ছালামের উন্নয়নকাজই চট্টগ্রামে  আওয়ামী লীগের পুঁজি

Thu, Jun 7, 2018 2:20 AM

ছালামের উন্নয়নকাজই চট্টগ্রামে  আওয়ামী লীগের পুঁজি

নতুনদেশ ডটকম:চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের বাস্তবায়ন করা উন্নয়ন কাজের ফিরিস্তি নিয়েই চট্টগ্রাম মহানগরীর আওয়ামী লীগ ও মহাজোট প্রার্থীদের আগামী ভোটের মাঠে নামতে হবে।  

গত ১০ বছরে তিনি প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকায় চট্টগ্রাম শহরে ৩০টি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। বর্তমানে তার নেওয়া ১১টি মেগা প্রকল্প চলমান রয়েছে, যেগুলোর বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। ঢাকার আমাদের সময় পত্রিকা এ নিয়ে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান পদে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবদুচ ছালামকে বেছে নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছালাম দেশের স্বনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান ওয়েল গ্রুপেরও কর্ণধার।

প্রথমে দুই বছরের জন্য তাকে নিয়োগ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সেই মেয়াদ আরও পাঁচবার বাড়ানো হয়। ছালামও বিশ্বস্ততার সঙ্গে দলকে তার প্রতিদান দেন। আওয়ামী লীগের দুই মেয়াদে চট্টগ্রামে কী উন্নয়ন হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে সরকার ও আওয়ামী লীগ নেতারা যেসব প্রকল্প তুলে ধরেন তার সবগুলোই আবদুচ ছালামের হাত ধরে বাস্তবায়ন হয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম মহানগরের ছয় আসনে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থীরা ছালামের বাস্তবায়ন করা উন্নয়ন কাজ দেখিয়েই আগামী নির্বাচনী বৈতরণী পার পাওয়ার চেষ্টা করবেন।

২০০৮ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চট্টগ্রাম শহরের আবাসন ও বাসাবাড়ি নির্মাণের জন্য নকশা অনুমোদনের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবেই পরিচিত ছিল। এর পাশাপাশি নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কাজও সিডিএ’র। কিন্তু অতীতে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো দাপুটে মেয়রের কার্যক্রমের কারণে সিডিএ নামক প্রতিষ্ঠানটি ছিল অনেকটা কোণঠাসা। আবদুচ ছালাম দায়িত্ব নেওয়ার পর সিডিএকে সেই অবস্থান থেকে বের করে আনেন। গত এক দশকে চট্টগ্রাম শহরের প্রায় সব সড়কই তিনি এক লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করেছেন। চট্টগ্রামে ওড়াল সড়ক নির্মাণের প্রথম উদ্যোগও তিনিই নেন। এমনকি চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের কাজটি শুরুর ক্ষেত্রেও তার উদ্যোগই ছিল সবচেয়ে বেশি। এ সময়ে তিনি প্রায় ১০ হাজার বাড়িঘর, অফিস আদালত, মসজিদ-মন্দির, মাদ্রাসা, মক্তব ও কবরস্থানের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনা বিনা বাধায় উচ্ছেদ করতে সক্ষম হন।

সিডিএ সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত আবদুচ ছালাম ৩০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। এর মধ্যে ১৫টি সড়ক পুরোপুরি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করেছেন। সেগুলো হচ্ছে সাগরিকা সড়ক, ঢাকা ট্রাংক রোড, পাঠানটুলি রোড, সদরঘাট রোড, ফিরিঙ্গিবাজার রোড, আন্দরকিল্লা জংশন থেকে লালদীঘি পর্যন্ত সড়কের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, সিরাজদ্দৌলা সড়ক, বহদ্দারহাট থেকে গণি বেকারি পর্যন্ত সড়ক, অলি খাঁ মসজিদ থেকে অক্সিজেন পর্যন্ত সড়ক, বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক, ডিসি রোড, অক্সিজেন থেকে কুয়াইশ সড়ক ও বহদ্দারহাট থেকে কালুরঘাট সড়ক।

এ ছাড়া ১৬টি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করেছেন তিনি। এগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্যারেড ময়দান সংস্কার, বহদ্দারহাট জংশন ও দেওয়ানহাটে ওভারপাস নির্মাণ, অনন্যা আবাসিক প্রকল্প, কল্পলোক আবাসিক প্রকল্প, মেহেদীবাগ অফিসার্স কোয়ার্টার, বিপণি বিতান নতুন ভবন, সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিডিএ গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা ও ভবন নির্মাণ, ৪ হাজার নারী শ্রমিকের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন সল্টগোলা কর্মজীবী নারীদের জন্য দেশের প্রথম ডরমেটরি নির্মাণ, কাজীর দেউড়ি কাঁচাবাজার ও অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং অক্সিজেনে বঙ্গবন্ধু অ্যঅভিনিউ। এর বাইরে আরও ১১টির বেশি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে। এগুলো হলোÑ মুরাদপুর থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার ওড়াল সড়ক, পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সিটি আউটার রিং রোড, বায়েজিদ বোস্তামি থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণ, দেওয়ানহাট ফ্ল্যাট প্রকল্প, সল্টগোলায় শপিংমলসহ বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ, লালখানবাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প, অনন্যা উপশহর প্রকল্প ও বাকলিয়া এক্সেস সড়ক নির্মাণ। এর বাইরে চাক্তাই খালের মুখ থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত নতুন একটি প্রকল্প গ্রহণ করে নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ আরেকটি রিং রোড নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে। এ সড়কটি বাস্তবায়ন হলে কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে নতুন একটি শহর গড়ে উঠবে দ্রুত।

জানা যায়, আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছিরউদ্দীন নগরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয় সংসদ সদস্যকে পৃথক পৃথক চিঠি দেন। তাতে বর্তমান সরকারের আমলে তারা নিজ নিজ এলাকায় কী ধরনের উন্নয়ন কাজ করেছেন, তার একটি তালিকা দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সংসদ সদস্যই এ চিঠির জবাব দেননি।

এ প্রসঙ্গে আ জ ম নাছিরউদ্দীন আমাদের সময়কে বলেন, আমি বর্ধিতসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তাদের চিঠি দিই। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে, তারা চিঠির জবাব দেননি। অথচ আমাদের উদ্দেশ্য ছিল এসব উন্নয়ন কাজ দেখিয়ে আগামী নির্বাচনে তাদের পক্ষে নৌকা মার্কায় ভোট চাওয়া।

মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, মূলত শহর অঞ্চলের সংসদ সদস্যরা দেখাতে পারবেন এমন কোনো উন্নয়ন কাজ করেননি। ফলে কৌশলে ও নানা অজুহাতে তারা চিঠিটি এড়িয়ে গেছেন। শেষ পর্যন্ত তাদের নির্বাচনী সম্বল হচ্ছে সিডিএর বাস্তবায়ন করা উন্নয়ন কার্যক্রম যা গত ১০ বছরে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডেই সম্পন্ন হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সিডিএর চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম আমাদের সময়কে বলেন, ২০০৯ সালে প্রথম রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এ দায়িত্ব দেন। তখন চোখে ছিল স্বপ্ন। গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহযোগিতায় সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন করে চলেছি। তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব প্রকল্প চলমান রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম আগামী পাঁচ বছরে ৫০ বছর এগিয়ে যাবে।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান