রনী প্রেন্টিস রয়ের গান ও কিছু কথা

Sat, Jul 7, 2018 11:35 AM

রনী প্রেন্টিস রয়ের গান ও কিছু কথা

দেলওয়ার এলাহী : রনী প্রেন্টিস রয়ের গান আগেও শুনেছি। দেহত্যাগ করার পর মান্না দে স্মরণে, শুধুমাত্র মান্না দের গানের ডালি সাজিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন রনী প্রেন্টিস রয়, জনপ্রিয় কণ্ঠ শিল্পী ইলোরা আমিন ও ফারহানা পল্লব। সেদিন রনী প্রেন্টিস রয়ের গান শুনে খুব ভালো লেগেছিল। উত্তম সুচিত্রার কণ্ঠের দ্বৈত কয়েকটি গানও পরিবেশন করেছিলেন ইলোরা আমিন ও রনী রয়। 'শঙ্খবেলা' ছবির সেই অতি জনপ্রিয় -'কে প্রথম কাছে এসেছি/ কে প্রথম ভালোবেসেছি/ তুমি না আমি !' ইলোরা আমিন ও রনী প্রেন্টিস রয়ের দ্বৈতকণ্ঠে এই গানটি সবার প্রশংসা আদায় করেছিল। লতা মঙ্গেশকর ও মান্না দে ছাড়া অন্য আরো কেউ কেউ যে এই গানটি গাইতে পারবেন এই কল্পনাই আমি করিনি। কিন্তু ইলোরা আমিন ও রনী প্রেন্টিস রয় সেটা বাস্তবে প্রমাণ করে দিয়েছিলেন নিজেদের কণ্ঠে গানটি পরিবেশন করে। খুবই ভালো লেগেছিল এঁদের দুজনের গান শুনে। কিন্তু আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম রনী প্রেন্টিস রয়ের উচ্চারণ শুনে। স্পষ্ট উচ্চারণ, ভরাট কণ্ঠস্বর, সুনির্বাচিত শব্দ প্রয়োগে বাক্য বিন্যাসে কথা বলা। এই মানুষটি যদি আবার মুক্তিযোদ্ধা হোন! অতএব, রনী প্রেন্টিস রয়ের কণ্ঠে গান শোনার আয়োজন মানে এক অন্যরকম উদ্দীপনা। সেই আয়োজনটিই করেছিলেন টরন্টো ফিল্ম ফোরাম। শুধুমাত্র রনী প্রেন্টিস রয়ের কণ্ঠে গান শোনার জন্যই ফিল্ম ফোরাম এই আয়োজন করেননি; বরং, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি ফোরামের ছিল তাঁর কণ্ঠে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশন করার আবদার। এক্ষেত্রে টরন্টো ফিল্ম ফোরামের সর্ব সম্মতির অপেক্ষাকৃত উৎকৃষ্টতার প্রতি পক্ষপাত বা সিদ্ধান্তকে সপ্রশংস সাধুবাদ জানাতে হবে।

টরন্টো ফিল্ম ফোরাম আয়োজিত ৩ দিন ব্যাপী মাল্টিকালচারাল চলচ্চিত্র উৎসবের শেষ আয়োজন ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা রনী প্রেন্টিস রয়ের শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও রাগাশ্রয়ী গানের আয়োজন। বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন ভাষার সৃষ্টির উদ্দীপনায় ভরপুর, মেধা ও মননের বিন্যস্ততায় সেলুলয়েডে ফুটে উঠা দৃশ্যকাব্যের সমাহার পরে ফিল্ম ফোরাম আয়োজিত শেষ দিনের দর্শক শ্রোতাদের শাস্ত্রীয় সঙ্গীত হয়ে উঠেছিল পরম উপভোগ্য। রনী প্রেণ্টিস রয় শ্রোতাদর্শকদের ধরে রেখেছিলেন গভীর আকর্ষণে। সঙ্গীতের সপ্তসুরকে দেখা যায়না হয়তো; কিন্তু উপর্যুক্ত কণ্ঠের সুর ও ধ্বনির প্রক্ষেপণে শ্রোতার বোধের পর্দায় অদৃশ্য একটি মাধুর্যের ছবি তৈরি করে ঠিকই। সেই ছবিটি শ্রোতা ও শিল্পীর মাঝে সেতুবন্ধেরও কাজ করে প্রায়শই। রনী প্রেন্টিস রয় পরিবেশিত ঠুমরী, গজল শোনে তাই মনে হয়েছিল আমার। মূল রাগটি হয়তো ধরতে পারছিনা বা বুঝতে পারছিনা, কিন্তু একটি রাগের পূর্ণরসকে পরিবেশন করতে হলে, একটি রাগের সুরের সৌরভকে ছড়িয়ে দিতে হলে তাকে ব্যবচ্ছেদ করতে হয়, তার পাপড়ির পর্দাকে খুলে খুলে দিতে হয়; আবার তা প্রতিস্থাপন করতে হয়। রনী প্রেন্টিস রয় ফিল্ম ফোরাম আয়োজিত সন্ধ্যাটি ভরিয়ে দিয়েছিলেন সেরকম গানে গানে। ভালো পরিবেশনা হলে যে, শত শত দর্শকশ্রোতাকে অনড় ও বিমুগ্ধ বসিয়ে রাখা যায় এর আগেও আমি শিল্পী হৈমন্তী শুক্লা ও শিল্পী শুভমিতার গানের পরিবেশনা শুনে নিজে সাক্ষী হয়ে দেখেছি, তাঁদের গান শুনেছি। এবার রনী প্রেন্টিস রয়ের কণ্ঠে আবারও তার প্রমাণ পেলাম। অভিবাদন জানাই বীর মুক্তিযোদ্ধা রনী প্রেন্টিস রয়কে। শিল্পীকে সহযোগিতা করেছিলেন যথাক্রমে তবলায় শ্রী অশোক দত্ত ও হারমোনিয়ামে শ্রী সনাতন গোস্বামী।

এই শিল্পীত্রয়ের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও আয়োজক টরন্টো ফিল্ম ফোরামের সহযোদ্ধা-বন্ধুদের প্রতি আমার অভিনন্দন।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান