সুরেন্দ্রর ক্যুস্বপ্নের ভাঙা ডিম

Sun, Sep 23, 2018 3:38 PM

সুরেন্দ্রর ক্যুস্বপ্নের ভাঙা ডিম

লুৎফর রহমান রিটন : রাত জেগে দেখলাম সুরেন্দ্রর দীর্ঘ একটা সাক্ষাৎকার, সোহেল মাহমুদের নেয়া। নিউইয়র্ক ভিত্তিক প্রাইভেট টিভি চ্যানেল টাইম টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনায় সাক্ষাৎকারটি ধারণ করা হয়েছে নিউইয়র্কেই। স্টুডিওতে নয়, কোনো একটি বাড়িতে। খুবই ইন্টারেস্টিং সাক্ষাৎকারটি। সাংবাদিক সোহেল চেষ্টা করেছেন প্রফেশনালিজম বজায় রাখতে কিন্তু প্রায়ই সেটায় ব্যাঘাত ঘটিয়েছেন সুরেন্দ্র কুমার। সোহেলের নির্ধারিত প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি ব্যস্ত থেকেছেন সাত কাহন বয়ানে। টু দ্যা পয়েন্টে জবাব পাওয়ার আশায় সোহেল প্রাসঙ্গিক প্যারালাল প্রশ্ন করতে গেলে সুরেন্দ্র তাঁকে থামিয়ে দিয়েছেন দৃষ্টিকটু ভাবে। পুরো অনুষ্ঠানে উপস্থাপককে মনে হয়েছে নিতান্তই অসহায় একজন। স্যার মাইন্ড করতে পারেন, কিংবা এই বুঝি স্যার রেগে গেলেন, এই বুঝি ধমকে উঠলেন এরকম একটা আপাত জড়োসড়ো পরিস্থিতিতে অনেক ধৈর্য্য নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব চালিয়ে নিচ্ছিলেন উপস্থাপক। কিন্তু শেষমেশ অনেক সংক্ষিপ্ত সময়ে বেশ ক'টা গুরুত্বপূর্ণ এবং অপ্রিয় প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতে পেরেছেন তিনি সুরেন্দ্র কুমারের দিকে। এবং সুরেন্দ্র সেই কাঙ্খিত প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেছেন যথারীতি। জবাব দিলেও সেটা ছিলো খন্ডিত কিংবা পাশ কাটানো।

 

সোহেলের সঙ্গে চার ঘন্টা ধরে কথা বলেছিলেন সুরেন্দ্র। সেটা কাটছাঁট করে আড়াই ঘন্টায় প্রচার উপযোগী স্লট তৈরি করা হয়েছে। প্রায় ক্ষেত্রেই অনাবশ্যক দীর্ঘ এবং বোরিং জবাব দিয়েছেন সুরেন্দ্র। সত্য লুকানো কিংবা পাশ কাটানো এবং অর্ধ সত্য কিংবা কখনো কখনো মিথ্যার আশ্রয়ও নিয়েছেন সুরেন্দ্র, সেটা তাঁর এক্সপ্রেশনেই বোঝা গেছে। অনিরুদ্ধের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা কি, তাঁর পদত্যাগ এবং দেশত্যাগের সঙ্গেই বা অনিরুদ্ধ কীভাবে সম্পর্কিত সেটার জবাবও সুরেন্দ্র যেভাবে এবং যেটুকু দিয়েছেন তাতে দর্শকের মনে সন্দেহটা বহাল থেকেই যায় যে--অনিরুদ্ধ নামের সফল একজন লেদার ব্যবসায়ীর সঙ্গে (যিনি কী না বহুবার সিআইপি হিশেবে সম্মান প্রাপ্ত নাগরিক) রহস্যজনক কোনো লেনদেন বা কর্মকাণ্ডে সুরেন্দ্র জড়িত ছিলেন। বিশেষ বাহিনির হাতে অনিরুদ্ধের ধরা পড়ার পরেই সুরেন্দ্রর পদত্যাগ ও দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি সুরেন্দ্র অস্বীকার করার সুযোগই পাননি উপস্থাপকের কৌশলী মন্তব্যের কারণে।

 

সুরেন্দ্র বলেছেন কাণ্ডকীর্তির পর এই প্রথম তিনি কোনো মিডিয়ায় মন খুলে কথা বললেন। প্রশ্ন উঠতে পারে, এতো এতো পরিচিত বিখ্যাত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম থাকতে টাইম টেলিভিশন নামের অনামা অজানা অখ্যাত একটা নিউইয়র্ক ভিত্তিক টেলিভিশনকে তিনি কেনো বেছে নিলেন? তবে টাইম টিভিকে ধন্যবাদ দিতেই হয়, এরকম বার্নিং একটা ইস্যুকে জনসমক্ষে তুলে আনার জন্যে। তবে আরো কিছু প্রশ্ন উপস্থাপকের কাছে আশা করেছিলাম। যেমন বিচারচলাকালীন যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে সুরেন্দ্রর গোপন সাক্ষাৎ।

 

যে জুডিশিয়াল ক্যুস্বপ্ন সুরেন্দ্র দেখেছিলেন পাকিস্তানি আদলে, সেটা সফল হলে তিনি হতেন ক্রান্তিকালের রাষ্ট্রপতি। ক্যুস্বপ্নটা ব্যর্থ হয়েছিলো বলে তিনি আজ লেজ গুটিয়ে দেশান্তরি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগসমূহকে ফেস করার সাহস তাঁর ছিলো না বলেই এস্কেপ বা এক্সিট রুট হিশেবে উড়াল দেয়াটাকেই বেছে নিয়েছেন তিনি।

 

সরকার তাঁকে পলায়নের অপশনটা না দিলেই বরং ভালো হতো। ছোট অপরাধ করে সাধারণ মানুষের কপালে জোটে জেল আর বড় অপরাধ করে অসাধারণ মানুষ সুরেন্দ্রর জন্যে ডিজিএফআইয়ের বড় কর্তা ঝটপট উড়াল দিতে কিনে দিতে চান প্লেনের টিকিট, এ কেমন বৈষম্য?

 

সুরেন্দ্রর ব্রোকেন ড্রিম-এর ডিম ফেটে যে বাচ্চাকাচ্চা বেরুনো শুরু করেছে তাতে আগামীদিনে আরো কিছু উড়াল এবং গ্রন্থপ্রণেতার দেখা পাওয়া যাবে বলে মনে হচ্ছে।

 

অটোয়া ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান