শহর কাঁপিয়েছে স্বর্ণালী সন্ধ্যা

Sun, Aug 26, 2018 4:42 PM

শহর কাঁপিয়েছে স্বর্ণালী সন্ধ্যা

 

নতুনদেশ ডটকম: তারকা শিল্পীরা যখন প্রবাসের শহরে এস পা রাখেন, তখন এমনিতেই শহর আন্দোলিত হয়। প্রিয়তর স্মৃতিকে ভেবে, প্রিয় সব তারকাদের সামনা সামনি দেখার রোমাঞ্চকর অনুভূতি থেকে, প্রিয় তারকাদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হবার স্বপ্নতাড়না থেকে হৃদস্পন্দন ওঠানামা করতে থাকে। অনুষ্ঠানের পর সেই স্পন্দন কখনো বাড়ে, কখনোবা হঠাত ধাক্কা খায়। ‘স্বর্ণালী সন্ধ্যা- দ্যা বিটস অব বাংলাদেশ’- আক্ষরিক ভাবেই শহরকে কাঁপিয়েছে, দর্শক শ্রোতাদের হৃদস্পন্দনকে নাড়া দিয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায়  বাংলাদেশ থেকে উড়ে এসে শহরের ১৯০, রেলসাইডের  টরন্টো প্যাভিলিয়ন মঞ্চে ফুটে ওঠেছিলো এক ঝাক তারকা। বাংলাদেশের প্রখ্যাত তারকা শিল্পীবৃন্দ সুবর্ণা মুস্তাফা, বাপ্পা মজুমদার, চিত্রলেখা গুহ, বদরুল আনাম সৌদ ও উত্তম গুহের সাথে টরন্টোর সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে আহমেদ হোসেন, রদিয়া, অপূর্ব, ময়ূখ যুক্ত হয়ে পুরো অনুষ্ঠানটিতে ভিন্নমাত্রা যোগ করেন।

নাটক, আবৃত্তি, আলাপন আর গানের ঢালিতে সাজানো স্বর্ণালী সন্ধ্যাটি সত্যি সত্যি যেনো স্বর্ণালী হয়ে ওঠেছিলো। সামগ্রিক অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন  সাবিনা বারী লাকি ও অজন্তা  চৌধুরী।

অনুষ্ঠান নিয়ে তাতক্ষণিকভাবেই সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে নিজেদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন দর্ক শ্রোতারা। তাদের মধ্যে শহরের অনেক সূধীজনও অনুষ্ঠানের ভূসী প্রশংসা করে ফেসবুকে পোষ্ট দিয়েছেন।

রেজাউল ইসলাম লিখেছেন, আজ সন্ধ্যাটা ভালোই কাটলো । নিঃসন্দেহে বলা যায় "স্বর্ণালী সন্ধ্যা" একটি মানসম্মত অনুষ্ঠান । আগেই বলেছিলাম , আমাদের প্রবাস জীবনে এই গুণী শিল্পীরা অনেক মূল্য রাখে ।

"একটি কাল্পনিক সত্যি ঘটনা " নাটকটি খুব ভালো লেগেছে। নাটকটিতে সুন্দর একটি আবেদন ছিল । জীবন্ত কিংবদন্তী (বাড়িয়ে বলছি না ) সুবর্ণা মুস্তফার অভিনয় সেই চিরাচরিত আগের মতোই সাবলীল । চিত্রলেখা গুহের মজার অভিনয় খুব প্রাণবন্ত ছিল । আমাদের কানাডার প্রখ্যাত শিল্পী আহমেদ হোসেনের অভিনয় ভালো লেগেছে । সবমিলিয়ে নাটকটি বেশ ! সুবর্ণা মুস্তফা উল্লেখ করেছেন,তিনি দীর্ঘ ২৫ বৎসর পর এই টরোন্টোতে মঞ্চে অভিনয় করার স্বাদ পেলেন ।

বাপ্পা মজুমদারকে নিয়ে বেশি কিছু বলার নাই । শুধুমাত্র বলবো , সুপার ডুপার! অসাধারণ ! তার অনেক গুলি প্রিয় গানের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় " তুমি আমার বায়ান্ন তাস " কাছ থেকে শোনার সৌভাগ্য হলো । তার কণ্ঠে সর্বশেষ গানটি ছিল প্রয়াত সঞ্জীব চৌধুরীর সেই চমৎকার গানটি " গাড়ী চলে না চলে না চলে না রে"।

দর্শক শ্রোতাদের একটি কোয়ালিটি অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার জন্য আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি ।

শবনম শায়লা তনুকা লিখেছেন, স্বর্ণালী সন্ধ্যা অনেক অনেক অভিবাদনের দাবিদার। সঠিক সময়ে অনুষ্ঠান শুরু, সঠিক সময়ে শেষ, কারিগড়ি সুস্থ ব্যবস্থপনা, শৃখলা, অপ্রয়োজনীয় বক্তৃতা বা মঞ্চ দীর্ঘ সময় ধরে স্পনসরদের দখলে (সুমন সায়ীদ নিজেও এই প্রোগ্রাম এর একজন স্পনসর ছিল) না রাখা, সর্বোপরি, শিল্পীদের অসাধারণ উপস্থাপনা। এগুলো নিয়ে অনেকেই লিখবেন এবং লেখা উচিত। কিন্তু আজ আমি উল্লেখ করবো শুধু একটি বিষয়কে। যে বিষয়টি আমাকে বহুদিন ধরে কষ্ট দিয়ে আসছিলো.

আমার অভিজ্ঞতা হয়েছে টরোন্টোর বেশ কিছু মঞ্চ ওভারসিস তারকারদের সাথে শেয়ার করার।

সেই অভিজ্ঞতা গুলো খুব সুখকর নয়. টরন্টোতে বসবাসরত শিল্পীদের শূন্য হলে উঠিয়ে শুধু সময় ক্ষেপন করা, ব্রেক এর পর দেশের শিল্পীদের উঠিয়ে আগে থেকেই এমন একটি নিয়ম প্রতিষ্ঠা করা যে ব্রেক এর আগে দর্শকরা হলেই ঢোকে না. খুব দৃষ্টি কটু লাগে যখন organizers দেশের শিল্পী এবং এখানকার শিল্পীদের মাঝে একটা দৃশ্যতো ডিসক্রিমিনেশন করেন যেকোনো ক্ষেত্রে।সব বলতে গেলে হয়তো দিন ফুরিয়ে যাবে।কিন্তু এই প্রথম স্বর্ণালী সন্ধ্যা গর্বভরে টরোন্টোর শিল্পী আর দেশে লিজেন্ডসদের এক করে মিলিয়ে দিলো।

মিলেমিশে সময় আর মঞ্চ শেয়ার করলো এপার আর ওপার। হাতে হাত ধরে সবাই এক হয়ে গেলো মঞ্চে।আর বড়ো মানুষ হতে যে বড়ো মন লাগে তার প্রমান বাপ্পাদার এই স্পিচ। মঞ্চে দাঁড়িয়ে টরোন্টোর শিল্পীদের প্রতি তার ভালোবাসা শুভকামনা জানিয়ে তিনি নিজেও যেন আরো অনেক বড়ো হয়ে গেলেন।

আমাদেরও গর্ব করার অনেক কিছু আছে, স্বর্ণালী সন্ধ্যা আজ তা উচ্চঃস্বরে জানিয়ে গেলো।

রিয়াজ মাহমুদ লিখেছেন: শেষ হলো স্বর্ণালী সন্ধ্যা The Beats of Bangladesh. আজ থেকে আট মাস আগের কোন এক সন্ধ্যায় স্বর্ণালী সন্ধ্যার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল। আর গতকাল সন্ধ্যায় সেটির সফল বাস্তবায়ন হলো। এই পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন অবধি যে অভিজ্ঞতা হলো তা খুব বিচিত্র। বিদেশে বাস করেন যে মানুষেরা তারা কেন যেন অার মানুষ থাকেন না। মহামানব হয়ে উঠেন। দেশকে ছেড়ে ভিনদেশে ভিন সংস্কৃতির সাথে যুদ্ধ করেন, এডজাস্ট করেন। তারপর এই করতে করতে ক্লান্ত শ্রান্ত যখন তখন স্বদেশ থেকে উড়িয়ে আনেন অভিনয় শিল্পী, সঙ্গীত শিল্পী। যাঁরা হাজার হাজার মাইল দূরে পৃথিবীর একপ্রান্তের সাথে অন্যপ্রান্তের সকাল সন্ধ্যার সেতুবন্ধনটি রচনা করেন। স্বদেশের সুবাসিত ঘ্রাণ ছড়িয়ে দেন পরতে পরতে। পারফরমেন্স দিয়ে ভুলিয়ে দেন মাইগ্রেটেট মানুষগুলোর নীরব বেদনা।

গতকাল সন্ধ্যায় সুবর্ণা মুস্তাফা, চিত্রলেখা গুহ, আহমেদ হোসেন, রদিয়া, নাওয়ার, ময়ূখ, অপূর্ব এবং বাপ্পা মজুমদার টরন্টো প্যাভিলিয়নের মঞ্চে গড়লেন সেরকম দুখ জাগানিয়া সুখ জাগানিয়া এক মেলবন্ধন। গান-গল্পে, কবিতা, অভিনয়ে যেমন করে সহস্র হৃদয়ের অসুখকে তীব্র আনন্দের সূঁই ফুটিয়ে সারিয়ে তুলল তা বহুকাল টরেন্টোর মানুষের মনে থাকবে।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান