অতঃপর মাধো" এবং "পানিবালা" নিয়ে ভারত,কোরিয়া যাচ্ছে  'মেঠোপথ থিয়েটার'

Thu, Aug 30, 2018 12:20 AM

অতঃপর মাধো" এবং "পানিবালা" নিয়ে ভারত,কোরিয়া যাচ্ছে  'মেঠোপথ থিয়েটার'

হোসাইন সুমন :বাংলাদেশের মফস্বলে বেড়ে ওঠা থিয়েটার প্রেমি শামীমা আক্তার মুক্তা। ১৯৯৭ সালের মুন্শীগঞ্জের অনিয়মিত সাহিত্য সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি হতে তাঁর নাটকের জীবন শুরু। "সেই অসমতটে এই জনপদে" পরিবেশ কেন্দ্রিক নাটক এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় পথ চলা।

থিয়েটারের অদম্য কর্মী এবং মেঠোপথ থিয়েটারের কর্ণধার শামীমা আক্তার মুক্তার জবানীতে তার নিজের নাট্যচর্চ্যা এবঙ মেঠোপথ থিয়েটার এর এগিয়ে যাওয়ার উপাখ্যান  তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য:

আশীষ খন্দকার ছিলেন আমার নাটকের গুরু। সে সময় মুসলিম পরিবারের  মেয়েদের থিয়েটার করা অনেক কষ্ট সাধ্য ব্যাপার বটে পারিবারিক ও সামাজিক অনেক বাঁধা পার হয়ে প্রতিনিয়ত এগুতে হয়েছে আমাকে। আত্মীয় স্বজন পরশীদের মনোভাব আমাকে প্রতিনিয়ত বাধাঁর সম্মুখীন করেছে।থিয়েটারে যেতাম বলে দাদা বাড়ীতে আত্মীয় স্বজনদের মুখে প্রায়ই অনেক নোংড়া কথা শুনতে হতো। তাই লুকিয়ে লুকিয়ে নাটক করতে যেতাম।

একদিন একটা গ্রামে একটা নাট্যোৎসবে গিয়েছিলাম দলের সাথে নাটক করতে। রাত হয়ে গিয়েছিলো ফিরতে সেদিন। বুঝতে পারছিলাম মার একটাও মাটিতে পরবে না আজকে! দলের বন্ধুরা সবাই আমাকে আমাদের দরজার সামনে দাড় করিয়ে দৌড়ে পালালো আর বলল খালাম্মা আমাদের দেখলে আমাদেরও লাঠি পেটা করবে। তার চেয়ে ভালো মারটা আজকে তুই একাই খা। আমরা পালাই বলে দৌড়ে পালালো। কী আর করা আমি দুই তিন বার নক করলাম কেউ দরজা খুললো না। তাঁর পর ভাঙ্গা একটা ঘর ছিল পাশে যেখানে খরকুটু রাখা হয়েছে সেখানে গিয়ে একটা ভাঙ্গা দরজার পরে ছিল সেটার উপর শুয়ে শুয়ে মশার কামড় খেয়েছি বাকিটা রাত। সকালে মা যখন আযানের সময় দরজা খুললো তখন আমি ঘরে ঢুকলাম। মা যেন ভূত দেখলো। সেদিন আর বকা খেতে হয় নি মা নিজেই ভয় পেয়েছিল।

 একবার  এরকম আরো অনেক ঘটনা রয়েছে থিয়েটারের। অনেক সাধনা করতে হয়েছে লুকিয়ে লুকিয়ে। জাগরন খেলাঘর ও থিয়েটার সার্কেল এর সাথে ও সম্পৃক্ত ছিলাম কিছুদিন।  ২০০৪ সালে চলে আসি ঢাকায়।  যোগ দেই সেন্টার ফর এশিয়ান থিয়েটারে। সেখানে "সোনাই বিবির পালা" নাটকে সোনাই চরিত্রটি করেছিলাম যা আমাকে অনেক শিখিয়েছে এবং এই নাটকের প্রিমিয়ার শো হয়েছিল তাইওয়ানে। তারপর দিল্লীর এন এস ডি তে, ব্যাঙ্গালোরে। ২০০৬ সালে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীতে যোগ দেই নাটক " হাফ আখড়াই" ও "রাজনৈতিক হত্যা" নাটকে অভিনয় করি। এই দুটো নাটকের কষ্টিউম ডিজাইন করতে হয়েছে আমাকে। এর মধ্যে শিল্পকলার নাটক গাজী কালু চম্পাবতীর পালা, খেত মজুর খৈমুদ্দিন, একশ বস্তা চাল ও জালিয়ান ওয়ালা বাগ এবং নট্যম রেপার্টরীর " দমের মাদার নাটকে অভিনয় করি। ২০১২ সালে নাট্যধারার নাটক  আয়না বিবির পালা, গররজী কবিরাজ, এবং অশ্বমেধ যজ্ঞ নাটক করেছি।

২০১৫ সালে আমি যখন সরকারী সংগীত কলেজে মিউজিক নিয়ে গ্রাজুয়েশন করছিলাম তখন একটি লোক গানের দল গঠন করলাম নাম দিলাম " মেঠোপথ গানের দল" ২০১৭ সালে মিউজিক অফ মাষ্টার্স করার সময় একটি নাটকের দল গঠন করলাম নাম দিলাম " মেঠোপথ থিয়েটার"। হ্যাঁ এটা আমার হাতে গড়া দল! ভালো লাগাটা বলে বোঝানো যাবে না। ২০১৭ সালের জুন মাসের ২ তারিখ অলক বসুর রচনা ও নির্দেশনায় " অতঃপর মাধো" নামের একটি নাটকের উদ্বোধনী দিয়ে শুরু হলো " মেঠোপথ থিয়েটার" এর পথ চলা।  এই নাটকে আমরা দুজন মেয়ে আমি আর আমার বান্ধবী শারমীন সঞ্জিতা খানম পিয়া ১২ টি চরিত্রে অভিনয় করি।

এই চরিত্রগুলোর বেশিরভাগ চরিত্র ছেলেদের এবং একটি কুকুরের চরিত্রও আমাকে করতে হয়েছে।  ১ ঘন্টা ৫ মিনিটের নাটকে আমরা দর্শকদের আমাদের সাথে রাখার চেষ্টা করি। ইতো মধ্যে আমরা এই নাটকের ১৭ টা শো করেছি এর মধ্যে কলকাতার আমন্ত্রণে ৩ টি শো হয়েছে। আগামী নভেম্বরের ১৮ তারিখ কলকায় এবং কোরিয়ার শিওলে Dou performing art festival-এ ১ ডিসেম্বর,  ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর জলপাইগুড়িতে আমরা আমন্ত্রণ পেয়েছি। এর মধ্যে আমি কলকাতার একটি দল " জার্নি থিয়েটাররের" সাথে একটা কন্ট্রাকটে সাইন করেছি। মেঠোপথ থিয়েটার (বাংলাদেশ) ও জার্নি থিয়েটার ( কলকাতা) দুটি দল মিলে একটি যৌথ প্রযোজনায় মঞ্চ নাটক করবো আমরা। এর মধ্যে কলকাতার এবং বাংলাদেশের শিল্পীরা মিলে মহড়া করেছি।  আগামী সেপ্টেম্বরে এই নাটকের প্রীমিয়ার শো করবো আমরা। নাটকের নাম " পানিবালা" লিখেছেন " বদরুজ্জাম আলমগীর" নির্দেশনায় আছেন কলকার মুকুন্দ চক্রবর্তী এবং আমি। আমি মনে করি সুস্থ মানুসিকতার জন্য শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি অত্যন্ত জরুরি। আমার ছোটবেলা থেকে একটাই লক্ষ্য ছিল থিয়েটারের পথ ধরে হাঁটবো সারা জীবন। এখনো হাঁটছি আমি এই পথে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হাটবো আশা করি। জয় হোক থিয়েটারের।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান