কিশোর আন্দোলনে অবজেক্টিভ কন্ডিশনটা কি ?

Thu, Aug 2, 2018 6:04 PM

কিশোর আন্দোলনে অবজেক্টিভ কন্ডিশনটা কি ?

ইমিতিয়াজ মাহমুদ: স্পার্ক। বাংলায় বলা যায় স্ফুলিঙ্গ। আপনার মোটর গাড়ী বা অন্য কোন এঞ্জিন চালু করতে হলে যেমন একটা ছোট স্পার্ক দরকার হয়, একটা বিশাল দাবানলও এইরকম সৃষ্টি হয় একটি ছোট স্পার্ক থেকেই। পৃথিবী ওলট পালট করে দেওয়া অনেক বড় বড় আন্দোলন বিপ্লবের সূচনাও হয়েছে এইরকম একটা ছোট স্পার্ক থেকে। কিন্তু ছোট স্পার্কই হোক আর বড় শিখাই হোক, কোন কিছুই কাজ করে না যদি অন্যান্য পরিস্থিতি অনুকূল না থাকে। আপনার মোটর গাড়ীতে যদি তেল না থাকে বা অন্যান্য অবস্থা ঠিকঠাক না থাকে তাইলে আপনি যতই স্পার্ক মারেন, এঞ্জিন চালু হবে না।

সামাজিক ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। সমাজের অন্যান্য অবস্থা যদি আলোড়নের জন্যে প্রস্তুত না থাকে বা জ্বলে ওঠার মতো অবজেক্টিভ কন্ডিশন বিরাজ না করে, তাইলে নানারকম স্পার্ক মারলেও আন্দোলন হবে না। একটু হেঁচকি মারবে, একটু হাস্যরস হবে হয়তো- কিন্তু আন্দোলন হবে না। দাবানলের মতো- আশেপাশে যদি একটু শুকনো পাতা না থাকে তাইলে স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল হয় না।

আরেকটা ব্যাপার আছে। দুর্যোগ মোকাবেলা ব্যাবস্থা। আমরা যেমন অফিসে আদালতে বাড়িঘরে ফ্যাক্টরিতে হোটেলে ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার রাখি, স্প্রিঙ্কলার রাখি, ফায়ার সেন্সর রাখি। এগুলি রাখলে কি হয়? ছোটখাটো কোন শিখা থেকে যদি কোন অগ্নিকাণ্ড ঘটার সম্ভাবনা থাকেও, স্প্রিঙ্কলার থেকে পানি ছড়িয়ে সেটা নিবিয়ে দেয়। বা নিতান্ত যদি আগুন জ্বলেও যায়, দ্রুত মোকাবেলা করে আগুণের উপর কার্বন ডাই অক্সাইড মেরে সেটাকে অঙ্কুরেই নিবিয়ে দেওয়া যায়। তারপরেও বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে, কিন্তু তার জন্যেও অনুকূল পরিবেশ পরিস্থিতি দরকার হয়।

এগুলি বলছি ঢাকায় চলমান কিশোর আন্দোলন প্রসঙ্গে।

 

(২) সমাজে বা রাষ্ট্রে এইরকম ছোট একটা স্পার্ক কতো বড় ঘটনার সূচনা করতে পারে তার উদাহরণ তো আপনারা অনেকগুলিই জানেন। কতদিন আগেও আমি আরেকটা পোস্টে মোহাম্মদ বুয়াজিজির কথা লিখেছিলাম। না, বুয়াজিজির কথা সম্ভবত আমি আগেও লিখেছি। কয়েক বছর আগে যে আরব বিশ্ব জুড়ে তোলপাড় হয়ে গেল, আরব বসন্ত নামে যেটাকে সারা দুনিয়া জানে, সেটার সূচনা হয়েছিল বুয়াজিজির নিজের গায়ে আগুন দিয়ে মৃত্যু বা self immolation থেকে।

তিউনিসিয়ার যুবক মোহাম্মদ বুয়াজিজি ছোট একটা শহরে রাস্তায় নানারকম জিনিসপথ ফেরি করে বিক্রি করতো। জীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল সে, ঠিকঠাক মতো কোন কাজ পায়নি, মিলিটারির জওয়ান হতে চেয়েছিল, চাকরী পায়নি, ভাইবোন পরিবার নিয়ে অভাবের সংসার। একদিন রাস্তার পাশে মোহাম্মদ যখন ওর ভ্যান নিয়ে জিনিসপত্র বিক্রি করছিল তখন পৌরসভার কর্মচারী ফাইদা হামদি, লাইসেন্স বা পারমিট এইসব ছিল না সম্ভবত, মোহাম্মদকে সবার সামনে থাপ্পড় মারে আর ওর মুখে থুথু মারে ওর ইলেক্ট্রনিক স্কেল আর মালপত্র জব্দ করে নিয়ে যায়।

রাগে দুঃখে অপমানে মোহাম্মদ বুয়াজিজি নিজের গায়ে আগুন দিয়ে প্রকাশ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। সাথে সাথে ওর মৃত্যু হয়নি, মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকদিন পরে হাসপাতালে। এইসবই হচ্ছে ২০১০এর ডিসেম্বর আর ২০১১এর জানুয়ারি এই সময়ের কথা। এই বুয়াজিজির মৃত্যুকে কেন্দ্র করেই প্রথম আন্দোলনটা শূর হয় তিউনিসিয়ায় আর তিনিশিয়া থেকে সেটা ছড়িয়ে পরে মিশরে ও অন্যান্য আরব দেশগুলিতে। মোহাম্মদ বুয়াজিজির আত্মহত্যা সেইটাই ছিল আরব বসন্ত নামে দুনিয়া কাঁপানো সেই অভ্যুত্থানের মুল স্ফুলিঙ্গ। কিন্তু এই স্ফুলিঙ্গ থেকে যে আগুন জ্বলেছিল সে আগুনে কিন্তু বুয়াজিজির ব্যক্তিগত অপমান বঞ্চনা ইত্যাদি তলিয়ে গিয়ে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা সেইসব ইস্যু বড় হয়ে সকলের সামনে এসে গিয়েছিল।

আমাদের এই কিশোর আন্দোলনে অবজেক্টিভ কন্ডিশনটা কি আর স্পার্কটা কি?

(৩) দেখেন, সড়ক দুর্ঘটনায় এর আগেও শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। স্পষ্টতই ড্রাইভার হেল্পার এদের গাফিলতিতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে এরকম ঘটনা এই ঢাকা শহরেই হয়েছে। এমন ঘটনাও ঘটেছে যেগুলিকে আপনি নিতান্ত দুর্ঘটনা বলতেই পারবেন না- বলতে হবে হত্যাকাণ্ড। এইসব ঘটনার প্রতিক্রিয়াও হয়েছে, কয়েকটা গাড়ী ভাংচুর, এক জায়গায় বা দুই জায়গায় মিটিং মিছিল খুব বেশী হলে একটা হরতাল। ব্যাস। কিন্তু এইবার মানুষের এরকম প্রতিক্রিয়া কেন হলো? স্পার্ক।

ঘটনাগুলি রিওয়াইন্ড করুণ। রেডিসন হোটেলের সামনে ছেলেমেয়ে দুটির মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর সেখানে ঘাতক গাড়ীটি ভাংচুর হয়েছে, অন্যান্য একটা কি দুইটা গাড়ীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এইগুলি ছিল স্বাভাবিক তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া। এর এক কি দুই ঘণ্টা পরে প্রেসের লোকেরা নৌ মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছে ঘটনা নিয়ে তার মন্তব্যে চেয়ে। তিনি সেখানে কুদরতি হাসিটা দিলেন, সাথে মারফতি এনালজি- মহারাষ্ট্রে এক দুর্ঘটনায় বত্রিশ জন্য মারা গেছে ইত্যাদি। এই যে নৌমন্ত্রীর কুদরতি হাসি- এইটাকেই আমি বলবো এই আন্দোলনের স্পার্কটা। এইটাই আন্দোলনটাকে ইগনাইট করেছে।

এইখানে আপনি বলতে পারেন যে নৌমন্ত্রী তো এইরকম মুখব্যাদান করা হাসি দিয়ে সেই বিখ্যাত গরুছাগল মন্তব্যটাও করেছিলেন। সেটাও আবার তারেক মাসুদ আর মিশুক মুনিরের মৃত্যু হয়েছিল যে দুর্ঘটনায় সেই দুর্ঘটনার পরপর। সেটা কেন স্পার্ক হলো না? সেটা কেন এইরকম কোন আন্দোলনকে ইগনাইট করতে পারলো না?

সেই মন্তব্যটাও একটা স্পার্ক ছিল। আপনাদের মনে থাকার কথা সেই মন্তব্যের পর সংবাদ পত্রে টেলিভিশনে ফেসবুকে আর সমাজের সর্বত্র তোলপাড় তুলেছিল। অনেক রঙ রসিকতা সমালোচনা কটাক্ষ শাহজাহান খানকে এখনো হজম করতে হয়ে সেই এক মন্তব্যের জন্যে। কিন্তু সেটা থেকে কোন আন্দোলন বিকশিত হয়নি তার কারণ ছিল সেসময় অবজেক্টিভ কন্ডিশনটা বিরাজমান ছিল না।

কিন্তু এইবার অবজেক্টিভ কন্ডিশনটাও বিরাজ করছে আর ঠিক সেই সময়ই স্পার্কটা এসে লেগেছে। সেই জন্যেই এই আন্দোলন।

 

(৪) অবজেক্টিভ কন্ডিশনটা কি? বা সহজ ভাষায় বললে, সমাজে এমন কি অবস্থা বিরাজ আজকে যে নৌমন্ত্রীর একটা ঝকঝকে হাসি স্ফুলিঙ্গ হয়ে সেখানে পড়লো আর সেটা দাউদাউ করে জ্বলে উঠলো?

অবজেক্টিভ কন্ডিশনটা হচ্ছে দেশের বর্তমান অবস্থা। নাকি বলবো দুরবস্থা!

দেশে কোন কিছুই ঠিকঠাক চলছে না। কোন কিছুই না। আপনারা উন্নয়ন করছেন, মহাকাশে রকেট মারছেন, প্রমত্তা পদ্মার বিস্তারকে আবৃত করে তার দুই পার্কে জুড়ে দেয়াড় জন্যে বিশাল সেতু তৈরি করছেন। ঢাকা শহরের হাওয়ায় উড়াবেন ট্রেন- এইরকম কতো কিছু! কিন্তু উন্নয়ন তো সরকারের একটা মাত্র কাজ। বড় কাজ, ঠিক আছে, কিন্তু অসংখ্য আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে এটাও একটা মাত্র কাজ। ঠিক আছে, উন্নয়নের জন্যে আপনারা দশে দশই পেলেন, না হয় আরও দুই বাড়িয়ে দিলাম, বারো পেলেন, বা পনেরই পেলেন। কিন্তু বাকি নব্বইতে কতো পেয়েছেন আপনারা?

দেশে কি কোনকিছু ঠিকমতো চলছে? না। ট্র্যাফিক যে ঠিকমতো চলছে না সে তো স্পষ্টই হয়ে গেছে। আইন শৃঙ্খলা? দুর্নীতি? বিনিয়োগ? বাণিজ্য? ব্যাংকিং? শিক্ষা? চিকিৎসা? আইন? বিচার? আপনিই বলেন। কোনটা ঠিক মতো চলছে? কোনটাই না। আমি ওকালতি করি। আমার বিশেষায়িত ক্ষেত্র হচ্ছে ব্যাবসা বাণিজ্য- বিশেষ করে বিদ্যুৎ জ্বালানি ইনফ্রাস্টাকচার কন্সট্রাকশন এইসব। এইসবের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত থাকে অর্থ, বাণিজ্য, কর ইত্যাদি। আর থাকে সরকারী নানাপ্রকার রেগুলেটরি কর্মকাণ্ড। পেশাগত কারণে কিছু জানি, আর দেশের খবরের কাগজ পড়া নাগরিক হিসাবেও জানি- দেশের কোনকিছুই ঠিক মতো চলছে না। তাইলে?

রাষ্ট্রের কোনকিছুই যখন ঠিকঠাক মতো চলে না তখন নাগরিকরা নানাভাবে ভুগতে থাকে, বঞ্চিত বোধ করে, প্রতারিত বোধ করে। তখন নাগরিকরা ওদের এই কষ্টের প্রতিকার চায়। প্রতিকার কিভাবে চায়? একটা পথ তো হচ্ছে প্রতিকারের জন্যে আদালতে দরোজায় করা নাড়া। আরেকটা হচ্ছে কথা বলা। মানুষ ওদের দুঃখের কথাটা বলতে চায়। চিৎকার করে বলতে চায় যেন অন্য সকলে ওর কথা শুনতে পায়। যেন কেউ না কেউ এগিয়ে আসে ওর পক্ষে দাঁড়ানোর জন্যে, ওর হয়ে ওর সমস্যার প্রতিকার করার জন্যে। আরেকটা কারণে কথা বলতে চায়, এই সমস্যার সমাধানের জন্যে দাবী তুলে ধরতে চায় সরকারের কাছে।

 

যখন রাষ্ট্রের কোনকিছুই ঠিকঠাক মতো না চলে, আর মানুষ তার বঞ্চনার কথা চিৎকার করে নিজের ভাষায় বলতে না পারে- তখন মানুষ ভেতর থেকে জ্বলে জ্বলে উত্তপ্ত হয়ে থাকে। ঐটাই হচ্ছে অবজেক্টিভ কন্ডিশন।

 

(৫) মানুষ যখন নানান কিছু নিয়ে ক্ষুব্ধ থাকে তখন একটা না একটা উছিলায় সেই ক্ষোভ লাভার মতো বেরিয়ে আসে। এইজন্যে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ আর নিবারণের জন্যে কিছু রাস্তা খোলা রাখতে হয়। মানুষের অবারিত বাক স্বাধীনতা, সভা সমাবেশ করার স্বাধীনতা এইগুলি এইজন্যেই নিশ্চিত করতে হয়। আর সেইসাথে পুলিশি নির্যাতন যাতে না হয় সেটাও নিশ্চিত করতে হয়। একজন ক্ষুব্ধ নাগরিক বা একদল ক্ষুব্ধ নাগরিক ক্রুদ্ধ কণ্ঠে সরকারের নিন্দা করতে করতে মিশিল করে যাবে আর সেটাতে যদি পুলিশ হামলা করে লোকজনকে মারধোর করে- তাইলে ওদের ক্ষোভের নিবারণ হবে? হবে না। ক্ষোভটা বেড়ে বেড়ে জমাট বাঁধতে থাকবে।

এইরকম একেকদল লোক একেকটা ইস্যুতে ক্ষুব্ধ হতে হতে যখন অনেক লোক সংক্ষুব্ধ হতে হতে বিশাল অগ্নিকান্ডের জন্যে ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।

 

শাহজাহান খানের হাসিটা যখন টেলিভিশনে দেখিয়েছে, সেটা যে কেবল দুইজন মৃত ছাত্রের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করেছে তা তো নয়। শাহজাহান খানের হাসিটা মানুষের পিত্তি জ্বালিয়ে দিয়েছে- এরা কি মনে করে নিজেদেরকে? এরা কি দেশের মালিক মনে করে নিজেদেরকে? আমরা কি মানুষ নই? এরপর পরেরদিন যখন ছাত্ররা ছোট আকারে মানব বন্ধন করতে নেমেছে, তখন সকলের চোখ ছিল ওদের প্রতি। পুলিশ যখন ওদেরকে হথিয়ে দেয়াড় চেষ্টা করেছে, স্ফুলিঙ্গটা ছড়িয়ে গেছে- পরে কি হয়েছে সেটা তো দেখছেনই।

 

এখন যেটা হয়েছে, ছাত্র ছাত্রীরা রাস্তায় আছে কিন্তু ওদের সাথে আছে সারা দেশ। ছেলেমেয়েদের টিচাররা আছে, বাবা মায়েরা আছে- সকলেই আছে। সকলেই হয়তো রাস্তায় ওদের সাথে নেই, কিন্তু সকলের নৈতিক সমর্থন ছেলেমেয়েদের সাথেই। এই সমর্থনটা শুধু যে সড়ক নিরাপত্তার দাবীর জন্যে সেটা মনে করলে ভুল করবেন।

দেয়ালের লেখা স্পষ্ট- পড়তে ভুল করবেন না। কিশোররা স্পষ্ট দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বুড়োরা দেখ, তোমাদের এই রাষ্ট্র যন্ত্র নষ্ট হয়েছে, বিকল হয়েছে, অকার্যকর হওয়ার পথে। আর বাকিরা আমরা বলছি যে, হ্যাঁ, তোমরা ঠিকই ধরেছ। এমনকি ক্লাস এইট নাইন বা টেনের একটা মেয়েও বুঝতে পারছে, দেশটা ঠিকমতো চলছে না। আমরা ওদের জন্যে কোন ভবিষ্যৎ তো দূরের কথা- সুন্দর বর্তমানও দেখাতে পারছি না।

দেয়ালের লেখা পড়তে যদি ভুল হয়- সে ভুলের মূল্য অনেক বেশী হয়ে যাবে।

 

(৬) টেলিভিশন দেখেন, ফেসবুক দেখেন, খবরের কাগজ দেখেন, ছেলেমেয়েদের জটলাগুলিতে উঁকি মেরে দেখেন, মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখেন। অনেকে নিজ নিজ এজেন্ডা নিয়ে এইসব জটলাতে ঢুকে যাবে, সে তো হবেই। কিন্তু ঐসব মতলববাজদের উপস্থিতির কারণে নাগরিকদের ক্ষোভটা ভ্রান্ত হয়ে যায়না।

নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া দেখেন। আমার স্ত্রী তাঁর এই দীর্ঘ ফেসবুক জীবনে সম্ভবত এই প্রথমবারের মতো একটা রাজনৈতিক পোস্ট দিয়েছেন- শাহজাহান খানের পদত্যাগ করে সরে যাওয়া উচিৎ। শিল্পী মেহের আফরোজ শাওনের পোস্ট দেখেন। একটা টেলিভিশন চ্যানেলে আজ সম্ভবত জয়া আহসানকে দেখলাম, ছাত্রদের সমর্থন করে সড়কে বসে আছেন। না, এরা একটা কথা বললেই যে সেটা ঠিক হয়ে যাবে সেই কথা বলছি না। কিন্তু এরা তিনজন এবং এদের মতো আরও অনেকে আছেন, যারা সাধারণত রাজনৈতিক ঘটনাবলীতে বা আন্দোলন ইত্যাদিতে চট করে পাবলিকলি কিছু বলেন না।

 

তিনজনকে দেখাচ্ছি কেবল উদাহরণ হিসাবে। আপনারা দেখেন, এইরকম তিরিশজন তিনশ জন বা তিন লক্ষ জন পাবেন। এরা যখন বিরক্ত হন, এরা হচ্ছেন নদীতে গেঁথে রাখা ফলকে জলের বিপদসীমা মাপার লাল দাগটার মতো। এইসব নাগরিকরা যখন বিরক্ত হচ্ছেন, তার মানে জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ব্যাবস্থা যদি এখনই নিতে না পারেন, এরপর কেবল দিন গণনার ব্যাপার, প্লাবন আসন্ন ।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান