চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন: কিছু প্রশ্ন

Fri, Jun 29, 2018 4:00 PM

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন: কিছু প্রশ্ন

আজিমউদ্দিন আহমেদ: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। যথারীতি বাজেট অধিবেশন,বাজেট পাশ, বক্তৃতা, আলোচনা,প্রশ্ন, প্রস্তাব পাশের মধ্য দিয়ে অধিবেশন সমাপ্ত হয়। সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ায় উপাচার্য মহোদয়সহ সিনেটরগন খুবই সন্তুষ্ট। কিন্তু এ সিনেট নৈতিক ভাবে কতটা সিদ্ধ এটা বড় প্রশ্ন? অধিবেশনে কেন সিনেট উপাচার্য প্রস্তাব করতে পারেনা, রেজিষ্টার্ড  গ্র্যাজুয়েট নির্বাচন কেন হয় না, ছাত্র প্রতিনিধি নেই কেন? চাকসু নির্বাচন কেন হচ্ছে না এ সব প্রশ্ন , উত্তর , প্রস্তাব বা কোন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা যায়নি।

সিনেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংসদ, সর্বোচ্চ সংস্থা। যদি সে সিনেটই প্রশ্নবিদ্ধ থাকে বছরের পর বছর তাহলে গনতন্ত্র চর্চ্চা হবে কিভাবে। তাহলে ৭৩ সালের অধ্যাদেশ কি লঙ্ঘিত হচ্ছে না? ৩২ বছর পর্যন্ত রেজিস্ট্রার্ড গ্রেজুয়েট নির্বাচন হয় না। যারা ছিলেন তারা আছেন অনৈতিকভাবে, কখনো মামলা করে, কখনো দেন-দরবার, তেলওয়াতি করে? কি ভাবে তারা সিনেট অধিবেশনে বসেন বছরের পর বছর। তাদের কি নিজেদের নৈতিকতাবোধ ও নেই? এর মাধ্যমে কি লক্ষ লক্ষ গ্র্যাজুয়েটকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচছে না? বিশ্ববিদ্যালয়ও কি গ্র্যাজুয়েটদের নানা সহযোগীতা, সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে না? কাদের স্বার্থে ওনারা প্রতিনিধি?

চাকসু নির্বাচন নেই ২৮ বছর। কেন? কি যুক্তি? কোন যুক্তিও নেই নির্বাচনও নেই। শিক্ষার্থীরা কি বঞ্চিত হচ্ছে না? বিশ্ববিদ্যালয়,রাষ্ট্র, সমাজ? তাহলে সিনেট কেন নির্বাচনের উদ্যোগ নেয় না?

প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা চাকসু তহবিলে লক্ষ লক্ষ টাকা দিচ্ছে অথচ তাদের পরিষদ নেই। তাতে বিকলাংগ মানুষ তৈরী করছি। খেলা-ধূলা, সংস্কৃতি চর্চা, বিতর্ক, মেধা মনন , প্রতিযোগীতা করতে না পারলে পরিপূর্ন মানুষ হবে কি করে? যোগ্যতা প্রমান হবে কি করে? শ্রেষ্ঠত্ব কি ভাবে অর্জিত হবে।

জাতীও  কি বঞ্চিত নয়? ছাত্র সংসদ নির্বাচন না থাকলে ভালো, শিক্ষিত নেত্বৃত্ব পাবো কোথায়। ভাল নেতা না পেলে ভাল প্রশাসক, শাসক, সেবক, পাবো না। ভাল সমাজ, রাষ্ট্র পাবো না। তাতে দেশের ও মানুষের জীবন মান উন্নত হবে না। যে কারনে সন্ত্রাসী মাস্তান, অশিক্ষিত , অর্ধশিক্ষিত, খাই খাই লুটেরা অনেকেই আমাদের নেতা, সাংসদ।

সিনেটের মাধ্যমে উপার্য নিয়োগ হবে এটাই তো নিয়ম। কিন্তু সিনেট উপাচার্য নিয়োগের ক্ষমতা সরকারকে দিয়ে দিয়েছে। দিলে আইন করে দিয়ে দেন। এখন কলমের খোচায় উপাচার্য নিয়োগ হয়। এটা যে খুব অমর্যাদাকর তা বোধ করি উপাচার্য মহোদয়গন বুঝতে ও পারেন না। নইলে দেন দরবার করে , তেলওয়াতি করে , অনুগত হয়ে এমন পদ পেতে হবে। যে কারনে অনেক অযোগ্য মানুষ উপাচার্য হচ্চে। তাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নানা ভাবে নিছে নামিয়ে দিচ্ছে , অমর্যাদাকর পরিবেশ তৈরী করছে, ইমেজ নস্ট করছে। শিক্ষার মান, পরিবেশের মান নিন্মগামী করছে।

আমরা জানি না এ আর মল্লিক, আবুল ফজল, ফজলুল হালিমের মতো উপাচার্য এখন পাবো কিনা? কিন্তু তাই বলে কি মর্যাদাশালী উপাচার্য তৈরীর সিনেটীয় পদ্ধতিকেও নষ্ট করে দিব। যে সম্মান সংবিধান উপাচার্যদের দিয়েছে কেন তারা সেটাকে সমুন্নত না রেখে অমর্যাদাকর ভাবে উপাচার্য পদ গ্রহন করেন। আনিসুজ্জামান স্যার উপাচার্য নন, ছিলেনও না। তাতে উনার সন্মান কম? আসলে দরকার ব্যাক্তিত্ববোধ আর আত্মমর্যাদাবোধ।

তবে খুশীর বিষয় ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ কোথায়ও লঙ্ঘিত  হচ্ছে  কিনা বা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোন ব্যাত্যয় হচ্ছে কিনা তা দেখভালের দ্বায়িত্ব ইউজিসির উপর, সে সংস্থার প্রধান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান স্যার সে সভায় সিনেট সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি ৭৩ এর সংবিধান অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার বিষয়ে কোন সতর্ক বানী দিয়েছেন? অধ্যাদেশ লংঘন হলে কি ব্যবস্থা নিবেন সে বিষয়ে। আচ্ছা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে ৭৩ এর অধ্যাদেশকে লংঘন করেই চলছে তাতে মঞ্জুরি কমিশনের কি ভূমিকা? ৭৩ এর অধ্যাদেশ বঙ্গবন্ধুরই তৈরী সংবিধান। মোটামুটি গনতান্ত্রিক। তাও কেন মানছি না ? কোন অরাজকতা তৈরী করতে চাই শিক্ষা ক্ষেত্রে ? আমাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হউক। আমরা যেন মনে রাখি  - “ শিক্ষা জাতীর মেরূদন্ড”।

লেখক: আজিমউদ্দিন আহমেদ, সাধারন সম্পাদক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রছাত্রী সংসদ- চাকসু


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান