চলমান ছাত্র আন্দোলনের শত্রু-মিত্র

Sat, Aug 4, 2018 1:34 PM

চলমান ছাত্র আন্দোলনের শত্রু-মিত্র

আশানুর রহমান খোকন: চলমান ছাত্র আন্দোলনটির অন্য যে কোন আন্দোলনের মতোই শত্রু-মিত্র আছে। একটি সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের শত্রু-মিত্র নির্ণয় করা যতটা সহজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে ওঠা অনেকটা অসংগঠিত আন্দোলনের শত্রু-মিত্র চিনতে পারা ততটা সহজ নয়।

এই আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততার কারণে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত এমনকি উচ্চবিত্ত শ্রেণী ও নানা পেশার মানুষ যেভাবে সমর্থন দিয়েছেন, ক্ষেত্র বিশেষে নানা মাত্রায় অংশ নিয়েছেন সেটা অভাবনীয়। তারা তাদের দৈনন্দিন জীবন-যাত্রার দূর্ভোগকেও সাময়িকভাবে মেনে নিয়েছিলেন। এই তাদেরই একটা অংশ ইতোমধ্যে অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছেন। আন্দোলন যত প্রলম্বিত হবে এই সংখ্যাটি বাড়তে থাকবে। সরকার সম্ভবতঃ এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন তাই ছাত্রদের দাবী-দাওয়াগুলো নিয়ে কার্যতঃ কোন আলোচনা বা ব্যবস্থা না দিয়ে তারাও সময়ক্ষেপনের পথ বেছে নিয়েছেন।

ফলে আন্দোলনের স্বরুপ বুঝতে ব্যর্থ, অসহিষ্ণু আমরা অনেকেই আন্দোলনের যতটুকু বিকৃতি (অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ভাষায়) তাকেই বৃহৎ করে তোলার চেষ্টায় নিজেরাও অংশ নিয়ে ফেলছি এবং সরকারের পাতানো ছঁকেই পা দিচ্ছি।

শুরু হয়েছিল কোমলমতি বাচ্ছাদের বহন করা প্লেকার্ডের ভাষা নিয়ে। এখন সেখানে যুক্ত হচ্ছে ফটোশপ করা প্লেকার্ড নিয়ে প্রচারণা। অনেকে বলছেন ছাত্ররা তোমরা একটা ঝাঁকি দিয়েছো, এখন ঘরে ফেরার পালা। অনেকে আন্দোলন প্রলম্বিত হওয়ায় এই আন্দোলন ব্যর্থ হবার ভয় পাচ্ছেন বা এই সুযোগ অন্য কেউ গ্রহণ করার আশাংকা প্রকাশ করছেন।

আপনি যখন ক্ষুব্ধ হন তখন আপনার মুখের ভাষাটা কেমন হয়? না, আমি ড্রয়িংরুমে বসে রেগে যাবার কথা বলছি না। রাস্তায়, বাইরে যখন কোন কারণে যখন রেগে যান, তখন? রাস্তায় যে শিশু ও তরুণ তাদের ক্ষুব্ধতা কেন বুঝতে চাচ্ছেন না? আমাদের অনেকেরই কাছে কিছু শব্দ পিড়াদায়ক মনে হতে পারে কিন্তু সেটা তো আন্দোলনের নগন্য বিকৃতি, সেভাবে কেন ভাবতে পারছেন না? পৃথিবীর এমন কোন গণ আন্দোলন, যুদ্ধ বা বিপ্লব দেখেছেন যেখানে এমন বিকৃতি ছিল না?

আমরা যারা ছাত্রদের ঘরে ফিরতে বলছি তারা ছাত্রদের মঙ্গলকামনা করেই বলছি। আমি জানি যারা এমনটা চাচ্ছেন তাদের চাওয়াটা সৎ। একই কথা আবার ভিন্ন সুরে বলছেন সরকারের মন্ত্রী ও সমর্থকরা। আমাদের এমন কথার সুর তাদের সুরে মিলে যাচ্ছে। যারা আন্দোলন করছেন তারা তো তাদের আন্দোলনের সাফল্য দেখতে চান। নাকি? সরকারের পক্ষ থেকে কোন দৃশ্যমান ও তাৎক্ষণিক কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কী? তাহলে তারা কেন ঘরে ফিরবে? ছাত্রদের নিয়ে আমরা যারা আশংকা প্রকাশ করছি, সেই আমাদের এখন দায়িত্ব তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো। আমরা অসহিষ্ণুরা সেটা হয়তো পারবো না। এই ব্যর্থতা কিন্তু আমাদের। প্রলম্বিত এই আন্দোলন যদি ব্যর্থও হয়, সে ব্যর্থতা ছাত্রদের নয়। আমাদের অনেকেই হয়তো ছাত্র সংগঠন করেছি, মিছিল করেছি কিন্তু সত্যিকারের আন্দোলন করার কোন অভিজ্ঞতা হয়তো আমাদের নেই, সেটা আমরা বরং মেনে নিই!

আন্দোলনের ফল অন্য কেউ আত্বসাৎ করতে পারে ভেবে অনেকে আমরা শংকিত হচ্ছি। একটা স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের ফসল ঘরে নিতে চাইতে পারেন অনেকেই। ডান-বাম কেউ বাদ যাবে না। সরকার নিজেও তার কোন কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নে এমন ফসল ঘরে তোলে নিকট অতীতেই সেটা দেখা গেছে। সেটা দিয়ে আন্দোলনের স্বরুপ নির্ণিত হয় না।

প্রলম্বিত আন্দোলন আমাদের রোমান্টিক সমর্থনের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ছে বিধায় আমাদের অসহিষ্ণুতা আন্দোলন বিরোধিতার পথ ধরেছে। এভাবেই কিন্তু আন্দোলনের সুবিধাবাদী ও দোদুল্যমান অংশের স্বরুপ উন্মোচিত হতে থাকে। আপনারা মানুষ কেউ খারাপ নন, আস্থাও রাখতে চাই। তাই আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ----

Please stand for student movement, don't sit on them and loll on them


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান