর থেকে ব্যবসায়’র জন্যে এসে একটা বৃটিশ কোম্পানীর অল্প কিছু শ্বেতচর্ম মানুষ ১৭৫৭ সালে লক্ষ কোটি মানুষের আস্ত একটা রাজ্য পেয়ে গেলে তা দখলে রাখার সমস্যা ত হবেই। তা মোটেও হয়নি কারণ ধূর্ত ও অসৎ দখলকারীরা লক্ষ করল বাঙালি তথা ভারতবর্ষের মানুষ ধর্মের বাইরে কিছুই ভাবতে পারে না। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বঙ্গদেশ দখলকারী বৃটিশ কোম্পানীর মানুষগুলি কালবিলম্ব না করেই ধর্মকে লোকদেখানো শ্রদ্ধার ধাপ্পায় হিন্দু-মুসলমানকে দাসের মত অনুগত করে ফেলে এবং খুব সহজেই এক দলকে আরেক দলের বিরুদ্ধে মরণপণ দ্বন্ধ ও শত্রুতায় লিপ্ত করে দিতে সমর্থ হয়। কালক্রমে ভারতবর্ষে স্থায়ী হয়ে পড়ে চরম ঘৃণার একটা সাম্প্রদায়িক পরিবেশ। জনগনের মধ্যে সৃষ্ট এই ঘৃন্য বিভেদই বঙ্গদেশ তথা ভারত উপমহাদেশকে প্রায় ২০০ বছর বৃটীশের শাসন শোষণ ও লুন্ঠনের অভয়ারন্যে পরিণত করে।

 ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ, বৃটিশ দখলদারদের মনে গোপন আতংক করলেও তাদের ধর্মধাপ্পার রাজ্নৈতিক কৌশল ভারতবাসীদের বশীভূত ও পদানত রাখতে সমর্থ করে আরও প্রায় ১০০ বছর। ইতিমধ্যে বৃটিশ ধর্মধাপ্পাবাজদের সংস্পর্শে এসে ভারতবাসীগন ধীরে ধীরে রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠে। এটি বৃটিশ শাসকদের নজর এড়ায়নি। তারা বুঝে ফেলেছিল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালে না হলেও, পরবর্তী যে কোন সময়ে তাদের ভারতবর্ষ থেকে ভেগে যেতে হবে। বৃটিশ কুটনীতি এ কথাও বুঝে নিয়েছিল অখন্ড ভারতবর্ষের পরাশক্তি হয়ে উত্থান অদূরে নয়। এই অনাকাঙ্খিত উত্থান রোধ করতেই ধর্মধাপ্পা রাজনীতির করাত দিয়ে ভারতবর্ষকে তিনটি বিসদৃশ্য টুকরো বানিয়ে সেগুলিতে পুঁতে দেয়া হয় হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক কোটি মাইন যা এখনও সক্রীয় আছে আধুনিক বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানে। বৃটিশ লালিত ধর্মধাপ্পা রাজনীতির মুসলিম চ্যাম্পিয়ন মওলানা মওদূদী এবং হিন্দু চ্যাম্পিয়ন পন্ডিত মালব্য উভয়েরই স্বপ্ন ছিল অবিভক্ত ভারতের একচ্ছত্র মালিক হবেন তারা। তাদের প্রবল প্রতিদ্বন্ধিতাও ভারতবর্ষের বিভক্তি দ্রুততর করেছিল।

আজকের বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত যেন ১৯৪৭ সালেরই ধর্মধাপ্পার অনিবার্য পরিনতি। সাম্প্রদায়িকতার অভিশাপে কোনটি রাষ্ট্রই শান্তিতে নেই। প্রতিভাবান সৃজনশীল ও কর্মচঞ্চল হওয়ায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের সুযোগ নিয়ে শক্তিশালী জাতি হবার সুযোগ সবচেয়ে বেশি ছিলবাঙালিদের। কিন্তু আওয়ামি লীগ, বিএনপি, জামাতে ইসলামি এবং অন্যান্য ইসলাম-পছন্দ পার্টিগুলি সবাই ধর্মধাপ্পাকেই রাজনৈতিক কৌশল বানিয়ে ফেলায়, বাহ্যিক উন্নতি সত্বেও বাংলাদেশ পশ্চাদপদই আছে এবং থাকবে। এই অবস্থায় কোন একদিন বঙ্গবন্ধু ও জিয়ার মাজার নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে এবং সে উপলক্ষে পালিত উৎসব উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম মসজিদের গম্বুজের উপর হয়ত উড়বে ইসলামি ঝান্ডা। এতে মৃত মৌলানা মওলানা মওদূদীর আত্মা খুশি হলেও, ক্ষিপ্ত হবে পন্ডিত মালব্যের আত্মা। সে সময় আমার সোনার বাংলার পরিবর্তে দিগন্ত উচ্চকিত করবে পাক সর জমিন সাদবাদ। স্লোগান হবে, ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হর্ কারবালা কে বাদ’ । ইসলামি রাজনীতি মানেই ‘মোল্লাতন্ত্র’ যা আধুনিক সভ্যতার অলঙ্কার গনতন্ত্রের শত্রু।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান