আসন্ন সিটি নির্বাচন ও বাংলাদেশি কানাডীয়ান  প্রার্থী

Thu, Sep 6, 2018 9:17 AM

আসন্ন সিটি নির্বাচন ও বাংলাদেশি কানাডীয়ান  প্রার্থী

রেজাউল ইসলাম: ডলি বেগম এমপিপি হিসাবে জয়ী হয়ে আসার পর যেসব কানাডিয়ান-বাংলাদেশী কানাডার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে চান তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কানাডিয়ান- বাংলাদেশীদের জন্য স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট রাইডিং/ ওয়ার্ডটি । এখন কানাডিয়ান-বাংলাদেশীরা এই রাইডিং থেকে যে কোন পদে জয়ী হবার স্বপ্ন দেখছে বা আশা পোষণ করছে । আমি এটিকে পজেটিভ ভাবেই দেখতে চাই ।তবে ডলি বেগম জয়ী হয়ে আসার পেছনে অনেকগুলি ফ্যাক্টর কাজ করেছিল ।

১) ডলি বেগম বাংলাদেশী হলেও অনেক ছোট থেকেই এখানে বড়ো হয়েছেন, ফলে তিনি কানাডিয়ান মেইন স্ট্রিম কালচারের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পেরেছেন

২) তিনি অনেক কম বয়সেই নানা রকম ভলেন্টিয়ারিং কর্মকান্ড এবং কমিউনিটি ওয়ার্কের মাধ্যমে ক্রমশ পরিণত বয়সে এখানকার মূল স্রোতধারার রাজনীতির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন

৩) এখানকার মূলধারার রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে দলের সদস্য পদ থেকে ক্রমশ নিজ যোগ্যতায় উপরের সারিতে উঠে এসেছেন এবং শেষ পর্যন্ত কানাডার তিনটি মূল দলের একটি থেকে এমপিপি পদের জন্য নমিনেশন পেয়েছেন

৪) তিনি একক বাংলাদেশী- কানাডিয়ান এমপিপি প্রার্থী হওয়ায় উক্ত রাইডিংয়ে বাংলাদেশীদের অবিভক্ত ভোট তিনিই পেয়েছেন । অন্য বাংলাদেশী প্রার্থী না থাকায় বাংলাদেশীদের ভোট ভাগ হয়ে যায়নি

৫) তার ক্যাম্পেইন টিমওয়ার্ক ছিল খুবই সংঘঠিত, দক্ষ এবং শক্তিশালী । ক্যাম্পেইন টিম প্রতিটি জায়গায় কড়া নাড়তে সক্ষম হয়েছে । তারা বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যে একটি আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়েছে ।

৬) ডলি বেগম মূলধারার কালচার এবং মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তিনি শুধু বাংলাদেশীদের মধ্যেই জনপ্রিয় নন , অন্যান্য কমিউনিটির মধ্যেও জনপ্রিয় , ফলে তিনি অন্যান্য কমিউনিটির উল্লেখযোগ্য ভোটও পেয়েছেন ।

উপরের সব গুলি ফ্যাক্টর সম্মিলিত ভাবে ডলি বেগমের জয় লাভের কারণ হয়েছিল ।

স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট ওয়ার্ডে আমার জানা মতে পাঁচ জন কানাডিয়ান-বাংলাদেশী প্রার্থী কাউন্সিলর হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কাউন্সিলর নির্বাচন দল ভিত্তিক না হওয়ায় প্রার্থীর একক ইমেজের উপর ভিত্তি করেই নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দিতে হয় , ফলে প্রার্থীর যোগ্যতা , ওয়ার্ডে তার গ্রহণযোগ্যতা এবং ওয়ার্ডে তার অতীত কর্মকান্ড, কন্টিবিউশন ইত্যাদির উপর তার জয় নির্ভর করে । উপরে উল্লেখিত ফ্যাক্টরগুলির মধ্যে একমাত্র দলীয় বিষয়টি ছাড়া আর সব ফ্যাক্টর গুলি কাউন্সিলদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য । ফ্যাক্টরগুলিতে চেক মার্ক দিয়ে প্রার্থীরা নিজেরাই দেখে নিতে পারেন তিনি বা তারা কতটুকু যোগ্য ।

সাউথওয়েস্ট ওয়ার্ডে পাঁচজন বাংলাদেশী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বাংলাদেশী কমিউনিটি থেকে জোর দাবি উঠেছে একক প্রার্থী মনোনীত করার জন্য যাতে বাংলাদেশীদের অবিভক্ত ভোট একজন প্রার্থীর পক্ষে পড়ে , ভোটাররা নির্দ্বিধায় একজনকে বেছে নিতে পারেন ।একক প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে কমিউনিটির মধ্য থেকে কিছু পন্থার কথা আলোচিত হয়েছে যা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা বলা যায় , যেমন:

১) জরিপ বা সার্ভের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে যে প্রার্থী এগিয়ে থাকবেন তার পক্ষে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিবেন । একজন প্রার্থীর কাছ থেকে জানা যায় , সরকারীভাবে এই সার্ভে করতে গেলে খরচ হবে ৩০০০ ডলার আর প্রাইভেট কোম্পানীর মাধ্যমে করতে গেলে খরচ হবে ৪০০-৫০০ ডলার । তবে প্রাইভেট কোম্পানিগুলি খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয় । প্রার্থী ইচ্ছে করলে তার পক্ষে একটি মেনুপুলেটেড সার্ভে প্রাইভেট কোম্পানীর মাধ্যমে করিয়ে নিতে পারেন। তবে কমিউনিটির গন্যমান্য কয়েকজনকে নিয়ে নিরপেক্ষ একটি প্যানেলের তত্ত্বাবধানে জরিপ করিয়ে সেই জরিপের ভিত্তিতে একক প্রার্থী মনোনয়নের কাজটি চূড়ান্ত করা যেতে পারে।

২) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা । এই বিতর্ক প্রতিযোগিতা কমিউনিটির মধ্য থেকে বাছাইকৃত কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত প্যানেল পরিচালনা করবেন । এই প্যানেল বিতর্কে চূড়ান্ত ভাবে যে প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন অন্য সব প্রার্থী বিজয়ীর পক্ষে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিবেন । তবে এই পন্থাও কোন নির্ভরযোগ্য পন্থা নয়, কারণ অনেকেই বিতর্ক ভাল পারেন না কিন্তু কাজেকর্মে অত্যন্ত দক্ষ এবং বিচক্ষণ । ভালো বক্তা একমাত্র যোগ্যতা হতে পারে না , কারণ ভালো বক্তা কর্মক্ষেতে দক্ষ নাও হতে পারেন ।

উপরে উল্লেখিত পন্থাগুলির মধ্যে জরিপের মাধ্যমে প্রার্থীর অবস্থান জেনে নেয়ার পদ্ধতিটি খারাপ নয় । সেই ভিত্তিতে অগ্রগামী প্রার্থীর পক্ষে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সরে দাঁড়াবেন ।

আমি গত সোমবার কাউন্সিলর প্রার্থী হিশাম চিস্তির আমন্ত্রণে তাঁর বাসায় গিয়েছিলাম । সেখানে আরো বেশ কয়েকজন সম্মানিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন । স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট ওয়ার্ডে একক বাংলাদেশী প্রার্থিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সেখানে আবারো আলোচিত হয়েছে । যে বিষয়টি লক্ষণীয়,তা হচ্ছে , এই ওয়ার্ডে কোন প্রার্থী সরে দাঁড়াতে রাজি নন । হিশাম চিশতির অনেক গুলি ভালো দিকের মধ্যে আরেকটি ভালো দিক হলো, তিনি বৃহত্তর স্বার্থে ত্যাগ স্বীকার করতেও রাজি আছেন । তিনি বলেছেন,কোন একক প্রার্থীর ভালো সম্ভাবনা থাকলে তিনি তাঁর পক্ষে সরে দাঁড়াতেও রাজি আছেন যদি অন্যান্য প্রার্থীরা এতে রাজি থাকেন । তিনি এক্ষেত্রে প্রশ্ন রেখেছেন , আমি কমিউনিটির মঙ্গলের জন্য বৃহত্তর স্বার্থে সরে দাঁড়ালে অন্যরাও কি তা করবেন ? হিশাম বলেছেন তিনি নিজে একটি সার্ভে করে দেখবেন তাঁর অবস্থান কি । তিনি

যদি দেখেন অন্য কোন প্রার্থী তাঁর চেয়ে ভালো ব্যবধানে এগিয়ে আছেন তবে প্রয়োজনে তিনি সেই অগ্রগামী প্রার্থীর

পক্ষে সরে দাঁড়াবেন । আমি হিশামের এই ধরণের পজেটিভ এবং সৎ চিন্তাভাবনাকে স্বাগত জানাই । তাঁর এই চিন্তাধারা অন্য প্রার্থীদেরকেও অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করি ।

আমার এই লেখাটি কারো পক্ষেও নয়, বিপক্ষেও নয় । ভোটারদের মনোভাব, তারা স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট ওয়ার্ডে একক বাংলাদেশী প্রার্থীকে দেখতে চান, তারা চান কোন রকম বিভ্রান্তি ছাড়াই নির্দ্বিধায় একজন পার্থীকে তাদের ভোটটি দিতে।

আমার এই লেখা কাউকে মানতে হবে এমন কোন কথা নেই । আমি সবার ব্যক্তিগত মতামত , ইচ্ছা এবং আকাঙ্খাকে শ্রদ্ধা করি ।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান