রমজানের বড় শিক্ষা

Wed, May 23, 2018 10:56 PM

রমজানের বড় শিক্ষা

ফারুক আহমেদ: রমজান মুবারক। ইসলামের মূল ৫ টি স্তম্ভ হল (১) কালেমা (২) নামাজ (৩) রোজা (৪) হজ ও (৫) জাকাত এবং এই ৫টি স্তম্ভের মাঝে রমজান আমাদের জন্য একটি অত্যান্ত গুরুত্ব পূর্ণ স্তম্ভ । ইসলামের এই মূল স্তম্ভ গুলো যার মাঝে বিদ্যমান আছে সেই প্রাকটিস মুসলিম। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে এই স্তম্ভ গুলো প্রতিষ্ঠার পর, আমাদের দায়িত্ব তা আমাদের ছেলে মায়েদের তা শিক্ষা দেওয়া এবং তাদের জীবনেও তা প্রতিষ্টিত করা । রমজান মাস আমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি গুরুত্ব পূর্ণ মাস । এই মাসে আমাদের অনেক কিছু শিখার আছে, যা আমরা এক মাসে প্রাকটিস করার পর তা পরবর্তী ১১ মাস পালন করতে পারি ।

প্রতি বছরের মত এবারও শুরু হলো ১৪৩৯ হিজরী (২০১৮) সালের রোজা | রমজান রহমতের মাস। এই সেই মাস, যে মাসে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরান নাজিল করেন, যা সমস্ত মানব জাতির কল্যাণের জন্য সর্ব উত্তম গাইড-লাইন।

এই রমজান মাস আমাদের জীবনে প্রতিবারেই এসেছে এবং ভবিষতেও আসবে। কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো, রমজানের এই পবিত্র মাস থেকে আমরা এবং আমাদের সমাজ কি সত্যিকারের শিক্ষা নিতে পারছে কি ? আমরা যদি একটু চোঁখ খুলে চারি দিকে তাকাই, তাহলেই দেখতে পাই, আজ আমাদের সমাজের মানুষ অধঃপতনের কোন পর্যায়ে নেমে গেছে! আজ সবাই কেবল অর্থ আর ক্ষমতার লোভে অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার, হত্যা এমন কি আপন জনের অর্থ-সম্পদ ও আত্মসাৎ করছে! আমাদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ অধঃপতনের এতো নিচে চলে গেছে, যা ভাবতেও অবাক লাগে!

আজ কাকে বিশ্বাস করবেন? আপন ভাই, বন্ধু, আত্মীয়? আজ সমাজের প্রতিটি স্তরে চরম নৈতিক মূল্যবোধের অধঃপতন! অর্থের লোভে ব্যাঙ্ক এর হাজার হাজার কোটি টাকা লুট, শেয়ার বাজার লুট, গুম, খুন, হত্যা, আরও কত অপকর্ম আমরা দেখছি প্রতিদিন মিডিয়াতে। আজ মানুষের জীবন, মাল, সম্পদ ও সম্পর্কের নিরাপত্তা কোথায়? “এই সৰ কিছুর প্রধান কারণ হল, আজ মানুষের মাঝে সত্যি বলতে আল্লাহর ভয় নেই। প্রতিটি মানুষ তার সকল কর্মের জন্য আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে এবং প্রতিটি অপকর্মের জন্য আল্লাহর নিকট থেকে তাকে শাস্তি পেতে হবে, এই ভয় আজ মানুষের মাঝে নেই। তাই আজ সমাজে এতো অপকর্ম চলছে” !

রমজান রহমতের মাস, রোজাকে এই মাসে আল্লাহ আমাদের জন্য ফরজ করেছেন। এই সেই মাস যে মাসে আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য কোরান নাজিল করেন।

রোজা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন , এই “রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর (সূরা আলবাকারা - ১৮৫)।

রমজান মাস আল্লাহর পক্ষ থেকে বড়ই রহমতের মাস, এই মাস মানব জাতির জন্য আত্মসুদ্দীর মাস। রমজানের বড় শিক্ষা হল আল্লাহর ভয়ে ভালো মানুষ তৈরি হওয়া।

এই সম্পর্কে আল্লাহ বলেন " হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা (তাক্বওয়া) আল্লাহর ভয় অর্জন করতে পার (সূরা আলবাকারা – ১৮৩) ।

রমজানের মূল শিক্ষা হলো তাকওয়া (আল্লাহর ভয়) অর্জন করা । তাকওয়া কি? তাকওয়া একটি আরবি শব্দ যার শাব্দিক অর্থ হলো খারাপের বিরুদ্ধে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করা/আল্লাহ সম্পর্কে সচেতন হওয়া/আল্লাহর ভয়। “তাক্বওয়া হচ্ছে মানুষের আত্মার এমন একটি অভ্যন্তরীণ শক্তি যা মানুষকে আল্লাহর দিকে আকর্ষণ তৈরি করে"। তাকওয়ার বিস্তৃত অর্থ হলো, মানুষের আচরণকে পরিশুদ্দ ও বিকশিত করা, যাতে মানুষ যা কিছু করে তা আল্লাহ্রর সন্তুষ্টির জন্য করে, আল্লাহর এবাদতে মগ্ন থাকে, এবং এভাবে মানুষ নিজেকে পরিশুদ্দ করে তাক্বওয়া আল্লাহর প্রতি মানুষের ভালবাসার বিকাশ তৈরি করে । ফলে মানুষ যা কিছু করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করেছে।

"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তাকওয়া এখানে এবং তিনি তাঁর বুকের দিকে ইঙ্গিত করেন” (সহীহ মুসলিম - শরীফ) । "তাক্বওয়া ইসলামের সবচেয়ে গভীর চেতনা এবং শক্তি । এটি এমন একটি চেতনা / শক্তি যা মানুষ সমাজের একে অপরের সাথে সম্পর্কিত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য চ্যানেল তৈরির একটি বড় মাধ্যম” ।

সূরা আন -নাজম (আয়াত - ৩২) আল্লাহ আমাদের মনে করিয়ে দেন যে "নিজেদের কে খুব পবিত্র মনে করো না , কে তাকওয়া অবলম্বন করে তা তিনি (আল্লাহ ) ভাল ভাবেই জানেন”। যে ব্যক্তির তাক্বওয়া আছে, সে যা কিছু করবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করবে, এতে দুনিয়া এবং আখেরাতে তার এবং সমাজের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে ।

“আজ আমাদের সমাজে যত অপকর্ম হচ্ছে, তার মূল কারণ হল আজ মানুষের মাঝে কোন আল্লাহর ভয় নেই | মানুষের মাঝে যদি আল্লাহর ভয় থাকত এবং মানুষ যদি মনে করত, যে তার প্রতিটি কাজের জন্য তাকে আল্লাহর কাছে জবাব দিহি করতে হবে, এবং প্রতিটি খারাপ কাজের জন্য তাকে আল্লাহর কাছ থেকে শাস্তি পেতে হবে, তাহলে মানুষ খারাপ কাজ করতে পারত না”। যে মানুষ আল্লাহর ভয়ে কাজ করে সে কখনো খারাপ কাজ, অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার করতে পারে না । সে যাই কিছুই করবে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করবে ।

মাহে রমজান আমাদের সমাজের প্রতিটি মানুষের মাঝে আল্লাহর ভয় তৈরি করে নিজেদের আত্মশুদ্ধি করুক, আমরা যা কিছু করি তা যেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করি, আমাদের প্রতিটি মানুষের মাঝে আল্লাহর ভয় তৈরি হউক এবং সমাজের প্রতিটি খারাপ মানুষকে আল্লাহ ভালো মানুষ তৈরি করুক, এই কামনাই রইল।

হে আল্লাহ তুমি আমাদের গুনাহ মাফ করো । হে আল্লাহ তুমি আমাদের রোজাকে কবুল করো । হে আল্লাহ তুমি আমাদের সন্তান এবং পরিবার কে হেফাজত করো । হে আল্লাহ তুমি আমাদের আত্মীয -স্বজন, বন্ধু -বান্ধব ও আমার দেশকে হেফাজত কর ।আমিন ।

লেখক : কলামিস্ট চিলড্রেন এন্ড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান