একটি কাল্পনিক সত্যি কাহিনী

Mon, Sep 3, 2018 6:49 PM

একটি কাল্পনিক সত্যি কাহিনী

রিয়াজ মাহমুদ জুয়েল : বহুদিন মনে রাখার মতো একটি মঞ্চনাটক দেখলো টরন্টোর দর্শক। একটি কাল্পনিক সত্যি কাহিনী। যে কাহিনীটি অনেকটাই আয়না বা দর্পণ। যে কাহিনী দর্শকের সব অাবেগ,অনুভবের সাথে একীভূত হয়ে সবার প্রাণকে স্পর্শ করেছে। খুব সুন্দর একটি পান্ডুলিপি লিখেছেন বদরুল আনাম সৌদ। নাটকের প্রধান তিনটি চরিত্র। রেবেকা, অপর্ণা ও দেবদূত। অভিনয় করেছেন সুবর্ণা মুস্তাফা, চিত্রলেখা গুহ ও আহমেদ হোসেন। মনস্তাত্বিক টানাপোড়েনের মধ্যে দু’জন মানবীর জীবনের চাওয়া ও পাওয়ার হিসেব মিলিয়ে দেয় দেবদূত। যেন রেবেকা ও অপর্ণার জীবনটা এই শহরেরই মানব-মানবীদের মনোজগতের গল্প, দিন-রাত্রির সংসারের হাসি কান্নার গল্প। গল্পগুলোর বাঁকে বাঁকে রয়েছে উপস্থিত দর্শকদের নিজেদের জীবনের অমিল আর মিল। জীবন যাপনের মিল। কিন্তু জীবনের বোধ সম্পর্কে দারুণ অমিল। এমনিভাবেই মিল অমিলের অন্ত্যমিল আর জটিল জীবনের সরল ও স্বতস্ফূর্ত ব্যাখ্যায় দেবদূতের হাতের পুতুল হয়ে যায় দুজন নারী। মন মনন জীবন ও জীবনবোধের দার্শনিক ও নান্দনিক উপস্থাপনা ‘একটি কাল্পনিক সত্যি কাহিনী’।

 

প্রথমেই বলি একজন কিংবদন্তীর কথা। 

সুবর্ণা মুস্তাফা।  অভিনয় শিল্পের একজন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তি সুবর্ণা মুস্তাফাকে, শিল্পী সুবর্ণা মুস্তাফা থেকে একটুও পৃথক করা যায় না। প্রয়োজনও হয়না। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশের গন্ডী পেরিয়ে বিশ্বব্যপি ছড়িয়ে যাঁর অাভা। তিনি আসলেন কানাডার টরন্টোতে। কিছুমাত্র বাড়িয়ে বলবো না। শুধু বলবো, তিনি আসলেন এ শহরে, আমরা বর্তে গেলাম। মঞ্চে তাঁর অভিনয় দেখলাম অনেকগুলো বছর পর। আমাদের জীবন সার্থক হলো।

 

নিজ মুখেই বললেন কতগুলো বছর পরে মঞ্চে অভিনয় করলেন। প্রায় পঁচিশ বছর পরে প্রাণের কাছে ফিরে আসা। মঞ্চনাটকের পাদপ্রদীপের আলোয় সেই চেনা মুখ, সেই চেনা গতিবিধি, সেই চিরদিনের সুবর্ণকান্তিময় অবয়ব। সংলাপে, অভিব্যক্তিতে কি যে অসীম সৃষ্টিক্ষমতা তা প্রকাশ করার একক কোন ভাষা নেই। সুবর্ণা মুস্তাফা যদি প্রাণের কাছে চিরদিনের জন্য ফিরে আসেন তো সেই ফিরে আসা অপার্থিব আনন্দ নিয়ে আসবে এ কথা সত্যি। যদি নাও আসেন আর তবুও দু’হাজার আঠারোর পঁচিশে আগস্টের স্বর্ণালী সন্ধ্যাটিতে তাঁর মঞ্চপরিভ্রমণের স্মরণীয় ক্ষণটি স্মৃতিকথা হয়ে টরন্টোর দর্শক এবং তাদের মাধ্যমে অন্য শ্রোতৃমন্ডলীর কাছে ছড়িয়ে যাবে। নিজ মুখেই বললেন কতগুলো বছর পরে মঞ্চে অভিনয় করলেন। প্রায় পঁচিশ বছর পরে প্রাণের কাছে ফিরে আসা। মঞ্চনাটকের পাদপ্রদীপের আলোয় সেই চেনা মুখ, সেই চেনা গতিবিধি, সেই চিরদিনের সুবর্ণকান্তিময় অবয়ব। সংলাপে, অভিব্যক্তিতে কি যে অসীম সৃষ্টিক্ষমতা তা প্রকাশ করার একক কোন ভাষা নেই। সুবর্ণা মুস্তাফা যদি প্রাণের কাছে চিরদিনের জন্য ফিরে আসেন তো সেই ফিরে আসা অপার্থিব আনন্দ নিয়ে আসবে এ কথা সত্যি। যদি নাও আসেন আর তবুও দু’হাজার আঠারোর পঁচিশে আগস্টের স্বর্ণালী সন্ধ্যাটিতে তাঁর মঞ্চপরিভ্রমণের স্মরণীয় ক্ষণটি স্মৃতিকথা হয়ে টরন্টোর দর্শক এবং তাদের মাধ্যমে অন্য শ্রোতৃমন্ডলীর কাছে ছড়িয়ে যাবে।

 

চিত্রলেখা গুহ : টরন্টোর দর্শকদের সবার মন জয় করলেন। অসাধারণ অভিনয়শৈলীতে মুগ্ধ দর্শক শ্রোতা তন্ময় হয়ে রইলেন তাঁর গানে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের বিরতির পর তিনি মঞ্চনাটকে অভিনয় করলেন। সেই শেষ নাটকটির কথা মনে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটমন্ডলে ’সূচনা’ নাটকটিতে কি অভিনয়ই না করেছিলেন তিনি। দর্শক সারিতে ছিলেন আলী যাকের, সারা যাকের, উষা গাঙ্গুলির মত প্রথিতযশা নাট্যজনবৃন্দ। তাঁদের সবার মত দর্শকদের সবার একই অনুভূতি হয়েছিল তাঁর পারফরমেন্সে। স্বর্ণালী সন্ধ্যায় উপস্থিত দর্শকদের বাঁধভাঙা উচ্ছাস উপচে উঠেছিল ‘একটি কাল্পনিক সত্যি কাহিনী’পারফরমেন্সে।

 

আহমেদ হোসেন : টরন্টোয় বসবাস করছেন বেশ অনেকদিন। জীবন যেখানে যেমন তেমনি করে মাইগ্রেটেড মানুষগুলো এডাপ্টেড সব কিছুর সঙ্গে। সেই মানিয়ে নেয়া জগতের বাইরের দিকটা একরকম। আর ভেতরের দিকটা আরেকরকম। সেই আরেকরকমের দিক নিয়ে আহমেদ হোসেন টরন্টোতে থিয়েটার আর আবৃত্তির সঙ্গে বসত করে চলেছেন। ভালবাসার সবটুকু উজাড় করে আহমেদ হোসেন পাদপ্রদীপের আলোয় দেবদূত হলেন। টরন্টোর দর্শক, শুভানুধ্যায়ী সবার ভাললাগায় সিক্ত হলেন। কি দারুণ সিনসিয়ারিটি আর পরিশ্রমের উদাহরণ রেখেছেন তিনি চরিত্রটি নির্মাণ করতে সে আরেক গল্প। সে গল্প না হয় তুলে রাখি অনাগত দিনের অন্যকোন সান্ধ্যকালীন আড্ডার জন্য। শুধু এই টুকু বলি, মাত্র ছয়দিনের সীমাবদ্ধ সময়ের মধ্যে দিনরাত নিমগ্ন ব্রতচারী সাধকের মতো সাধনা করে কিংবদন্তী সুৃবর্ণা মুস্তাফা ও চিত্রলেখা গুহ’র সঙ্গে একটি সফল মঞ্চভ্রমণ করেছেন টরন্টোর অন্যথিয়েটারের সংগঠক ও নাট্যজন আহমেদ হোসেন। জয়তু।

 

নেপথ্যের কুশীলব :

বদরুল আনাম সৌদ : নাট্যকার ও নির্দেশক বদরুল আনাম সৌদ যে পান্ডুলিপিটি রচনা করেছেন সেটি সব দর্শকের হৃদয়কে স্পর্শ করেছে নি:সন্দেহে। সব দর্শক তাদের নিজেদেরকে খুঁজে নিয়েছেন, মিলিয়ে নিয়েছেন নাটকের গল্পের সঙ্গে। টানটান কৌতুহল ছিল পুরো নাট্যঘটনার বিস্তারে। যেটা নাটকটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। অসীম শুভকামনা প্রিয়জন বদরুল আনাম সৌদ।

শিল্প নির্দেশক উত্তম গুহ : শিল্প নির্দেশক উত্তম গুহ’র ইনোভেটিভ মঞ্চসজ্জাটি ছিল দৃষ্টিনন্দন ও সহজিয়া। অতুলনীয় দক্ষতায় অত্যন্ত সীমিত সময়ে ও সীমাবদ্ধতায় তিনি ও তার দু’জন শিল্প সহযোগি আমিন ভাই ও ফারুক দেওয়ান নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রেলসাইডের মঞ্চটির শৈল্পিক অবয়ব সৃজন করেছিলেন ও মঞ্চকে পারফর্মেন্স উপযোগি করে তুলেছিলেন। অভিবাদন শিল্পী উত্তম গুহ ও তাঁর টিমকে।

 

আলোর ডিজাইন ও প্রক্ষেপনে শিমু  এবং শব্দ প্রক্ষেপনে জুয়েল চেষ্টা করেছেন পুরো নাটকটিকে দর্শকের কাছে বাধাহীন নিরবচ্ছিন্ন গতিতে পৌঁছে দিতে।

টরন্টো ঢাকা কালচারাল নেটওয়ার্ক টিডিসিএন এর আয়োজনের অন্যতম সুন্দর একটি উপস্থাপনা ছিল নাটকটি।

 

প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিগুলো তুলেছেন বিদ্যুৎ সরকার


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান