নিজের দেশের মাটি, দপ দপাইয়া হাটি!

Wed, Sep 12, 2018 10:52 PM

নিজের দেশের মাটি, দপ দপাইয়া হাটি!

শেখ শামসুন্নাহার ইতি: বাংলাদেশে এবার বেড়াতে গিয়ে বন্ধু আল্পনার বাড়িতে যখন শ্রদ্ধেয়  মাহবুব ভাইয়ের সাথে কথা বলছিলাম তখন ভাইয়া আমাকে বলল " ইতি তুমি কি  সত্যি কানাডায় নিজের দেশের সুখ  পাও? আমি ভাইয়া কে অবাক করে দিয়ে বললাম " হে ভাইয়া , ২০১৪ সাল থেকে পাই। "  সত্যি বলতে, যে দিন " লিবারেল সরকার আবার ক্ষমতায় এলো তখন থেকেই এই অনুভূতি মনে কাজ করে'!

কিন্তু কেন?

জাস্টিন ট্রুডো এমন কি করেছে যে আমি তাকে এতটা বিশ্বাস করতে পারি? আমি তার গুণ বন্দনা করার জন্য আজকে লিখতে বসিনি। আমি শুধু এই টুকুনই বলবো , কানাডার সরকার এবং সমাজএর  গঠনটাই এমন যে এখানে মানবাধিকার এবং নারী ও শিশু অধিকার পূর্ণ  মাত্রায় রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়। তো এর সাথে " জাস্টিন ট্রুডোর" সম্পর্ক কি ? আছে তো, তিনি  স্পেশাল চাইল্ডদের  জন্য বিলিয়ন - বিলিয়ন ডলার এর বাজেট পাশ করেছেন! মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোর পাশে দাড়িয়েছেন। যে কোনো ধর্মীয় বিতর্কের উর্ধে  কানাডাকে রেখেছেন। এর জন্য জাস্টিন ট্রুডোকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে কিন্তু তিনি কান দেননি। কোনো নিন্দার ভয় পাননি। মানবতার সাথে আপোষ করেননি। 

আমি তাকে শুরুতে ভোট দিতে চাইনি! মনে হয়েছিল " এই রকম লাল্টো মার্কা চেহারা নিয়ে নায়ক হলে মানায় কিন্তু নেতা হবে কি করে?  তার পরেও আমি তার বাবার ইতিহাস জেনে আর তার অনলাইন প্রফাইল দেখে ভাবলাম দেখি তো আসলেই তিনি মানুষের কাছে কেমন গ্রহনযোগ্য ? আমি অবাক হয়ে দেখলাম, " নিরবাচনের বহু আগে থেকেই তিনি খুব জনগনের কাছে যেতেন ! তিনি  কমিউনিটির মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। মন্দির-মসজিদ-গীরজা সব জায়গার মানুষের সাথে তার মেলামেশা। মানুষ তাকে ভালবাসে !

মন্ট্রিয়াল এর এক ভাবিকে ফোন দিলাম। ভাবি বললেন ," আরে জাস্টিন ট্রুডো! ওর কথা আর বইলেন না! ওর বাবা যে প্রধানমন্ত্রী ছিলো এইটা ওরে দেখলে জীবনেও বিশ্বাস হবে না"! আমি বললাম কেনো? ভাবি বললেন, জাস্টিন ট্রুডো সব জায়গায় হাসি মাখা মুখ নিয়ে যাবে , কোনো অহঙ্কার নাই। সবার সাথে মিশে । আমি আমার সিদ্ধান্ত নিলাম আর কিছু দিন পরে টিভিতে ওর ইন্টারভিও দেখে।

আমি ভিন দেশ থেকে আসা মানুষ টা ওকে ভরসা করতে পারলাম। জাস্টিন ট্রুডোর মঞ্চ লাগেনা, ও বেঞ্চের উপর দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করতে পারে। নাফটা চুক্তি নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।

আমাদের বাঙালি কমিউনিটিতে এত তুখোড় নেতা চাইনা। কিন্তু, এই টুকুন তো চাইতেই পারি যিনি আমাদের emotional blackmail করার দুঃসাহস দেখাবেন না। অন্তত পক্ষে তার সম্পত্তির সঠিক হিসাবটা দিবেন। আমি বলছি না যে সবাই এমন । কিন্তু , ভোটে যেন একজনও এমন নেতা প্রার্থী না হতে পারেন যার "সততা নিয়ে প্রশ্ন আছে!"

যাকে ভোট দিব, তার থেকে আমাদের বাঙ্গালী community তে যারা  ভোটার, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা নৈতিক যোগ্যতায় কোন অংশেই তারা কম না। আর তাই বাঙ্গালী ভোট ব্যাংককে আবেগ প্রবন, বোকা ভাবার কোন কারন নেই। বাংলাদেশের কোন ঋণ খেলাপী এবারের নির্বাচনে সম্পূর্ণ ভাবে বর্জিত হোক।  কানাডায় এসেও যদি এদের সহ্য করতে হয় তবে তো আমরা আবার সেই খাল কেটে  কুমির আনব! এই ভুল তো করা যাবে  না। প্রার্থীর অতীত ইতিহাস জানার অধিকার অবশ্যই ভোটারদের আছে। প্রয়োজনে প্রার্থীদের মধ্যে বিতরকের আয়োজন করা হোক। হাড়ির খবর তখন এমনিতেই  বেড়িয়ে যাবে। ভোট কোন বাণিজ্য না। এটা আমাদের সামাজিক মর্যাদার বিষয়ও। পাশের দেশের community যদি কানাডিয়ান নেতাদের "ভাংরা" নাচাতে পারে , তাহলে আমাদের community কেনো "সুন্দরী কমলা " নাচাতে পারবে না। যোগ্যতা দিয়েই সেটা করতে হবে। আমরা আমাদের নেতাদের মন্ত্রী পর্যায়েও দেখতে চাই। আর সেটা ঋণ খেলাপী বা চতুর , সুবিধাবাদী নেতা দিয়ে হবে না।

যিনি  নিজের স্বার্থের বাহিরে এসে সকল বাঙ্গালীর পাশে থাকবে। ভোটের পরে এলিট সেজে বসবে না। আমরা চাই সেই রকমের  সত্যিকারের খাঁটি মানুষ, আমাদের এলিট নেতা চাইনা । আমরা কানাডিয়ানরা এইসব ফালতু emotion পাত্তা দেই না।

আমি অবশ্যই অভিনন্দন জানাই যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। প্রার্থীদের জন্য শুভ কামনা। এবং ভোটারদের জন্যও শুভেচ্ছা রইল, দয়া করে যুক্তি দিয়ে ভোট দিবেন আবেগ দিয়ে নয়- এই টুকুনই অনুরোধ রইল।

আমরা বাঙ্গালী community তে সেই নেতা চাই, যাকে ভোট দিলে  কলিজা বড় করে বলতে পারব " নিজের দেশের মাটি , দপ দপাইয়া হাটি!"

আবারো, বাংলাদেশ তোমাকে ভালবাসি। যতদূরেই যাই, তুমি আছো “হৃদয়ে মম”..


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান